Home / লাইফস্টাইল / রিজুমিতে যে ১০টি মিথ্যা তথ্য দেয়ার কারণে চাকরি পাবেন না আপনি!

রিজুমিতে যে ১০টি মিথ্যা তথ্য দেয়ার কারণে চাকরি পাবেন না আপনি!

চাকরিপ্রার্থীদের অনেকেই রিজুমিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন না। নিজেকে আরেকটু বেশি যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রমাণ করার জন্য বেশির ভাগ চাকরিপ্রার্থীই রিজুমিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান কিন্তু ঠিকই বুঝে যাচ্ছে আপনি কী কী মিথ্যা তথ্য আপনার রিজুমিতে সংযুক্ত করেছেন! আপনি হয়তো না বুঝেই দিয়ে ফেলেছেন তথ্যগুলো, কিন্তু এখন সেই ভুলেই মিলছে না একটি চাকরি।

২০১২ সালে অ্যাকু-স্ক্রিন, আইএনসি, এডিপি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান এ বিষয় নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালিয়েছে। তাদের গবেষণায় এমন কিছু মিথ্যা তথ্য পাওয়া যায় যে তথ্যগুলো বেশিরভাগ চাকরিপ্রার্থীই তাদের রিজুমিতে সংযুক্ত করে থাকে। এখান থেকে শুধু যে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান সচেতন হতে পারবে তা নয়, একজন চাকরিপ্রার্থীকেও সচেতন হতে হবে। কেননা, এ মিথ্যা তথ্যগুলো যদি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের হাতে ধরা পড়ে তবে তা একজন চাকরিপ্রার্থীর জন্য খুব বড় অযোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। এখন জানা যাক সেই মিথ্যা তথ্যগুলো কী কী।

১। অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত মিথ্যা

চাকরিপ্রার্থীরা ধারণা করে থাকেন এক বছরের চেয়ে কম অভিজ্ঞতা আসলে চাকরি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই তারা পূর্ববর্তী চাকরিতে যোগদানের তারিখকে কমিয়ে দেয়। নিজের অভিজ্ঞতাকে বেশি পরিপূর্ণ করার জন্য চাকরিপ্রার্থীরা এ ধরণের মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে থাকে। চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়টি নিয়ে সচেতন হতে হবে। চাকরিপ্রার্থীদের মনে রাখতে হবে যে, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান চাইলে খুব সহজে সত্য তথ্যটি বের করে ফেলতে পারে।

২। আগের অর্জন ও দক্ষতাগুলোকে বাড়িয়ে বাড়িয়ে লেখা

এ কাজটি চাকরিপ্রার্থীদের অনেকেই করে থাকে। শুধু কাগজের লিখা দেখেই কোন প্রতিষ্ঠান আপনার কথা বিশ্বাস করবে এটা ভাবা অনেক বড় বোকামি। আপনি যেসব দক্ষতা কিংবা অর্জনের কথা লিখেছেন এগুলো যদি প্রমাণ করতে না পারেন তবে তা আপনার জন্য অনেক বেশি লজ্জাজনক হবে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের উচিত এগুলো আগে থেকে যাচাই করে নেওয়া। শুধুমাত্র রিজুমির লিখার উপর নির্ভর করে কোন প্রতিষ্ঠান যদি কর্মী নিয়োগ দেন তবে পরবর্তীতে তা বিপদ ডেকে আনতে পারে।

৩। নিজেকে খুব দায়িত্ববান হিসেবে উপস্থাপন করা

চাকরিপ্রার্থীরা নিজেকে খুবই দায়িত্ববান হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন। একজন চাকরিপ্রার্থী কতটুকু দায়িত্ববান তা জানা খুবই সহজ। একজন প্রার্থী পূর্বে যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন ওখানকার হিউম্যান রিসোর্চ ম্যানেজারের কাছে খোঁজ নিলেই ঐ প্রার্থী দায়িত্বজ্ঞান সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। সুতরাং, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের উচিত হবে ঠিকমত যাচাই করে কর্মী নিয়োগ দেওয়া। চাকরিপ্রার্থীদেরও উচিত হবে নিজেকে খুব বেশি দায়িত্ববান হিসেবে উপস্থাপন না করা।

৪। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডিগ্রী বাড়িয়ে লেখা

নকল সার্টিফিকেট বানিয়ে আজকাল কিছুসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী প্রতিষ্ঠানকে প্রতারিত করে যাচ্ছে। এটা খুবই বিশ্রী একটা কাজ। এ ধরণের চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানকে খুবই শক্ত অবস্থান নিতে হবে। যদি এরকম কোন প্রার্থীকে পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে অবশ্যই এ প্রার্থীকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করতে হবে পাশাপাশি আইনের আশ্রয় নিতে হবে। চাকরিপ্রার্থিদের উচিত এ ধরণের কাজগুলো থেকে অবশ্যই নিজেকে বিরত রাখা।

৫। চাকরির বিরতিগুলোকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা

অনেক চাকরিপ্রার্থী নিজের কর্মবিরতিকে ঠিকভাবে প্রকাশ করেন না। তারা ভুয়া অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেটের মাধ্যমে নিজের কর্মবিরতিকে ঢাকার চেষ্টা করে থাকেন। এটা খুবই অনুচিত কাজ। চাকরিপ্রার্থী হিসেবে আপনার উচিত হবে নিজের দুর্বলতাগুলোকে সততার সাথে তুলে ধরা। চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের উচিত হবে চাকরিপ্রার্থীদের সব বিষয়ে ঠিকমত যাচাই বাছাই করে কর্মী নিয়োগ দেওয়া।

৬। আগের চাকরির কথা উল্লেখ না করা

এখানে টেকনিক্যালি চিন্তা করলে কোন প্রার্থী মিথ্যা বলছেন না। হয়তো আপনি কোন কারণে আপনার পূর্বের চাকরির কথা উল্লেখ করতে চাচ্ছেন না। হয়তো আপনাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। হয়তো আগের চাকরিতে আপনি এমন কিছু করেছেন যা আপনাকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে। তারপরও একজন চাকরিপ্রার্থীর উচিত হবে সর্বোচ্চ সততা বজায় রাখা।

৭। ভুয়া কাগজপত্র

একটা কথা মনে রাখবেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যা বলা হচ্ছে আপনার ক্যারিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। কখনোই এ ধরণের ভুলগুলো করা যাবে না। যদি একবার ভুয়া কাগজপত্রের জন্য ধরা পড়েন তবে সারাজীবন আপনাকে তার মাশুল দিতে হবে। চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানকেও এসব বিষয়ে খুবই সচেতন হতে হবে।

৮। আগের চাকরি ছাড়ার মিথ্যা কারণ উপস্থাপন করা

বেশির ভাগ চাকরিপ্রার্থী আগের চাকরি ছেড়ে সঠিক কারণটি বলেন না। চাকরিপ্রার্থীরা চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে থাকে। এক্ষেত্রে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের উচিত হবে ঠিকমত অনুসন্ধান করে চাকরিপ্রার্থীদেরকে নিয়োগ দেওয়া। চাকরিপ্রার্থীদেরও উচিত হবে এ ধরণের মিথ্যা কারণ না দেখানো।

৯। ভুয়া রেফারেন্স ব্যবহার করা

অনেকেই আজকাল ভুয়া রেফারেন্স ব্যবহার করে থাকেন। এক্ষেত্রে একজন চাকরিপ্রার্থীর বিপদে পড়ার সম্ভাবনা খুবই প্রকট। এক্ষেত্রে আপনার ও আপনি যার রেফারেন্স দিচ্ছেন উভয়েরই বিপদে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং, চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিদাতা উভয়েরই উচিত হবে এক্ষেত্রে সচেতন হওয়া।

১০। মিথ্যা পুলিশ রিপোর্ট

পুলিশের লোকজন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পক্ষপাতমূলক আচরণ করে থাকে। তারা লোকজনকে তাদের স্বীকৃতি দিতে চায় না। এ কারণে অনেক সময় লোকজনও ভেরিফিক্যাশনের জন্য পুলিশের কাছে যেতে অনাগ্রহ বোধ করেন। অন্যদিকে অনেকের পুলিশী ঝামেলা থাকার কারণে তারা ভুয়া পুলিশ রিপোর্ট উপস্থাপন করে থাকেন। এক্ষেত্রে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রার্থী উভয়েরই সচেতন থাকতে হবে।

অবশেষে সবার জন্য একটাই কথা, সততা সত্যই সর্বোৎকৃষ্ট উপায়।

ইউএসনিউজ থেকে অনূদিত

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ