Home / আইন / জেলখানাগুলোতে সর্বকালীন সর্বাধিক ৮০ হাজার বন্দি

জেলখানাগুলোতে সর্বকালীন সর্বাধিক ৮০ হাজার বন্দি

সারাদেশে বন্দির সংখ্যা এখন প্রায় ৮০ হাজার। এই সংখ্যা সর্বকালীন রেকর্ড। এদের মধ্যে রাজনৈতিক বন্দি ও আটকের সংখ্যা ৯ হাজার। ঢাকাসহ ১৩টি কেন্দ্রীয় কারাগার ও ৫৫টি জেলা কারাগারে এদের রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে গত দুই মাসে আটক ও গ্রেপ্তার করা রাজনৈতিক বন্দির সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিরোধী দল টানা হরতাল, অবরোধে নাশকতা, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ব্যাপকহারে গ্রেপ্তার অভিযানে নেমেছে। ৬ মাস আগেও জেলখানাগুলোতে আটক বন্দির সংখ্যা ছিল ৭১ হাজারের কিছু বেশি। রাজপথে বিরোধী দলের আন্দোলন বেড়ে যাওয়ায় গ্রেপ্তার, নির্যাতনমূলক আচরণও বাড়ানো হয়েছে। রাজপথে বিরোধী দলের কর্মসূচির সমর্থনে মিছিল, পিকেটিং করতে গেলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তীব্র বাধার মুখে পড়ছেন কর্মীরা। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে, গ্রেপ্তার করছে। বাড়ি বাড়ি হানা দিয়ে পুলিশ, র‌্যাব গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করছে। র‌্যাব ও থানা পুলিশের কাছে থানা, ইউনিয়ন ভিত্তিক তালিকা রয়েছে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ওপরই তারা বেশি জোর দিচ্ছে। সাতক্ষীরা, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, নীলফামারী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ জামায়াত-শিবিরের প্রভাব ও শক্তিশালী সাংগঠনিক অবস্থান রয়েছে এমন ১৯টি জেলায় র‌্যাব-পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের জোরালো অভিযানে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জামায়াত-শিবির। বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীরা ঢাকা শহরে নিষ্ক্রিয় হলেও ঢাকার বাইরে তা নয়। বিভিন্ন স্থানে তারা অবরোধের সমর্থনে পুলিশের বাধার মুখেও মিছিল করছে। তবে জামায়াত-শিবিরের মতো জঙ্গিভাব নিয়ে তারা সক্রিয় নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, ককটেল, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে মানুষের প্রাণহানি, রেলে নাশকতার ঘটনাগুলোর সঙ্গে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জামায়াত-শিবির জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ তারা পেয়েছেন। যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের পর তারা স্থান ত্যাগ করেছে। প্রতিটি জেলার পুলিশকে পারস্পরিক ঘনিষ্ট যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে বলা হয়েছে। এদিকে জেলখানাগুলো বন্দিতে ঠাঁসা হয়ে যাওয়ায় তাদের রাখা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করতে জেল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। জেল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ১০ কোটি টাকা চেয়েছে। তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন, আর কোন বন্দিকে স্থান দেয়ার মতো জায়াগা নেই। গত দেড় দুই মাস ধরে বিরোধী দলের আন্দোলনের তীব্রতা যেমন বেড়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও বেড়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সুনামগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর, ফেনী, কিশোরগঞ্জ, পিরোজপুর, সিলেট, খুলনায় নির্মাণাধীন জেলখানাগুলোর নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে। ঝালকাঠি, দিনাজপুর, পটুয়াখালী, বরিশাল ও বরগুনা জেলখানা সমপ্রসারণে হাত দেয়া হয়েছে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ