Home / আইন / সরকার নির্দেশ দিলেই কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সরকার নির্দেশ দিলেই কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সুপ্রীমকোর্ট থেকে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার আইনজীবীরা রিভিউ আবেদন ও কারাবিধির কথা বলে এলেও এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, এখন সরকার নির্দেশ দিলেই মৃত্যুদ-ের রায় কার্যকর করা যাবে। এই যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যু পরোয়ানা জারির পর তার আইনজীবী ও পরিবারের বক্তব্যের মধ্যে আইনী ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করেন এ্যাটর্নি জেনারেল।
অন্যদিকে, কাদের মোল্লাকে ফাঁসির দ- দিয়ে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের রায় নিয়ে ট্রাইব্যুনালের জারি করা মৃত্যু পরোয়ানাকে বেআইনী বলে দাবি করেছেন কাদের মোল্লার আইনজীবী বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন।
এর জবাবে এ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কাদের মোল্লার দ-াদেশ কার্যকরের ব্যাপারে আমি প্রথম থেকে বলে আসছি, কোন রিভিউ চলবে না। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কারাবিধি এখানে প্রযোজ্য হবে না। এ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যেহেতু সংবিধানের ৪৭ক (২) অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে না এবং বিশেষ আইনে বিচার হয়েছে, সেজন্য কারাবিধি প্রযোজ্য হবে না।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রবিবার মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে পাঠানোর পর জামায়াত নেতার প্রধান আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রায় পর্যালোচনার (রিভিউ) আবেদনের সুযোগ পাওয়া কাদের মোল্লার সাংবিধানিক অধিকার। তাঁরা সেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে সংবিধান উদ্ধৃত করে প্রসিকিউটররা বলে আসছেন, গণহত্যাজনিত অপরাধে দ-িতদের মৌলিক মানবাধিকার পাওয়ার সুযোগ নেই। অর্থাৎ সংবিধানে বর্ণিত সব ধরনের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়।
একাত্তরে খুন-ধর্ষণের দায়ে কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। এর বিরুদ্ধে আপীল হলে চূড়ান্ত রায়ে আপীল বিভাগ মৃত্যুদ-ের রায় দেয়। গত বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের তিন দিনের মাথায় পরোয়ানা জারি করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপীল বিভাগের রায়টি জেল কর্তৃপক্ষকে অবগত করানো হয়েছে। সরকার এখন জেল কর্তৃপক্ষকে এই দ-াদেশ কার্যকর করার জন্য নির্দেশ প্রদান করবেন এবং তখনি এটা কার্যকর হবে। তিনি বলেন, আমি মনে করি, কাদের মোল্লার রায় যে কোনদিন বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
মাহবুবে আলম বলেন, যে কোন দ-প্রাপ্ত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করতে পারেন। তিনি যদি করেন, ভাল কথা, সেটা রাষ্ট্রপতির কাছে দেয়া যাবে। রায়ের অনুলিপি যখন গেছে, তখন নিশ্চয়ই তাকে জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। উনি তো কালকেই (রবিবার) করতে (ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন) পারতেন। তিনি কবে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করবেন, তার জন্য তো আমাদের রাষ্ট্র বসে থাকবে না।
মাহবুবে আলম বলেন, ট্রাইব্যুনাল একটি রায় দিয়েছেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপীল করেছিল, আমরাও আপীল করেছিলাম এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ একটি রায় দিয়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে কোন কথা বলা কোনমতেই সমীচীন নয়।
তিনি বলেন, কোনদিনই সর্বোচ্চ আদালত থেকে মৃত্যু পরোয়ানা যায় না। অর্ডারটা (দ-াদেশ কার্যকরের) যাবে সরকারের তরফ থেকে। ট্রাইব্যুনালের রায়টি বাতিল করে আপীল বিভাগ মৃত্যুদ- দিয়েছে। সেই কথাটিই জেল কর্তৃপক্ষ ও সরকারকে জানানো ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজন মনে করেছে। তাঁরা সেটাই জানিয়েছেন।
খন্দকার মাহবুব হোসেন যা বললেন ॥ সোমবার সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি অডিটরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মাহবুব বলেন, কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদ- দিয়েছে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। আইন অনুযায়ী আপীল বিভাগকে মৃত্যুপরোয়ানা পাঠাতে হবে। এ পরোয়ানার ভিত্তিতে কোন ব্যবস্থা নিলে জেল কর্তৃপক্ষকে দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে। আমরা এ বেআইনী মৃত্যুপরোয়ানার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।
তিনি বলেন, কারও জীবন নিতে হলে আইন মোতাবেক নিতে হবে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য আমরা একটি লিগ্যাল নোটিস দিয়েছি। জেল কোডের ৯৭৯ বিধিতে রয়েছে, যে আদালত মৃত্যুদ- প্রদান করবে সে আদালতের অফিসার মৃত্যু পরোয়ানা পাঠাবে। এখানে সুপ্রীমকোর্ট মৃত্যুদ- দিলেও পরোয়ানা পাঠিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
খন্দকার মাহবুব আরও বলেন, আমরা যখন সার্টিফায়েড কপি পাব তখনি রিভিউ আবেদন করব। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, ট্রাইব্যুনালে আসামি পক্ষের অন্যতম আইনজীবী এ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম প্রমুখ।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ