Home / ইসলাম / নাস্তিকদের মৃত্যুদণ্ড দেয় ১৩ মুসলিম দেশ

নাস্তিকদের মৃত্যুদণ্ড দেয় ১৩ মুসলিম দেশ

বর্তমান বিশ্বে তেরটি দেশে নাস্তিক বা রাষ্ট্র ধর্ম ইসলামের বিরোধিতাকারীদের মৃদ্যুদণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে। এমনকি পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশেও নানা প্রতিবন্ধকতার মোকাবেলা করে থাকেন নাস্তিক বা ধর্মে অবিশ্বাসী মানুষেরা।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিস্ট এন্ড এথিক্যাল ইউনিয়নের (আইএইচইইউ) করা ‘মুক্তচিন্তা প্রতিবেদন-২০১৩’ নামের এক বিস্তারিত গবেষণা প্রতিবেদনে এসব কথা জানানো হয।আইএইচইইউ সংগঠনটি বিশ্বব্যাপী নাস্তিক, সংশয়বাদী ও ধর্মীয় বিষয়ে সন্দেহবাদীদের ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে কাজ করে থাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসলিম দেশগুলো ছাড়াও পশ্চিমের সবচেয়ে গণতান্ত্রিক দেশগুলোর কয়েকটির সরকারও ঈশ্বরে অবিশ্বাসী নাগরিকদেরকে তাদের অন্য ধর্মে বিশ্বাসী নাগরিকদের চেয়ে নিচু বলে বিবেচনা করে থাকে। কখনো কখনো ধর্মীয় অবমাননা বা ব্লাসফেমির অভিযোগ এনে তাদের কারাগারেও নিক্ষেপ করা হয়।

এ সম্পর্কে আইএইচইইউ’র সভাপতি সোনঝা এগগেরিক্স বলেছেন, ‘সব নাগরিকদের সমান বলে বিবেচনা করা হবে বলে জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রে সই করার পরও বেশিরভাগ দেশই নাস্তিক বা মুক্তচিন্তাকারীদের প্রতি সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে প্রতিবেদনটি দেখিয়ে দিয়েছে।’

আইএইচইইউ’র গবেষণায় জাতিসংঘের ১৯২টি সদস্য দেশের সবগুলোর পরিস্থিতিই বিবেচনা করা হয়েছে। আইনজীবী ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত গবেষকদল ওই দেশগুলোর রেকর্ড বুক, আদালতের রেকর্ড ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিবেচনা করে এ ক্ষেত্রে বিশ্বের পরিস্থিতি নির্ণয় করেছে।

গত বছর প্রথমবারের মতো ৬০টি দেশের ওপর গবেষণা চালানো হয়েছিল যেখানে ৬টি দেশে নাস্তিকদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান ছিল।এবারের গবেষণায় দেখা যায়, জাতিসংঘের ১৯২টি দেশের মধ্যে ১৩টি দেশে ধর্মের বিরোধিতাকারী বা নাস্তিকদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়ে থাকে এবং সেগুলোর অধিকাংশই মুসলিম দেশ।

দেশগুলো হলো, আফগানিস্তান, ইরান, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মৌরতানিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কাতার সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়ামেন।

সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত ভারতেও ধর্ম নিয়ে সমালোচনাকারীদের পুলিশি হয়রানির ঘটনা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনে নাস্তিকদের টিকে থাকার অধিকার অস্বীকার করা হয়।তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয়। তাদের বিয়ে করার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয় এবং শিক্ষার সুযোগ দেয়া হয়না। এমনকি রাষ্ট্রের জন্য কাজ করারও অধিকারও পায় না তারা।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ