Home / ইসলাম / চাটমোহরের ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ

চাটমোহরের ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ

চাটাইয়ের ওপর মোহর বিছিয়ে বিক্রি করা হতো বলে নাম হয়েছিলো “চাটমোহর”। ইতিহাস বলে পাবনার অন্যতম প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র চাটমোহর একদা ছিলো মোঘল-পাঠানদের অবাধ বিচরণভূমি।

আর সে সময়ে ১৫৮১ খৃষ্টাব্দে মাসুম খাঁ কাবলি নামের সম্রাট আকবর এর পাঁচহাজারী এক সেনাপতি একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। এটিই আজকের চাটমোহর শাহী মসজিদ। বইপত্রে যা এখনো মাসুম খাঁ কাবলির মসজিদ বলেই উল্লেখ।
মসজিদটির ভেতরে দৈর্ঘ্য ৩৪ হাত, প্রস্থ ১৫ হাত, উচ্চতা প্রায় ৩০ হাত। ক্ষুদ্র পাতলা নকশা খচিত লাল জাফরী ইটে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদের দেয়ালটি সাড়ে চার হাত প্রশস্থ। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির সামনে ইদারার গায়ে কালেমা তাইয়েবা লিখিত একখন্ড কালো পাথর এখনো প্রোথিত।
মসজিদটি প্রায় ধ্বংস হবার প্রাক্কালে ১৯০৪ সালে প্রতœতত্ব অধিদপ্তর অধিগ্রহণ করে। মূল কাঠামো অবিকল রেখে অধিদপ্তর থেকে কয়েক দফা সংস্কার করা হয়েছে মসজিদটি। বর্তমানে মসজিদটি তার অতীত সৌন্দর্য্য অনেকটাই ফিরে পেয়েছে।
মসজিদটিতে এক খন্ড কৃষ্ণপ্রস্তরের এক পাশে ফারসী ভাষায় নির্মাণের ইতিহাস এবং অপর পাশে ব্রক্ষ্মা, বিষ্ণু ও শিবের মূর্তি অংকিত ছিলো। প্রস্তর খন্ডটি বর্তমানে রাজশাহী বরেন্দ্র মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।
মাসুম খাঁ কাবলি সম্রাট আকবরের ৫ হাজার সৈন্যের অধিনায়ক ছিলেন। তার পূর্ব পুরুষ সুলতান হুসাইন শাহ’র আমলে কাবুল থেকে এদেশে এসে চাটমোহর অঞ্চলে জায়গীর লাভ করেন এবং বসবাস শুরু করেন। এখানেই জন্ম হয় মাসুম খাঁ’র।
তার পূর্বপুরুষরা কাবুলের খোরাশানের তুরাবতী বংশের কাকশাল গোত্রের সৈয়দ ছিলেন। তার চাচা মীর্জা আজিজ কাকশাল সম্রাটের উজির ছিলেন। মাসুম খাঁ মাত্র কুড়ি বছর বয়সে সম্রাট আকবরের সৈন্যদলে যোগ দেন। সাহসীকতায় তিনি সহসাই পাঁচহাজারী মসনদদার পদে উন্নীত হন।
মাসুম খাঁ কাবলি বাংলার বারভূঁইয়াদের বিদ্রোহকালে তাদের দলে যোগ দেন। আকবরের সেনাপতি ও গভর্ণর শাহবাজ খানের সাথে যুদ্ধে পরাস্ত হয়ে শীতলক্ষা তীরের (গাজিপুর) গহীন অরণ্যে আতণগোপন করেন। সেখানেই ৪৪ বছর বয়সে তিনি পরলোকগমন করেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ