Home / আইন / ফাঁসির মুহূর্তেও সাদ্দামের মনোবল ছিল অটুট

ফাঁসির মুহূর্তেও সাদ্দামের মনোবল ছিল অটুট

পাশ্চাত্য দেশসমূহ ও অনেক ইরাকির চোখে সাদ্দাম ছিলেন নিষ্ঠুর, একনায়ক এবং ভয়ঙ্কর মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী। তবে ফাঁসির রশিতে ঝোলানোর পূর্ব পর্যন্ত তার মনোবল ছিল অটুট। ছিল না তার কোনো অনুশোচনা। ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন সম্পর্কে এ কথা বলেছেন দেশটির সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মোয়াফফাক আল-রুবাই। সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসি কার্যকরের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তিনি। মার্কিন অভিযানে ইরাকের পতনের কয়েক বছর পর ২০০৬ সালে সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। সাত বছর আগের সেই দিনটির স্মৃতিচারণ করে মোয়াফফাক বলেন, দরজায় আমিই সাদ্দাম হোসেনকে স্বাগত জানাই। আমাদের সঙ্গে অন্য কেউ ছিল না, কোনো বিদেশি না, এমনকি কোনো মার্কিনও না। এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, এক সাক্ষাৎকারে মোয়াফফাক বলেন, তার পরনে ছিল সাদা শার্ট ও জ্যাকেট। মানসিকভাবে তিনি ছিলেন স্বাভাবিক, নিরুদ্বিগ্ন। ভয়ভীতির কোনো চিহ্ন আমি তার মধ্যে দেখতে পাইনি। এএফপি।
মোয়াফফাক আরো বলেন, অবশ্যই, কেউ কেউ আমার মুখে শুনতে চান যে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন অথবা চেতনানাশক ওষুধের কারণেই নির্জীব ছিলেন। কিন্তু আমি যেটা বলছি সেটাই আসল। আমি তাকে অনুশোচনা করতে দেখিনি। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে দেখিনি। শাস্তি মওকুফের জন্য কারও কাছে অনুরোধও করতে শুনিনি। ফাঁসির মুহূর্ত সম্পর্কে বলতে গিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, সাধারণত এসব মুহূর্তে একজন মানুষকে আমার অপরাধ মাফ করে দাও আল্লাহ, আমি তোমার কাছেই ফিরে যাচ্ছি বলতে শোনা যায়। কিন্তু তিনি এর কিছুই বলেননি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে কঠোর হাতে ইরাক শাসন করেছেন সাদ্দাম হোসেন। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয় সামরিক অভিযানে তার পতন হয়। সাদ্দামের কাছে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র আছে দাবি করে ওই অভিযান চালানো হয়, যদিও পরে তা খুঁজে পাওয়া যায়নি। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফাঁসি দেয়া হয় সাদ্দাম হোসেনকে। ১৯৮২ সালে দুজাইল গ্রামে শিয়া সম্প্রদায়ের ১৪৮ জন লোককে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় তাকে। মার্কিন সরকারের সমর্থনপুষ্ট এই বিচার কার্যক্রমকে অনেকেই লোক দেখানো মনে করেন বলে তা বিতর্কিত।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ