Home / আন্তর্জাতিক / কংগ্রেস-বিজেপি উভয়েরই আদর্শ ‘দুর্নীতি’
দিল্লির হবু মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল

কংগ্রেস-বিজেপি উভয়েরই আদর্শ ‘দুর্নীতি’

ভারতের ক্ষমতাসীন দল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের লড়াইয়ে থাকা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কঠোর সমালোচনা করে দিল্লির হবু মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, উভয় দলের আদর্শই ‘দুর্নীতি’। তবে বিশেষত কংগ্রেসকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কেজরিওয়াল প্রধান দুই দল কংগ্রেস-বিজেপির সমালোচনা করলেও নিজের দল এএপি ‘জনগণের দল’ হওয়ায় এর উদ্দেশ্য মহৎ বলে দাবি করেন।

এছাড়া, দিল্লিতে এএপির সরকার গঠনে কংগ্রেসের সমর্থন দেওয়া না দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এএপির সরকার গঠনে সমর্থন প্রত্যাহার করলে কংগ্রেস খলনায়ক হয়ে যাবে।

দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতা আন্না হাজারের সহযোগী কেজরিওয়ালের নবগঠিত আম আদমি পার্টি সাম্প্রতিক দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে। দলের নেতা হিসেবে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন কেজরিওয়ালই। শনিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে শপথ নেবেন এএপি প্রধান। তার সঙ্গে শপথ নেবেন প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রিসভার ছয় সদস্যও। দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে বাজিমাত করার পর এএপির লক্ষ্য এখন ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন।

নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রথম দিকে দিল্লির সরকার গঠনে কংগ্রেসের সমর্থন না নেওয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত কেনো তাদের সমর্থন নেওয়া হলো এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের কোনো রকমের মিত্রতা নেই। তারাই আমাদের সরকার গঠনে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, আমরা সেটা গ্রহণে প্রস্তুত ছিলাম, এর মানে এই নয় আমাদের সঙ্গে তাদের কোনো মিত্রতা আছে। সমর্থন দিয়ে আবার তারাই সমালোচনা করছে, আমরা নাকি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারবো না। তবে, জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই আমরা সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন তারা আবার সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে খলনায়কে পরিণত হবে।

উল্লেখ্য, এএপির সরকার গঠনে সমর্থন দেবে কি দেবে না এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কংগ্রেসের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি লক্ষ্য করা গেছে।

দুর্নীতি ও অনিয়মবিরোধী আন্দোলনের ময়দান থেকে রাজনীতির মাঠে আসার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কেজরিওয়াল বলেন, আন্দোলন চলাকালে সরকারের কাছে দুর্নীতিমুক্ত ভারত গড়ার স্বার্থে লোকপাল বিল পাসসহ আমাদের দাবি জানিয়েছি আসছিলাম বারবার। সরকার দাবি আমলে না নেওয়ায় প্রতিষ্ঠিত এ ব্যবস্থায় দাবি জানিয়ে কোনো লাভ হবে না ভেবে রাজনীতিতে নামি। আন্নাজি (আন্না হাজারে) বলতেন, রাজনীতি নোংরা জিনিস। আমরা সেই নোংরা জিনিসটিই পরিচ্ছন্ন করতে নেমেছি।

প্রতিষ্ঠিত এ অনিয়মের ধারা ভেঙে সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে কেজরিওয়াল বলেন, হাতে জাদুর কাঠি কিংবা সব সমস্যা সমাধানের জ্ঞান না থাকলেও দিল্লির দেড় কোটি মানুষ একতাবদ্ধ হয়ে যদি কিছু করতে চাই, তবে কোনো কিছুই অসাধ্য নয়।

ক্ষমতাসীন দলে দু’একজন ভালো মন্ত্রী থাকতে পারে স্বীকার করলেও পুরো কংগ্রেস দলটিকেই দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে উল্লেখ করেন কেজরিওয়াল। এছাড়া, জনগণের দল হওয়ায় এএপির উদ্দেশ্য মহৎ বলে দাবি করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ক্ষমতার লড়াইয়ে থাকা প্রধান দুই দল কংগ্রেস ও বিজেপির আদর্শের সঙ্গে এএপির পার্থক্য নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে কেজরিওয়াল বলেন, কংগ্রেস ও বিজেপি দুই দলেরই আদর্শ সমান: দুর্নীতি। এক্ষেত্রে তাদের থেকে অনেক দূরে এএপি। কারণ, ইতোমধ্যে আমরা আমাদের তহবিলের স্বচ্ছতা দেখিয়েছি। আমরা নির্বাচনে অনেক নিয়ন্ত্রিত বাজেট নিয়ে লড়েছি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে এএপি নেতা বলেন, সারা দেশেই এ ব্যাপারে গুঞ্জন রয়েছে। মানুষ দলে দলে আমাদের সভা-সমাবেশে যোগ দিচ্ছে। আমাদের সিদ্ধান্ত হলো, বিশ্বাসযোগ্য লোক পেলে তাদের প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করাবো। এটা ২০, ২০০ অথবা ৪০০ আসনেও হতে পারে। বিশ্বাসযোগ্য লোক খোঁজার অভিযানও শুরু হয়ে গেছে। তবে এ ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলগুলোতে, যেখানে গণমাধ্যম এখনও পৌঁছেনি বা যাওয়া নিষিদ্ধ সেখানে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের তরফে পদক্ষেপ নিতে দুই বছর আগে দিল্লির রামলীলা ময়দানে আন্না হাজারের সঙ্গে অনশনে বসেছিলেন কেজরিওয়াল। আন্নার দল থেকে বেরিয়ে গেলেও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে জনগণের হৃদয়ে অবস্থান করে নেওয়া কেজরিওয়াল এই অল্প সময়ের মধ্যেই দল গঠন করে নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে দিল্লির মসনদে বসতে যাচ্ছেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ