Home / আন্তর্জাতিক / এক্কেবারে ভিন্নরূপের ফিলিস্তিন

এক্কেবারে ভিন্নরূপের ফিলিস্তিন

আরটিএনএন জেরুজালেম: ফিলিস্তিন, নানা কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে আলোচিত দেশ। তবে দেশটির নাম শুনে সব কিছুর আগে সবার মানসপটে যে চিত্র ভেসে ওঠে, প্রতিবেশী ইসরাইলের অব্যাহত নিপীড়নে বিধ্বস্ত জনপদ।মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের এই দেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ‘পলিসিমিক’ ব্যতিক্রমী একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষায় সদা ব্যস্ত সাময়িকীটি ফিলিস্তিনের একটু ভিন্নভাবেই দেখাতে চেয়েছেন।হায়াসিন্থ মাসকারেনহাস নামে সাময়িকীটির প্রতিবেদক কিছু ব্যতিক্রমী ছবি দেখিয়ে প্রতিবেদনে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনেও সব বাধা ভেঙে খাওয়া হয় বিয়ার। বারে র‌্যাপ ড্যান্স, ফ্যাশন শোতে অংশগ্রহণ, সার্কাস, কফি বারে শান্তিপূর্ণ সময় কাটানো সবই চলে।প্রতিবেদনটি শুরু হয় এ বছরের আরব আইডল ফিলিস্তিনের তরুণ মোহাম্মদ আসাফকে নিয়ে। কিভাবে এ বছর আসাফ পুরো বিশ্বকে ফিলিস্তিনের অন্য একটা ছবি দেখিয়েছেন এর বর্ণনা দিয়ে শুরু হয়েছে।সম্প্রতি জাতিসংঘ ২০১৪ সালকে ‘ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে সৌহার্দ্য আন্তর্জাতিক বর্ষ’ ঘোষণা করেছে। সাধারণত গণমাধ্যমগুলোতে ফিলিস্তিনের সংঘাত ও মারামারির খবরই বেশি পাওয়া যায়। সাধারণত তারা কিভাবে তাদের প্রাত্যহিক জীবন কাটায় এটা নিয়ে মাথা ঘামায় না। তাদের জীবন-যাপনের সাধারণ চিত্র অনুপস্থিত থেকে যায় সব গণমাধ্যমে।ফিলিস্তিনীয়-কানাডীয় লেখক রানা আবদুল্লাহ বলেন, ‘ফিলিস্তিন নিয়ে কথা বললে যে চিত্রটি প্রথম ভেসে আসে সেটা হলো ইসরাইলের সঙ্গে চিরন্তন যুদ্ধ। কিন্তু সাধারণ সত্য হলো- ফিলিস্তিনীরাও আর সব সাধারণ মানুষদের মতো। তাদেরও সাধারণ আশা-আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।’রানা আবদুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন ফিলিস্তিনের তুলকারেম এলাকার বালা গ্রামে। বর্তমানে কানাডায় অবস্থানকারী রানা একজন লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট। নিচে এমন কয়েকটি চিত্র দেখানো হচ্ছে;চোখ জুড়াবে উল্টো ডিগবাজিএটাকে সাধারণত পারকাওয়ার বলা হয়। হলিউডের অ্যাকশন নির্ভর প্রায় প্রত্যেক সিনেমাতে এটি দেখা যায়। এটি এমনই এক চর্চা যেটি করতে হলে আপনাকে সাধারণত দৌঁড়ের ওপর থাকতে হবে। লাফ দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবন্ধক পার হতে হবে। এটা করতে অসাধারণ দক্ষতার প্রয়োজন হয়।মোহাম্মদ গাজায় অবস্থিত খান ইউনুস উদ্বাস্তু শিবিরে থাকেন। তিনি এই পারকাওয়ারে সিদ্ধ। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন এটা চর্চা করি, নিজেদের মুক্ত মনে করি। এটা করার সময় মনে হয় আমরা অন্য কোনো জগতে আছি।’মন মাতাবে ব্রেক-ড্যান্সআমাদের স্বপ্ন আছে বলছিলেন মোহাম্মেদ আল গ্রাইয। ‘ফাঙ্ক’ নামে পরিচিত আল গ্রাইয ‘ক্যাম্পস ব্রেকার্স’ দলটি গড়েন। তিনি স্বপ্ন দেখেন ‘একদিন আমাদের নিজস্ব সেন্টার থাকবে যেখানে শিশুদের ব্রেক-ড্যান্স শেখানো হবে এবং তারা নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরার সুযোগ পাবে।’বাড়ছে র‌্যাপ আর হিপ-হপফিলিস্তিন জনগণের কাছে র‌্যাপ সিএনএন’র মতো বলে জানাচ্ছিলেন দেশটির হিপহপ গ্রুপ ড্যামের (DAM) লিড গায়ক তেমার নাফার। তার মতে, ‘ইসরায়েল, গাজা ও পশ্চিম তীরের প্রত্যেক গ্রাম, প্রত্যেক শহর ও নগরে মানুষ হিপহপ চর্চা করছে।’তরুণদের আগ্রহ মডেলিং২৭ বছর বয়সী উদ্যোক্তা তামের হালাবি পশ্চিম তীরে দেশের প্রথম মডেলিং এজেন্সি খুলেছেন। ‘মডেলিসাস এজেন্সি’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা তামের জানান, ‘দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও স্থানীয় ডিজাইনারদের কাছে প্রশিক্ষিত মডেলদের ব্যাপক চাহিদা বিবেচনায় এই ব্যবসায় নেমেছেন তিনি।’আছে ফ্যাশন শো‘পৃথিবীকে জানাতে চাই আমরাও একটি ফ্যাশন উইক আয়োজন করতে পারি। আমাদের মেধা আছে এবং পৃথিবীর আর সবাই যেভাবে বাঁচে আমরাও সেভাবে বাঁচতে চাই’ আয়োজকদের একজন হালাবি জানান। তিনি আরো বলেন, ‘রাজনৈতিক সমস্যা অনেকদিন ধরেই ছিল, তার মানে এমন নয় যে আমরা বাঁচতে পারি না।’ঘটা করে চলে বিয়ার পান খ্রিষ্টান অধ্যুষিত শহর তাইবেহ-তে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয় প্রত্যেক বছর ‘অক্টোবর ফেস্টে’। আর ওখানে পান করা হয় স্থানীয়ভাবে তৈরি বিয়ার। বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য স্টল ও বুথ স্থাপন করা হয়। আর ওখান থেকে লম্বা লাইন ধরে ক্রেতারা ‘তাইবেহ বিয়ার’, সুস্বাদু কাবাব, পিঠাসহ বিভিন্ন কারুশিল্প কিনেন।সার্কাসও চলছে বেশ‘আমাদের বন্ধু ও সমর্থকদের ধন্যবাদ। রামাল্লাতে আমরা প্রথম সার্কাসের আয়োজন করেছিলাম ২০০৬ সালে। ওখানে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রাত্যহিক জীবন তুলে ধরা হয়েছিল’ এভাবেই কথাগুলো এক নিশ্বাসে বললেন শাদি জমরুদ। শাদি ‘প্যালেস্টিনিয়ান সার্কাস স্কুল’ দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজার। ফিলিস্তিনিরা এই শিল্পটাকে পছন্দ করেছে। শাদিদের লক্ষ্য হচ্ছে সার্কাসকে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা।আধুনিক কফি শপে একান্ত সময় পারবিভিন্ন এনজিও কর্মী, কূটনীতিক, তরুণ প্রজন্ম ও বিত্তশালীদের জন্য গড়ে উঠেছে বিভিন্ন কফি হাউস। জেরুজালেম পোস্টের হিসাব মতে ২০১০ সালেই রামাল্লা ও আল বিরেহ এলাকাতেই ১২০টি কফি শপ, ৩০০টি রেঁস্তোরা ও ৫০টি রাতের খাবারের হোটেল চালু হয়েছে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ