Home / আন্তর্জাতিক / দিল্লির ‘মসনদে’ আম আদমি

দিল্লির ‘মসনদে’ আম আদমি

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর ‘মসনদে’ বসতে যাচ্ছেন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় মাত্র কয়েকমাস আগে গঠিত আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা অরবিন্দ কেজরিলাল। সোমবার সকালে সাংবাদ সম্মেলন করে সরকার গঠনের কথা জানিয়েছেন তিনি।

দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর নাজিম জংয়ের সাথে দেখা করে পার্টির তরফ থেকে এ কথা জানানো হবে। অরবিন্দ কেজরিলাল বলেন, “এটা আমার নয়, সাধারণ মানুষের বিজয়।”

দিল্লি কে শাসন করবে -এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গত কয়েকদিনে বিপুল জনমত গ্রহণ করা হয়েছে। জনগণের মতামত গ্রহণ করে সোমবার সকালে এএপির রাজনীতি বিষয়ক কমিটির বৈঠক বসে।

বৈঠকের পর আম আদমির তরফ থেকে জানানো হয়, ইন্টারনেটের মাধ্যমে গোটা দেশ থেকে প্রায় ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৮৪ জন তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৯৬৬ জন দিল্লিবাসী। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ৭৪ শতাংশ মনে করেন আপ-এর সরকার গঠন করা উচিত। সংখ্যাটা প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার।

এছাড়া দিল্লিতে রোববার রাত পর্যন্ত যে ২৮০টি সভা করা হয়েছে এএপির তরফ থেকে। এর মধ্যে ২৫৭টি সভায় মানুষের রায় পড়েছে এএপির সরকার গঠনের পক্ষে।

দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত এএপির এ সফলতাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, “কংগ্রেস এই সরকারকে শর্তহীনভাবে সমর্থন করছে না। অরবিন্দের জন্য আমার শুভকামনা রইল। দিল্লিবাসীকে যে প্রতিশ্রুতি এএপি দিয়েছিল, সেগুলি অবশ্যই পূরণ করা উচিত।”

অন্যদিকে আরেক প্রধান দল বিজেপির দিল্লির নেতা হর্ষবর্ধন জানান, আম আদমি পার্টি জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। যে কংগ্রেসকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের সাথে হাত মিলিয়ে দলটি পিছনের দরজা দিয়ে সরকারে যাচ্ছে।

আগামী ২৬ তারিখ দিল্লির রামলীলা ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন অরবিন্দ কেজরিলাল।

দুর্নীতি-বিরোধী আন্দোলনের হাত ধরে জন্মানো এই দলটি রাজনৈতিক পণ্ডিতদের সব হিসেব উল্টে দিয়ে শুধু আশাতীত ভাল ফলই করেনি–কংগ্রেস ও বিজেপি দুই পুরনো দলের ভোট ব্যাংকেই বিরাট থাবা বসিয়েছে।

দিল্লিতে বরাবর বিজেপি আর কংগ্রেসের মধ্যে মুখোমুখি লড়াই হয়ে এসেছে। রাজধানীর ভোটাররা এই দুটো পার্টির বাইরে অন্য কারও দিকে কখনওই ঝোঁকেননি। এবার তারা যে তৃতীয় কোনো দল, তাও যেটাকে বলা যায় একেবারে আনকোরা, তাদের এভাবে ঢালাও ভোট দেবেন -সেটা কেউ ভাবতেই পারেননি।

গত বছর দিল্লিতে আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। সেই হাজারেরই ভাবশিষ্য অরবিন্দ কেজরিওয়াল আন্দোলনের চেতনাকে খুব সফলভাবে নির্বাচনী সাফল্যে বদলে দিতে পেরেছেন।

স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য স্থানীয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা ইশতেহার প্রকাশ, অর্থাৎ ৭০টা কেন্দ্রের জন্য ৭০টা ইশতেহার – তাদের এরকম নানা অভিনব উদ্যোগ ভোটারদের নজর কেড়েছে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ