Home / আন্তর্জাতিক / দেওবন্দ আন্দোলনের সূচনাই হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা

দেওবন্দ আন্দোলনের সূচনাই হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা

রখ্যাত সাংবাদিক ও আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি আন্দোলনের পুরোধা শ্রীযুক্ত সঞ্জীব চৌধুরী লিখেছেনঃ-

“সাম্প্রদায়িকতার কুৎসিত খেলা গোটা উপমহাদেশে ইংরেজি শিক্ষিত ‘আধুনিক’ লোকেরা শুরু করেছে এবং তারা নিজেদের স্বার্থে নানান কৌশলে এখনো এ খেলা খেলে যাচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষী, ভারতীয় উপমহাদেশে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য মুসলমানদের আগমনের সময় থেকে ব্রিটিশ রাজত্ব কায়েমের আগে পর্যন্ত প্রায় এক হাজার বছরে এ অঞ্চলে রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়েছে, কিন্তু একটাও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি। এ অঞ্চলের সব ধর্মের মানুষ তখন …সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা কাকে বলে তা তারা বুঝতই না…

১৮৬৬ সালে ভারতের দেওবন্দে দারুল উলুম প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীনতা প্রত্যাশী আলেমদের উদ্যোগে। …
ব্রিটিশদের তাড়িয়ে ভারত স্বাধীন করার প্রথম সংগ্রাম হয়েছিল ১৮৫৭ সালে।… ১৮৫৬ সালে দিল্লীতে আলেমদের এক মহাসম্মেলনে ব্রিটিশবিরোধী লড়াই শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।… সিপাহী বিদ্রোহে ব্রিটিশ বাহিনীর দেশীয় সৈন্যরা ছাড়াও হাজার হাজার আলেম অস্ত্র হাতে অংশ নিয়েছিলেন।

… ইংরেজরা মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনা নস্যাৎ করার জন্য ১৮৬১ সালে কোরআন শরীফের ৩ লাখ কপি পুড়িয়ে ফেলে। ১৮৬৪ থেকে ১৮৬৭ সালের মধ্যে ৪ বছরে ১৪ হাজার আলেমকে ফাঁসি দিয়ে, গুলি করে এবং আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।…

এই চরম সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে মাওলানা কাসিম নানুতবী প্রত্যন্ত গ্রাম দেওবন্দে দারুল উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন একটা ডালিম গাছের নিচে। ৩০ মে ১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দারুল উলুমের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন মাওলানা মো. মাহমুদুল হাসান। প্রথম ছাত্রের নামও ছিল মাহমুদুল হাসান। এই ছাত্রই ভারতের প্রখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী শায়খুল হিন্দ।…

অসাম্প্রদায়িক দেশাত্মবোধের চেতনায় মুসলমানদের উদ্বুদ্ধ করা, প্রতিবেশী সমাজের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলা ছিল এর উদ্দেশ্য। শায়খুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান, শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী প্রমুখ মহামনীষীদের নিরলস চেষ্টায় এই উদ্দেশ্য সার্থকতায় ভরে উঠেছিল। দেওবন্দে দারুল উলুম প্রতিষ্ঠিত না হলে এ উপমহাদেশে মুসলমানদের অবস্থা স্পেনের মতো হতো কিনা জানি না, তবে মুসলমানদের অস্তিত্ব যে হারিকেন দিয়ে খুঁজতে হতো, এ কথা নির্দ্দিধায় বলা যায়। এই ঘরানায় গড়ে ওঠা কওমী মাদ্রাসাগুলো সেই অগ্রসর ধর্মীয় চেতনার প্রতীক।

পুড়িয়ে ফেলা ৩ লাখ কপি কোরআন শরীফের ছাই আর ১৪ হাজার অকুতোভয় আলেমের বুকের রক্ত যে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা ঘরানার ভিত রচনা করেছে, কতিপয় অর্বাচীন আজ তার মধ্যে পশ্চাৎপদতা আর জঙ্গিপনার জীবাণু খুঁজে বেড়ায়। ব্রিটিশদের প্রেতাত্মার আছর থেকে এ জাতি কবে মুক্ত হবে জানি না।”

-শ্রীযুক্ত সঞ্জীব চৌধুরী, সাংবাদিক ও আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি আন্দোলনের পুরোধা।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ