Home / আন্তর্জাতিক / নিজ ফুফাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেন কিম- এটি বর্বরতা ও চরম নিষ্ঠুরতার উদাহরণ : যুক্তরাষ্ট্র

নিজ ফুফাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেন কিম- এটি বর্বরতা ও চরম নিষ্ঠুরতার উদাহরণ : যুক্তরাষ্ট্র

রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও দুর্নীতির অভিযোগে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের ফুফা জাং সং থায়েকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির অঘোষিত দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত জাং সং থায়েককে বিশেষ সামরিক আদালতে দ্রুত বিচারের পর বৃহস্পতিবার ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। তবে অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, জাং থায়েককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। এর আগে তাকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন ও ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। জাং থায়েককে ‘সর্বকালের নিকৃষ্ট বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাকে ‘কুকুরের চেয়ে নিকৃষ্ট’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে উল্লেখ করা হয়। বিবিসি, আলজাজিরা, রয়টার্স, ডেইলি মেইল।
উত্তর কোরিয়ার অঘোষিত দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি জাং সং থায়েকের বিচার হয় দেশটির বিশেষ সামরিক আদালতে। দুর্নীতি, মাদক ব্যবহার, জুয়া ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার রীতি অনুযায়ী তাকে ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ থায়েককে ‘কুকুরের চেয়ে নিকৃষ্ট’ বলে মন্তব্য করে সংবাদটি প্রচার করে। একই সঙ্গে তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘বাজে চরিত্র’ বলেও উল্লেখ করা হয়। এতে থায়েকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দখলের জন্য গোপন প্রচেষ্টার অভিযোগের কথা বলা হয়। কেসিএনএ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সামরিক ট্রাইব্যুনালে থায়েক সরকারকে উত্খাতের অভিসন্ধি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা স্বীকার করেন। এর পরপরই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। জাং থায়েক উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের ফুফুকে বিয়ে করেন। কিম জং ইল ২০১১ সালে মারা যাওয়ার পর তার ছেলে কিম জং উনকে ক্ষমতায় বসানোর পর জাং (৬৭) তাকে রাজনৈতিকভাবে সহায়তা এবং তার নেতৃত্বকে পাকাপোক্ত করেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, জাং থায়েকের প্রভাব ও ক্ষমতা দিন দিনই বেড়ে যাওয়ায় কিম জং উন তাকে রাজনীতির জন্য হুমকি বলে বিবেচনা করেন। তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। দু’বছর আগে ক্ষমতা গ্রহণের পর কিম জং উনের এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। থায়েকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত ছিলেন। বহির্বিশ্বের সঙ্গে বিশেষ করে বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টিতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন।
এদিকে থায়েকের ফাঁসি কার্যকরের খবরের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ডেপুটি মুখপাত্র ম্যারি হার্ফ বলেন, মৃত্যুদণ্ডের খবরটি সত্য হলে এটি হবে উত্তর কোরীয় সরকারের বর্বরতা ও চরম নিষ্ঠুরতার আরেক উদাহরণ। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হাই অভিযোগ করে বলেছেন, কিম জং উন নিজের নেতৃত্বকে পাকাপোক্ত করতে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। কেসিএনএ’র খবরে বলা হয়, জাং থায়েক কিম জং উন (৩০) ও তার পিতার গভীর বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এছাড়া জাংয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অসততার অভিযোগ এনে সংস্থাটি আরও বলেছে, তিনি নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এছাড়া দেশটির ক্ষুধা ও অনুন্নতির জন্যও তাকেই দায়ী করা হয়। এর আগে চলতি সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া জাংকে তার সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।
জাং থায়েক ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, একই সঙ্গে জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিশনের অন্যতম নীতিনির্ধারকও ছিলেন। গত ৩ ডিসেম্বর তাকে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল; যাকে ক্ষমতার নেপথ্য নায়ক বলেই মনে করা হতো। সম্প্রতি তাকে নাটকীয়ভাবে কমিউনিস্ট পার্টির একটি সভা থেকে প্রহরী দিয়ে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেওয়া হয়। চলতি ডিসেম্বরে তাকে এসব পদ থেকে অপসারণের সঙ্গে তার দুই সহযোগীকেও ছাঁটাই করা হয়। এদিকে আদালতে শুনানিকালে জাং সামরিক বাহিনীতে নিজের সহযোগীদের ব্যবহার করে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। অধিকাংশ বিশ্লেষকের ধারণা, জাংয়ের এ পরিণতি ক্ষমতায় কিমের টেকসই অবস্থারই ইঙ্গিতবহ। ইউএস থিঙ্কট্যাঙ্ক ন্যাশনাল ব্যুরো অব এশিয়ান রিসার্চের আব্রাহাম ডেনমার্ক বলেন, কিম জং উন জাংয়ের ওপর বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন। এছাড়া তাকে আর দরকার নেই এবং নিজের মতো করেই দেশ শাসন করতে পারার বিষয়টিও তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি আরও বলেন, জাংয়ের বিষয়ে নাটকীয় এ উদ্যোগ এটাই ইঙ্গিত করে তিনি সত্যিকার অর্থেই উনের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিলেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ