Home / আন্তর্জাতিক / জেনেভা চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার মেনে নেয়া হয়েছে – রুহানি : ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে তুমুল বিতর্ক, সংশয়

জেনেভা চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার মেনে নেয়া হয়েছে – রুহানি : ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে তুমুল বিতর্ক, সংশয়

পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যাপারে ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর বিশেষজ্ঞদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএতে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি রেজা নাজাফি বলেছেন, এ সংস্থার সঙ্গে ইরানের আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ আলোচনা মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় এ বৈঠক চলছে। ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়নের উপায় খুঁজে বের করা, ইরানে এ সংস্থার পরিদর্শকদের সফরের সময়সূচি নির্ধারণ এবং প্রযুক্তিগত কিছু বিষয়ে আলোচনা করা চলমান এ বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য।
এদিকে, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনার একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার সরকার ও কংগ্রেস ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে এবং এ নিয়ে ব্যাপক মতপার্থক্যের কথা শোনা যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গতকাল কংগ্রেসে উত্থাপিত এক প্রতিবেদনে ইরানের পরমাণু নিয়ে বিতর্ক নিরসনের জন্য কূটনৈতিক পন্থার প্রতি সমর্থন জানান। একই সঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইরানের পরমাণু সমস্যা সমাধানের সুযোগ হাত ছাড়া না করার জন্য ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিক উভয় দলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। জন কেরি এমন সময় এ আহ্বান জানালেন, যখন মার্কিন আইন প্রণেতারা ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর স্বাক্ষরিত জেনেভা পরমাণু চুক্তিকে ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।
আমেরিকার সিনেট সদস্যরা বলেছেন, সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির প্রধান রবার্ট মিনান্দাজ ও রিপাবলিক দলের মার্ককার্ক এমন সময় ইরানবিরোধী নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন যখন অস্থায়ী পরমাণু চুক্তি ইরান মেনে চলছে কিনা তা প্রতিমাসে জানাতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নতুন করে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হলে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা আবারো বলবত হবে। নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় অবকাঠামো, খনিজ ও প্রযুক্তি খাতে অবরোধ আরোপ করা হতে পারে। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে ইরান যদি পরমাণু চুক্তি মেনে চলতে গড়িমসি করে তাহলে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশটির তেল বিক্রির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন পরিকল্পনার ব্যাপারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ টাইম ম্যাগাজিনকে দেয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন, এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে সাম্প্রতিক জেনেভা পরমাণু চুক্তির অপমৃত্যু ঘটবে।
পরমাণু চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ছয় জাতিগোষ্ঠী ভালো করেই জানে ইরানের ব্যাপারে তাদের মধ্যে ঐকমত্যের অভাব রয়েছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে হোয়াইট হাউজের পরস্পরবিরোধী অবস্থান। একদিন তারা বলছে ইসরাইলের সমর্থন নিয়েই ইরানের সঙ্গে বিরাজমান সমস্যার সমাধান করা হবে। আবার অন্যদিন বলছে, কংগ্রেসের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের মতপার্থক্য রয়েছে। হোয়াইট হাউজের এ অবস্থান আলোচনায় অগ্রগতির পথে বাধা। গত ২৪ নভেম্বর স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তিকে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছার ক্ষেত্রে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ অবস্থায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছার জন্য যখন আগামী পুরো ছয় মাস জুড়ে অত্যন্ত কঠিন ও শ্বাসরুদ্ধকর আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে ঠিক তখন হোয়াইট হাউসের দোদুল্যমান অবস্থা আলোচনার জন্য শুভকর নয়। বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধের মুখে কংগ্রেস ইরানবিরোধী নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি স্থগিত রেখেছে আর এ থেকে পরমাণু চুক্তির ব্যাপারে আমেরিকার অভ্যন্তরে তীব্র মতপার্থক্যের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্প্রতি জেনেভায় স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির ভুল ব্যাখ্যা দেয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
ইরান সফররত রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে এক সাক্ষাতে তিনি বলেছেন, ওই চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ ইরানের পরমাণু অধিকারকে পুরোপুরি মেনে নিয়েছে পাশ্চাত্য। ড. রুহানি বলেন, অন্য কোনো দেশ যদি ওই চুক্তির ভুল ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করে তাহলে পরস্পরের প্রতি আস্থা সৃষ্টির প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশ জেনেভা চুক্তি অনুযায়ী দেশের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে চায়। তেহরান শুধু শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায় বলে এ ব্যাপারে পাশ্চাত্যের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জাতিসংঘের পাঁচ স্থায়ী সদস্যদেশ ও জার্মানির সমন্বয়ে গঠিত ছয় জাতিগোষ্ঠী গত ২৪ নভেম্বর জেনেভায় ইরানের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তী পরমাণু চুক্তি সই করে। ইরানের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের সৃষ্ট গত ১০ বছরের সংকট নিরসনের লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক চুক্তিতে উপনীত হওয়া ছিল ওই চুক্তি সইয়ের উদ্দেশ্য।
চুক্তিতে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচিতে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়টি মেনে নেয়। বিনিময়ে ইরানের কোনো কোনো খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পাশাপাশি আগামী ছয় মাস দেশটির ওপর আর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় পাশ্চাত্য।
বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, জেনেভায় স্বাক্ষরিত চুক্তির ব্যাপারে তেহরান ও মস্কোর দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পার্থক্য নেই। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিশ্বের প্রতিটি দেশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাক্ষাতে দুই কর্মকর্তা ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সিরিয়ার চলমান সংকটসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে কথা বলেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ