Home / আন্তর্জাতিক / মৃত সাগরকে বাঁচাবে লোহিত সাগরের পানি

মৃত সাগরকে বাঁচাবে লোহিত সাগরের পানি

জর্দান, ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইনের সীমান্তে অবস্থিত ‘ডেড সি’ (মৃত সাগর) নামে খ্যাত হরদকে বাঁচাতে একটি পরিকল্পনা চুক্তি সই করেছে দেশ তিনটি। চুক্তিতে পার্শ্ববর্তী লোহিত সাগরের লবণাক্ত পানি পাইপে মৃত সাগরে এনে হরদটিকে শুকিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্ব ব্যাংকের সদর দফতরে চুক্তিটি সই হয়। বিবিসি।

ইসরায়েলের পক্ষে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী সিলভান শ্যালম, প্যালেস্টাইনের পক্ষে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রধান শাদ্দাদ আত্তিলি ও জর্দানের পক্ষে পানিসম্পদমন্ত্রী হাজিম এল নেসার চুক্তিটিতে সই করেন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রকল্প ব্যয় ২৫ কোটি থেকে ৪০ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়েছে। সমুদ্র পৃষ্ঠের ৪২৪ মিটার নিচে অবস্থিত মৃত সাগর বিশ্বের সবচেয়ে নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত পানির উৎস। মৃত সাগরের পানির প্রধান উৎস জর্ডান নদী। হরদটিতে পানি আসার পথ (জর্ডান নদী ও কয়েকটি ঝর্না) থাকলেও বের হওয়ার কোন পথ নেই।

কিন্তু মরুভূমিময় এলাকায় অবস্থিত হওয়ার কারণে হরদটি থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি বাষ্পীভূত হয়ে পানির পরিমাণ কমিয়ে দেয়। প্রচুর পানি বাষ্পীভূত হয় কিন্তু পড়ে থাকে লবণ। হাজার হাজার বছর ধরে এ পরিস্থিতি চলতে থাকায় এটি বিশ্বের সবেচেয়ে লবণাক্ত পানির উৎসে পরিণত হয়েছে।

হরদটির পানিতে লবণাক্ততা এতই বেশি যে এখানে উল্লেখযোগ্য কোন জলজ প্রাণী নেই বা বাঁচতে পারে না। পানিতে দ্রবীভূত অতিরিক্ত লবণের কারণে লবণাক্ততা এতই বেশি যে এই পানিতে কেউ ডুবেও না। তাই হরদটি বিশ্বের অন্যতম বড় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এবং এটি বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম। কিন্তু নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলোর কৃষিকাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহারের ফলে জর্ডান নদী থেকে আগের মতো পানি আর পায় না মৃত সাগর। তাই প্রতি বছর হরদের পানি প্রায় ১ মিটার হারে হরাস পাচ্ছে। এভাবে চললে ২০৫০ সালের মধ্যে হরদটি পুরোপুরি শুকিয়ে যাবে। এই পরিণতি ঠেকাতেই লোহিত সাগরের লবণাক্ত পানি পাইপে এখানে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী জর্ডানের আকাবা বন্দর এলাকা থেকে লোহিত সাগরের পানি প্রকল্পের অংশ হিসেবে নতুন করে নির্মিত একটি পানি শোধনাগারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে পাইপে লবণাক্ত পানি মৃত সাগরে সরবরাহ করা হবে। এছাড়া ওই অঞ্চলের প্রয়োজনীয় খাবার পানিও শোধনাগারটি থেকে সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে একটি জলবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে পানি সরবরাহে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। উচ্চাভিলাষী এসব পরিকল্পনা করা হলেও সমালোচকরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মৃত সাগরের ভঙ্গুর বাস্তুসংস্থান (ইকো সিস্টেম) আরও ভঙ্গুর হয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ