Home / আন্তর্জাতিক / ভরাডুবির জন্য দলকে দায়ী করলেন শীলা দীক্ষিত

ভরাডুবির জন্য দলকে দায়ী করলেন শীলা দীক্ষিত

রাজধানীতে টানা তিনবার ক্ষমতায় থেকে সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য দলকেই দায়ী করলেন দিল্লির সদ্য সাবেক হয়ে যাওয়া মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত। জানালেন নির্বাচনের সময় কংগ্রেসের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাননি তিনি। অপরদিকে কোনো দলই প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন না পাওয়ায় দিল্লির সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা কাটছে না। এবারের নির্বাচনে বিস্ময়কর সাফল্যের অধিকারী আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল ইতোমধ্যেই বলে দিয়েছেন, তার দল সরকার গঠনে বিজেপি বা কংগ্রেস কাউকে সহায়তা দেবে না, কারও সহযোগিতা চাইবে না। দ্য টেলিগ্রাফ, টাইমস অব ইন্ডিয়া।
সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাত্কারে দিল্লির টানা পনের বছর ক্ষমতায় থেকে সদ্য সাবেক হওয়া মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত বলেন, ‘দলের কাছ থেকে প্রাপ্য সমর্থন পাইনি আমি।’ দিল্লিতে কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের কারণ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি জানান, দলের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের তীব্র অভাব ছিল গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াতেই। তবে আম আদমি পার্টির চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের জন্য দলের নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শীলা। তিনি বলেন, কেজরিওয়াল আমার চেয়ে বিজ্ঞ একজন ব্যক্তি, তিনি রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি সম্পন্ন। শীলা দীক্ষিত বলেন, এএপির শক্তিকে কংগ্রেস সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি। এএপি নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কাছে নতুন দিল্লি কেন্দ্রে ২৫ হাজার ৮৬৪ ভোটে পরাজিত হয়েছেন শীলা। বিধানসভা নির্বাচনের পর দিল্লির আপাতত ত্রিশঙ্কু অবস্থা। নির্বাচনী অভিষেকেই কেজরিওয়ালের দল ছিনিয়ে নিয়েছে ২৮টি আসন। বিজেপি পেয়েছে ৩১টি আসন। সেখানে একদা ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের কপালে কোনোরকমে জুটেছে মাত্র ৮টি আসন।
অপরদিকে কোনো দলই এককভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন তথা ৩৬টি আসন না পাওয়ায় দিল্লির সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা কাটছে না। এএপি নেতা বিজেপির সঙ্গে জোট করে সরকার গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে কেজরিওয়াল বলেন, এ প্রসঙ্গে তার দলের নেতা প্রশান্ত ভূসালের বক্তব্য পুরোটাই ব্যক্তিগত, এটি তার দলের সিদ্ধান্ত নয়। এর আগে এএপির সিনিয়র নেতা প্রশান্ত ভূসাল বিজেপির কয়েকটি শর্তে ইস্যুভিত্তিক সমর্থন দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে কেজরিওয়াল বলেন, সরকার গঠনে এএপি কাউকে সমর্থন দেবে না বা কারও সমর্থন নেবে না। তাই দিল্লিতে সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ৬ মাসের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে পুনর্নির্বাচনের কোনো বিকল্প থাকবে না বলে দিল্লির রাজনৈতিক মহল মনে করে। বিধান অনুযায়ী রাজ্যের রাজ্যপাল প্রথমে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে ডাকবেন। তারা যদি সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়, তাহলে সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় হয়েছে-সেই দলকে সরকার গঠনে আহ্বান জানাবে। তারাও যদি সরকার গঠন করতে না পারে, তাহলে রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির জন্য অনুরোধ করবেন। গতকাল এএপির আরেক নেতা মণীশ সিসোদিয়া নির্বাচনী প্রচার কমিটির বৈঠকের পর জানিয়েছেন, বিরোধী আসনেই বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। গতকাল বিকেলে এএপির ফের বৈঠকে বসার কথা ছিল।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ