Home / আন্তর্জাতিক / পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান থাই প্রধানমন্ত্রীর

পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান থাই প্রধানমন্ত্রীর

আগাম নির্বাচনের আগে পদত্যাগের দাবি আবারও প্রত্যাখ্যান করেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা। গতকাল বিক্ষোভ বন্ধ করতে সরকারবিরোধীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইংলাক সাংবাদিকদের জানান, সংবিধানের নিয়মানুসারে তিনিই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বিরোধীদের আন্দোলন থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। তবে সরকারবিরোধীরা নির্বাচনের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে অনির্বাচিত পিপলস কাউন্সিলের হাতে ক্ষমতা দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। রয়টার্স, আলজাজিরা, বিবিসি।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ইংলাক সিনাওয়াত্রা বলেন, পরবর্তী সরকার কারা পরিচালনা করবে তার জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার এখন আর কোনো প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে পদত্যাগ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী অবশ্যই আমাকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমার সাধ্যানুযায়ী আমি পিছু হটেছি, এখন সংবিধান সমুন্নত রাখার স্বার্থে আমার প্রতি সুবিচার করা উচিত বিরোধীদের। এর আগে গত সোমবার নির্বাচন ঘোষণার পর ইংলাক বলেন, সমাজের নানা অংশ থেকে অনেক মানুষ যখন সরকারের বিরোধিতা করছে, তখন সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া এবং নির্বাচন করা। থাইল্যান্ডের জনগণই এখন সিদ্ধান্ত নেবে।
ইংলাকের নির্বাচনের ঘোষণার পরপরই তার দলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়, ইংলাক নির্বাচনে অংশগ্রণ করবেন। ইংলাকের পুয়ে থাই পার্টির প্রধান জারুপং রুয়াঙ্গসুয়ান বলেন, তিনি (ইংলাক) নিশ্চিতভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবেন। দলের সঙ্গে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন। আমরা আত্মবিশ্বাসী, আর এ কারণেই পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছি। আমরা চাই ডেমোক্র্যাটিক পার্টি রাস্তার খেলা বাদ দিয়ে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবে। প্রধানমন্ত্রীর আগাম নির্বাচনের ঘোষণার পরও পিছু হটছে না বিরোধীরা। সোমবার বিকেলেও বিক্ষোভকারী দলের প্রধান ও সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী সুথেপ থাউগসুবান জানিয়েছেন, বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, আমরা জনগণের প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করব, জনগণের সরকার গঠন করব এবং পার্লামেন্টের স্থলে জনগণের পরিষদ গঠন করব। থাইল্যান্ডে বিক্ষোভকারীরা দেশ পরিচালনার জন্য এ মুহূর্তেই একটি অনির্বাচিত পরিষদ গঠনের দাবি জানাচ্ছে। এ ‘গণ পরিষদ’-এর অধীনে নির্বাচন করার দাবি জানাচ্ছে তারা।
অবশ্য, প্রধানমন্ত্রীর আগাম নির্বাচনের ঘোষণার পর বিক্ষোভকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, মঙ্গলবার কিছুসংখ্যক বিক্ষোভকারী সরকারি কার্যালয়গুলোর বাইরে অবস্থান করছে। তবে সে সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কম। এর আগে, সোমবার প্রায় দেড় লাখ বিক্ষোভকারী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গভর্নমেন্ট হাউসের সামনে জড়ো হয়। সরকার পতনের জন্য এটাকেই ‘চূড়ান্ত আন্দোলন’ বলে ঘোষণা দেয় তারা। তবে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে জড়ো হওয়ার আগেই পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ