Home / আন্তর্জাতিক / ১৪ ডিসেম্বর

১৪ ডিসেম্বর

mandela_postcardবিপ্লবীকে কেউ ‘প্রয়াত’ বলে অভিহিত করতে চায় না। বিশেষত বিপ্লবী যদি হোন শান্তিকামী, দৃঢ়চেতা ও আপোষহীন তাহলে তার মৃত্যুতে কেঁদে ওঠে সমগ্র জাতি, সমগ্র বিশ্ব। এমনটাই হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কালো প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার ক্ষেত্রেও।
বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার ঘোষণার পর যে যেখানে আছে, ছুটে গেছে ম্যান্ডেলার প্রিটোরিয়ার বাড়িতে। মাদিবার আদি বাড়ি সোয়েতোতেও বৃহস্পতিবার রাতভর আফ্রিকান আচারে মাতম করেছেন সেখানকার অধিবাসীরা।
আগামী শনিবার অর্থাৎ ১৪ ডিসেম্বর ম্যান্ডেলাকে তার জন্মস্থান ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের ‘কুনু’ গ্রামে সমাহিত করা হবে। তার আগে প্রিটোরিয়ার ইউনিয়ন ভবনের সামনে তিনদিনের জন্য রাখা হবে এই মহারথীর দেহ।
এর আগে, অনির্দিষ্টকালের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার পতাকা অর্ধনমিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জ্যাকব জুমা। পূর্বসূরি হারানো জুমা বলেন, “যতদিন ম্যান্ডেলা সমাধিস্থ হবেন না, পতাকাও উঠবে না।” রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ম্যান্ডেলার দাফনের কথাও বলেন তিনি।
জীবনে কোনোকিছুতেও আপোস না মানা ম্যান্ডেলাকে ফুসফুসের সংক্রমণের কাছে হারতে হয়েছে -এমনটা যেন মেনে নিতে পারছেন না আফ্রিকানরা। প্রিটোরিয়ার বাড়ির সামনে ম্যান্ডেলার এক ভক্ত বলেন, “ভাবতেই পারছি না মাদিবা নেই। তিনি শান্তিকামী লোক ছিলেন। আর সেকারণেই হয়ত তার এই আকস্মিক গমন।”
ম্যান্ডেলার দীর্ঘ কারাবাসকেও দুষছেন অনেকে। রোবেন দ্বীপে দীর্ঘদিন ছোট্ট কুঠুরিতে কারাবন্দী থাকার কারণেই ম্যান্ডেলার ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রিটোরিয়ার চিকিৎসকেরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক কাণ্ডারী ও ম্যান্ডেলার একনিষ্ঠ সহযোগী ডেসমন্ড টুটু বলেন, “প্রভু দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর যথেষ্ট সন্তুষ্ট হয়েছিলেন বলেই হয়ত ম্যান্ডেলাকে দিয়েছিলেন। যে কারণে এ দেশটির খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন মাদিবা।”
সব জাতির ক্রান্তিকালেই উদ্ধারের তরে কোন না কোন মহানায়কের আবির্ভাব ঘটে। আর সেই ক্রান্তিকালে দক্ষ নাবিকের ভূমিকায় তারা সফল হলে কিংবদন্তীতে পরিণত হন। তাই জাগতিক মৃত্যু হলেও পৃথিবীবাসির বুকে বেঁচে থাকবেন আফ্রিকার সন্তান মাদিবা।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ