Home / আন্তর্জাতিক / সহিংস বিক্ষোভ, সেনা মোতায়েন
থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অস্থিরতা

সহিংস বিক্ষোভ, সেনা মোতায়েন

থাইল্যান্ডে সরকারবিরোধীরা গতকাল রোববার ‘গণ-অভ্যুত্থান’ শুরু করেছে। তবে সাত দিনের শান্ত কর্মসূচির পর গতকাল বিরোধীদের আন্দোলন ভয়াবহ সহিংস রূপ নিয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংককে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
thialand
বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা। এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে পুলিশ কম্পাউন্ডে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। সরকারবিরোধীরা একটি সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দখল করে নিয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোতে ঢোকার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে পুলিশ প্রচুর পরিমাণে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে।
গতকাল টেলিভিশনে বিরোধী নেতা সুথেপ থগসুবান আজ সোমবার থেকে দেশে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। রোববারকে তিনি ‘ভি-ডে’ জ (বিজয়ের দিন) ঘোষণা করে এই দিনকে ‘গণ-অভ্যুত্থান’ বলে আখ্যা দেন।
গত শনিবার সরকারবিরোধী নেতারা সরকারের ১০টি প্রধান কার্যালয়, ছয়টি টেলিভিশন কেন্দ্র, পুলিশ সদর দপ্তর ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দখলে নিতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী ইংলাকের পদত্যাগের দাবিতে বেশ কয়েক দিন ধরেই ব্যাংককে বিক্ষোভ চলছে। গত দুই-তিন দিনে তা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। তবে হতাহতের ঘটনা গতকালই প্রথম ঘটল।
ব্যাংককে গত শনিবার রাতেই মূলত বড় ধরনের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী ইংলাকের সমর্থনে ওই দিন ব্যাংকক স্টেডিয়ামের চারপাশে জড়ো হয় সরকারপন্থী হাজার হাজার ‘রেড শার্ট’ সমর্থক। সেখানেই সরকারবিরোধীদের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
থাইল্যান্ড পুলিশের উপপ্রধান ওরাপং সিয়েপরেচা জানান, সহিংসতায় একজন ছাত্রসহ পাঁচজন নিহত হয়। আহত হয় অন্তত ৫০ জন। স্টেডিয়ামের পাশে সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়া একজন ‘রেড শার্ট’ সদসকে সরকারবিরোধীরা মারধর করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
তবে এই সহিংসতার জন্য সরকারপন্থী ও বিরোধীরা পরস্পরকে দোষারোপ করছে।
প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাপ্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রারাজধানীর এক ভবনে গতকাল রোববার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনা ছিল প্রধানমন্ত্রী ইংলাকের। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি ওই ভবনে গেলে সরকারবিরোধীদের বাধার মুখে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। পরে পুলিশ দ্রুত তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
এদিকে ব্যাংককে গতকাল মন্ত্রণালয়গুলোতে ঢোকার চেষ্টা করে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তাঁরা ভেতরে ঢুকতে চাইলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে। বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও ইট-পাটকেল ছোড়ে। এই সংঘর্ষে সেখানে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়।
পুলিশ বলছে, বিক্ষোভকারীরা ব্যাংককের আটটি স্থানে জড়ো হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র পিয়া উতায়ো বলেন, আইনের আওতায় থেকেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্স।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ