Home / আন্তর্জাতিক / ক্ষমতা ছাড়ার আগে পাকিস্তান যেতে চান মনমোহন

ক্ষমতা ছাড়ার আগে পাকিস্তান যেতে চান মনমোহন

monmohonনয়া দিল্লি: প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার আগে একটি বার পাকিস্তানে যেতে চান তিনি। গত দশ বছরের এই অপূর্ণ ইচ্ছাটুকু তার বিদায়ী সাংবাদিক সম্মেলনে উজাড় করে দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত পাকিস্তানও। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান মনমোহন সিং।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গাহ গ্রামে জন্ম মনমোহনের। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বার বার পাকিস্তানে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় দ্বিপাক্ষিক সফরের নানা টানাপোড়েন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পাকিস্তানে আমি অবশ্যই যেতে চাই। যে গ্রামে জন্মেছিলাম তা এখন পশ্চিম পাঞ্জাবের অংশ।”

২০০৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছেন মনমোহন। নিয়ন্ত্রণরেখাকে অপ্রাসঙ্গিক করে দেয়ার পক্ষে জোর দিয়ে সেই দেশের মানুষের মধ্যে বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানোর কথা বলেছেন। তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশারফের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে শ্রীনগর এবং মুজফ্ফরাবাদের মধ্যে ঐতিহাসিক বাস যোগাযোগ চালু করেছিলেন তিনিই।

কিন্তু ২০০৮ সালে মুম্বাই আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা মনমোহনের যাবতীয় শান্তি প্রয়াসে পানি ঢেলে দেয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী অবশ্য আসিফ আলি জারদারি অথবা নওয়াজ শরিফের চেয়েও শান্তি প্রক্রিয়ার প্রশ্নে বেশি গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন মুশারফকেই। তার দাবি, কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের দোরগোড়ায় চলে এসেছিল তার সরকার। কিন্তু, মুশারফ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় সমাধানের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, “অনেক বার ভেবেও শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান যাওয়া হয়ে ওঠেনি আমার। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেয়াদ শেষ করার আগে এক বার পাকিস্তান সফরের আশা ছাড়িনি আমি।”

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাসনিম আসলাম জানিয়েছেন, মনমোহনকে আগেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তারা। মনমোহন তা গ্রহণও করেছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ইসলামাবাদ তৈরি।

তবে প্রধানমন্ত্রীর আশা, ‘দুরাশা’ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক কর্তারা। রাজনৈতিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ক্ষমতায় আসার পরই মনমোহনকে সে দেশে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পাঠিয়েছিলেন। সেই আমন্ত্রণ নিয়ে নাড়াচাড়া করেছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। কিন্তু পররাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন মনমোহনের ইসলামাবাদ সফরের ঘোরতর বিরোধিতা করেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাতে সায় দিয়েছিলেন আহমেদ প্যাটেল, দিগ্বিজয় সিংহের মতো নেতারা।

প্রণববাবু তথা কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতার মত ছিল, পাকিস্তান নিয়ে রোম্যান্টিসিজমের কোনো জায়গা নেই। মুম্বাই সন্ত্রাসে অভিযুক্তদের সাজা দেয়া এবং ভারতবিরোধী জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করা নিয়ে বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও কথা রাখেনি ইসলামাবাদ। ফলে এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান গেলে, খালি হাতেই ফিরতে হবে মনমোহনকে। সংসদে বিরোধীদের তোপের মুখে পড়বে দল তথা সরকার।

শেষ লগ্নে পাকিস্তান সফর করতে গেলেও সেই যুক্তির মুখে পড়তে হবে মনমোহনকে। সূত্র: আনন্দবাজার।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ