Home / খেলা / আবাহনীকে বিদায় করে দিল মোহামেডান

আবাহনীকে বিদায় করে দিল মোহামেডান

abahoni_mohammadanলক্ষ্য নাগালের মধ্যে থাকলেই পারে মোহামেডান। আর টার্গেট বড় হলেই মুখ থুবড়ে পড়ে। প্রথম রাউন্ডে আবাহনীর ১৭২-র জবাবে ৯৫; আর ঠিক আগের খেলায় প্রাইম ব্যাংকের ২০৪ রানের পিছু ধেয়ে মাত্র ৪৫-এ অল আউট তাই জানান দেয়। সেই দলের সামনে ফের ১৭২ রানের বড় লক্ষ্যমাত্রা। এবার কী করবে মোহামেডান?
আগের ম্যাচের চরম ব্যাটিং ব্যর্থতা পেছনে ফেলে কাল অন্য মোহামেডান। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর করা ১৭১ রানের জবাবে ৮ উইকেটের দুরন্ত জয়ে মাঠ ছাড়ল মাশরাফির দল। দলে প্রতিষ্ঠিত পারফরমারদের পেছনে ফেলে এ জয়ের নায়ক নুরুল হাসান সোহান। এ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ছয় বল আগে জয়ের দেখা পায় মোহামেডান।
দারুণ জয়ে মোহামেডানের ফাইনাল সম্ভাবনা টিকে থাকল অনেকটাই। আর আবাহনী শিবিরের কপাল পুড়ল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে হেরে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই চার দলের বিজয় দিবস ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে হল মাহমুদউল্লাহর দলকে।
দিন শেষে নুরুল হাসান মোহামেডানের জয়ের নায়ক হলেও অন্তরালে এ সাফল্যের অন্যতম ক্রীড়ানক মাশরাফি বিন মর্তুজাও। নুরুল হাসানকে নিয়ে ‘জুয়া’ খেলে শতভাগ সফল মোহামেডান অধিনায়ক। প্রথম দুই খেলায় ছয় নম্বরে ব্যাট করে মোটেই (০+৭) রান না পাওয়া এ কিপারকে পরের দুই ম্যাচ তিন নম্বরে প্রমোশন দিয়েছিলেন মাশরাফি। তার একটিতে ২৮ রান করলেও প্রাইম ব্যাংকের সঙ্গে প্রথম বলেই (সাকিবের বোলিংয়ে) আউট হয়েছিলেন নুরুল হাসান। কিন্তু তারপরও তার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখা। আর আবাহনীর বিপক্ষে এ ম্যাচে সেই তিন নম্বরে নেমেই দুর্বার নুরুল। বড় স্কোর তাড়া করে জেতার জন্য যা যা করা দরকার তরুণ এ কিপার ঠিক তাই করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, একদম চাপমুক্ত হয়ে ব্যাট করেছেন। বাড়তি চাপ না নিয়ে খেলাই শুধু নয়, মাথায় ছিল দল জিতিয়ে আসা। সাধারণত এমন পারফরমাররা হঠাত্ জ্বলে ওঠেন। কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে আউট হয়েও যান। কিন্তু নুরুল হাসান তা করেননি। ২৪ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করা নুরুল একই ছন্দে উইকেটের চারদিকে বাহারি শটস খেলে শেষ পর্যন্ত ৪৭ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ৭৯ রানে অপরাজিত থেকে বিজয়ীর বেশে সাজঘরে ফেরেন।
নুরুল যে কাজ করেছেন তা করার সুযোগ ছিল আবাহনীর মিজান ও সৌম্য সরকারেরও। ওপেনার মিজান (২৫ বলে ৪১) ও সৌম্য সরকার (৩৪ বলে ৫২) দু’জনই কিন্তু একটা সময় গিয়ে রণে ভঙ্গ দেন। আর সে কারণেই ঝড়ো সূচনার পরও আবাহনীর শেষটা ভালো হয়নি। মিজানুর-শামসুর রহমান শুভ প্রথম উইকেটে ৬১ (৫.৫ ওভার) আর মাহমুদউল্লাহ-সৌম্য তৃতীয় উইকেটে ৬৪ (৭.৫ ওভারে) দুটি বড় পার্টনারশিপ গড়ে দেওয়ার পর মনে হচ্ছিল আবাহনী ২০০-এর ঘরে পৌঁছে যাবে। কিন্তু ১৬.৪ ওভারে পেসার দেওয়ান সাব্বিরের বলে সৌম্য আউট হওয়ার পর সে সম্ভাবনার প্রদীপ নিভে যায়। ঠিক আগের দুই বলে প্রথমে ছক্কা ও পরে বাউন্ডারি হাঁকানো সৌম্য অনসাইডে তুলে মারতে গিয়ে মাঝ ব্যাটে আনতে ব্যর্থ হলে বল আকাশে উঠে যায়। বোলার নিজেই সেই ক্যাচ ধরে নেন। পরের ২০ বলে রানগতি অস্বাভাবিক কমে যায়। ওই সময় জিয়া, নাজমুল মিলন আর সোহরাওয়ার্দী শুভ ব্যাট জ্বলে না ওঠায় মাত্র ২২ রান পায় আবাহনী। আর সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। পাল্টা ব্যাটিংয়ে নামা মোহামেডান তুলনামূলক স্লথ শুরু করেও শেষ হাসি হাসে। জহুরুল (১৭ বলে ২২)-জুনায়েদ (৩১ বলে ৪১) প্রথম উইকেটে ৫.১ ওভারে ৪২ রান তুলে দেওয়ার পর দুটি কার্যকর জুটি গড়ে ওঠে। দ্বিতীয় উইকেটে জুনায়েদ-নুরুল হাসান ৭৮ (৭.৫ ওভার) আর তৃতীয় উইকেটে নুরুল ও মমিনুল (১৯ বলে ২২*) ছয় ওভারে ৫২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়লে লক্ষ্যে পৌঁছে মোহামেডান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আবাহনী : ১৭১/৬, ২০ ওভার (মিজানুর ৪১, শামসুর ১৮, সৌম্য ৫২, মাহমুদউল্লাহ ২৯, নাজমুল ১২; দেওয়ান সাব্বির ৩/৪১)। মোহামেডান : ১৭২/২, ১৯ ওভার (জহুরুল ২২, জুনায়েদ ৪১, নুরুল হাসান ৭৬*, মমিনুল ২২*; সৌম্য ১/১৯, নাবিল ১/২৫)। ফল : মোহামেডান ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : নুরুল হাসান সোহান।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ