Home / খেলা / সনিদের ছাপিয়ে নায়ক নাসির

সনিদের ছাপিয়ে নায়ক নাসির

টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার সনি নর্দে বাক্সবন্দি। প্রতিরোধের মুখে ওয়েডসনও অকার্যকর। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রেখেও মামুনুল কিছু করতে পারছেন না। মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে সব ম্যাচ উইনারদের চেষ্টা বিফলে যাওয়ার দিনে হঠাৎ ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিনের স্ট্রাইকিং সত্তা জেগে উঠে এবং তাঁর এক হেডেই শেখ জামাল ধানমণ্ডি কাগজের এক নম্বর দল থেকে মাঠের সেরা হয়ে ওঠে। গতবারের রানার্সআপের মাথায় ওঠে ফেডারেশন কাপ শিরোপার মুকুট।

প্রাক-ম্যাচ আলোচনায় শিরোপার লড়াইটি ‘ফিফটি-ফিফটি’তে রেখেছিল দুই দলই। এটা অবিশ্বাস্য ঐক্য! কারণ মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে শেখ জামাল অনেকখানি এগিয়ে শক্তিতে, এর পরও নিজেদের ফেভারিট না মানাটা ছিল রহস্যজনকই। মাঠের খেলায় রহস্য ভেদ হলো, এক নম্বর দলের কেউই এক নম্বর হয়ে উঠতে পারছেন না। গত মৌসুমে শেখ রাসেলের দুটি টুর্নামেন্ট শিরোপায় সনি নর্দের ফুটবল-শোভা ছিল। প্রতিপক্ষ ছিল এই শেখ জামালই, তারা আগে গোল করেও শিরোপার স্বাদ পায়নি, ওই হাইতিয়ান ফরোয়ার্ডের ম্যাজিকে দু-দুটি টুর্নামেন্টে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসেছিল শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। ম্যাজিকম্যান এবার দলবদল করে জামালের হয়েছেন, তাঁর সাত গোলের ঝলকে উতরেছে সেমিফাইনাল। কিন্তু ফাইনালে মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে তাঁর মুক্তি মিলছে না। সব সময় কড়া প্রহরায় তিনি। যেটা হয়, দুই পায়ের জাদুতে সব বাধা টপকে তিনি ঠিকই হয়ে যান গোলের মানুষ। কাল সবাই এই প্রত্যাশায় ছিল, যেকোনো সময় তেড়ে-ফুঁড়ে সব বাঁধ ভেঙে বল মুক্তিযোদ্ধার জালে জড়িয়ে উৎসবে মাতবেন। কিন্তু দেখা যায়নি সেই বাঁধভাঙা দৌড়।

তাঁর স্বদেশি ওয়েডসন কয়েকবার ডানদিক দিয়ে ঢুকে চেষ্টা করেও পারেননি। ৩৯ মিনিটে সনির দারুণ এক থ্রুয়ে এই ফরোয়ার্ডের সামনে হাতছানি দিয়েছিল গোল। গড়িয়ে আসা বলটি যখন তাঁর পায়ে তখন সামনে শুধুই মুক্তিযোদ্ধার গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদ, ডিফেন্ডাররা অফসাইডের ফাঁদে ফেলতে গিয়ে সুযোগ করে দিয়েছেন গোলের। এ সুযোগটি ওয়েডসন নষ্ট করেছেন পোস্টের বাইরে মেরে। ৪৪ মিনিটে ইয়াছিনের বাড়ানো বলে ডানদিকে ঢুকে তাঁর নেওয়া চমৎকার শটটি ঠেকিয়ে দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার ওই গোলরক্ষক। ম্যাচ উইনারদের চেষ্টা বিফলে যাচ্ছে। সনির পায়েও ঝলক নেই। তাই গোলহীন প্রথমার্ধ শেষে সত্যিই ভীতি ছড়িয়ে পড়েছিল শেখ জামালে। আবারও কি সেই ফাইনাল বিফলে যাওয়ার ইঙ্গিত! দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে যেন তেজ আরো কমে গেছে। কোচ যোশেফ আফুসিরও টেনশন বাড়ছে, নানা অঙ্গভঙ্গিতে তাঁর হতাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধাও ডিফেন্স ছেড়ে একটু একটু ওপরে উঠছে, খেলা গোছানোর চেষ্টা করছে মাঝমাঠে। তাতে ৫৬ মিনিটে মোহাম্মদ বিপ্লব সব কিছু ঠিকঠাক করতে পারলে এগিয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধাই। এলিটা কিংসলের অসাধারণ এক পাসে খুলে যাওয়া গোলমুখে গিয়েও এই দেশি ফরোয়ার্ড না মেরেছেন পোস্টে শট না দিয়েছেন পাস।

ফাইনালের চাপেই যেন সব গুলিয়ে যাচ্ছে। দুই তরফেই যাচ্ছে, তবে চাপটা হচ্ছে একদিকে। শেখ জামালের দিকে, এক নম্বর দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দায়মুক্তির একটা ব্যাপার আছে। শেষ পর্যন্ত সেই দায় থেকে সবাইকে মুক্তি দিয়েছেন ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিন। সেনাবাহিনীতে থাকার সময় তিনি ছিলেন স্ট্রাইকার। সেনাছাউনি ছেড়ে আসার পরও কয়েক মৌসুম গোলের দায়িত্বে থাকলেও এখন পজিশন বদলে জাতীয় দলের ডিফেন্ডার। কর্নার কিক হলেই জেগে ওঠে তাঁর পুরনো সত্তা, চলে যান প্রতিপক্ষের গোলমুখে। কালও সেভাবে ৮৩ মিনিটে হাজির মুক্তিযোদ্ধার ডিফেন্সে এবং সনি নর্দের কর্নার কিকে ঠিকঠাক মাথা ছুঁইয়েছেন। সেই বলে গোলরক্ষক পাঞ্চ করতে গিয়েও পারেননি, পৌঁছে গেছে মুক্তিযোদ্ধার জালে। হয়ে গেছে শিরোপার গোল! ‘গোল করব, এমন কিছু তো আগে হলফ করে বলা যায় না। আমাদের দলের ম্যাচ উইনাররা যখন অনেক চেষ্টা করেও পারছিল না তখন আমার হেডেই গোল! এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়, পুরো টুর্নামেন্টের মহামূল্য গোল এটি’- হাসতে হাসতেই অনন্য গর্ব নিয়ে কোচের বুকে ঢলে পড়েছেন নাসির উদ্দিন।

এই মহামূল্য গোলে শেখ জামাল দ্বিতীয়বারের মতো জিতেছে ফেডারেশন কাপ শিরোপা। যোশেফ আফুসি পেয়েছেন কোচিং ক্যারিয়ারের প্রথম সাফল্য। আর মামুনুলরা পেয়েছেন আত্মবিশ্বাস, ‘আমরা যে এক নম্বর দল সেটা প্রমাণ করার দায় ছিল। আমাদের খেলা আগের ম্যাচগুলোর মতো হয়তো সুন্দর হয়নি। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সিভ ফুটবলের জন্য আমরা সব সময় নিজেদের মতো খেলতে পারিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়রা মাঠে প্রমাণ করেছে, আমরাই সেরা।’

প্রথম টুর্নামেন্টে সেরা হয়েই মৌসুম যাত্রা শুরু করেছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি।

শেখ জামাল ধানমণ্ডি : জিয়া উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, আবদুল্লাহি, আশরাফ মাহমুদ, মামুনুল, সনি নর্দে, সোহেল রানা (দিদার), ওয়েডসন, ইয়াসিন, রায়হান ও ডার্লিংটন।

মুক্তিযোদ্ধা : রাসেল মাহমুদ, বেঞ্জামিন, উত্তম বণিক, জাহেদ পারভেজ (ইব্রাহিম), এনামুল, এলিটা কিংসলে, সাইফুল, বিপুল (ইমতিয়াজ), জেরার্ড, এ

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ