Home / খেলা / ফেভারিট শেখ জামাল লড়বে মুক্তিযোদ্ধাও

ফেভারিট শেখ জামাল লড়বে মুক্তিযোদ্ধাও

ফাইনালে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ফাইনালের আকর্ষণ একটু হলেও ফিকে হয়েছে। অন্য পিঠে কথাও থেকে যায়। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নেই তো কী হয়েছে, সনি নর্দে-ওয়েডসনরা তো আছেন। তাদের দল শেখ জামাল। এই একটি দলের পারফরম্যান্স দিনকে দিন উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হচ্ছে। অন্তত মাঠে এসে খেলা দেখার জন্য তারাই তো বড় বিজ্ঞাপন!
আরও একটি দল আছে। জামালের মতো না হলেও নিজেদের গতিতে এগোচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা। কিংসলে-এনকোচাদের নিয়ে নীরবে-নিভৃতে এখন শিরোপার অন্যতম দাবিদার। এ দু’দল মিলে আজ ফাইনালে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে। কার কতটুকু শক্তি, তা আজ আবারও পরিষ্কার হবে। মৌসুম শুরুর ফেডারেশন কাপের ট্রফির যে লড়াই এটি!
দু’দলের শক্তিমত্তার পুরনো রেকর্ড দেখলে শেখ জামালকে নিশ্চিতভাবে এগিয়ে রাখতে হবে। ফেডারেশন কাপ ও লিগ মিলিয়ে আগে নয়বার মুখোমুখি হয়েছিল। শেখ জামাল ছয়টিতে জিতেছে, দুটিতে হার ও একটি ম্যাচ ড্র। এর মানে দাঁড়াচ্ছে-মুক্তিযোদ্ধার জয়ের রেকর্ড নিচের দিকে। মাত্র দুটি! যদি ফেডারেশন কাপ ধরা হয়, তাহলে জামাল আরও এগিয়ে। তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয়!
অন্য সময়ের চেয়ে আজকের হিসাব-নিকাশ একটু অন্যরকম। শক্তির নিক্তিতে মাপলে শেখ জামাল বেশ এগিয়ে। ধারে ও ভারে প্রতিপক্ষের চেয়ে ওপরে অবস্থান করছে। শুধু সনি-ওয়েডসন-ডার্লিংটনদের মাপলে হবে না, অন্য বিভাগও কম নয়। যদিও সনি নর্দে একাই ম্যাচের গতি পাল্টে দিতে সক্ষম। যা তিনি আগেও দেখিয়েছেন।
মধ্য মাঠে মামুনুল-সোহেল রানা আক্রমণের অন্যতম উত্স। তার আগে ডিফেন্স লাইনে রায়হান-নাসিরউদ্দিন-লিংকনরা বড় প্রাচীর। গোলকিপার জিয়াকে একটি গোল হজম ছাড়া বাকিটা সময় বড় পরীক্ষায় পড়তে হয়নি। তা না হলে কি দুই ঐতিহ্যবাহীকে হারিয়ে ফাইনাল দেখা!
নাইজেরিয়ান কোচ জোশেফ আফুসি বরাবরই একটু কূটনৈতিক সুরে কথা বলতে পছন্দ করেন। হালকা রসিকতা করেন মাঝে মধ্যে। দলের শক্তি নিয়ে বলতে গিয়ে কাউকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনা করেননি। সনি নর্দে সম্পর্কিত প্রশ্ন উঠতেই তার উত্তরটি পরিষ্কার, ‘আমার কাছে প্রতিটি খেলোয়াড়ের গুরুত্ব সমান। তা সেটা রিজার্ভ বেঞ্চের হলেও। আর সনিকে যদি ফাইনালে একা নামিয়ে দিই তাহলে তো ১০০ গোলে হার দেখতে হতে পারে! সুতরাং ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনকে লড়তে হবে।’
গেল আসরে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে উঠেও ট্রফি স্পর্শ করা হয়নি। জামাল কোচ আফুসি নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে বললেন, ‘গেলবার ফাইনালে উঠেও জিততে পারিনি। এবার ফের ফাইনাল খেলছি। সবারই লক্ষ্য শিরোপার দিকে। সবাই তা জেতার জন্য তৈরি। আমার বিশ্বাস খেলোয়াড়রা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।’ নিজেদের ফেভারিট মানতে নারাজ এ দীর্ঘদেহী, ‘আমি তা মনে করি না। এখানে দুটি দল ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে। প্রতিপক্ষ বেশ ভালো দল। আমরা তাদের চেয়ে এগিয়ে সেটা বলব না। সবাই মুখিয়ে রয়েছে সেরাটা উজাড় করে খেলার জন্য। আমার কাছে মনে হচ্ছে ম্যাচটি হবে সমানে সমান।’
বিদেশি কোচের মতো কূটনৈতিক সুরে কথা বলেননি অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। ব্যাখ্যা দিয়েছেন দলে শক্তি সম্পর্কে। বলেছেন, ‘আগেই বলেছি মৌসুমের সব ট্রফি জিততে চাই। প্রথমটির দ্বারপ্রান্তে এসেছি। ফাইনাল জেতার জন্য বদ্ধপরিকর। গেল এক সপ্তাহে ভুল-ত্রুটি শুধরে নিয়েছি। বলতে পারেন আমরা তৈরি।’ সনি নর্দে সম্পর্কে রাখঢাক না রেখেই বললেন, ‘সনি-ওয়েডসনরা ভালো খেলে আসছে। এতে করে আমাদের সুবিধা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে ওদের দিকে ডিফেন্ডারদের দিকে মনোযোগ বেশি থাকে। এক সনির পেছনে যদি দু’জন ডিফেন্ডার থাকে তাহলে অন্যদের কাছে গোলের সুযোগ বেশি আসে। আমরা সেই সুযোগটিও কাজে লাগাতে চাই।’
প্রতিপক্ষের সঙ্গে শক্তিতে হয়তো সমান নয়, তারপরও ফাইনাল বলে কথা। মুক্তিযোদ্ধার কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক তাই বারবারই ভাগ্যের দিকে যাচ্ছিলেন। তার কথার সারমর্ম হল-যদি ভাগ্য সহায় হয়, শেখ জামাল খারাপ খেলে; কিংবা তার দল অসাধারণ কিছু ঘটিয়ে ফেলে। এমন আর কী।
দলের ফরমেশন কিংবা প্রতিপক্ষকে কীভাবে ঘায়েল করবেন, এ সম্পর্কিত কিছু তার কণ্ঠ থেকে বের করা যায়নি। এই যেমন বলেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে কেউ ভাবেনি যে তারা ফাইনাল খেলবে। কিন্তু আমরা খেলছি। ধাপে ধাপে এগোচ্ছি। শেখ জামালকে হারানো কঠিন কাজ, আবার বলব কঠিন নয়; যদি আমরা ওদের চেয়ে সেরাটা খেলতে পারি। কীভাবে খেলব বলতে চাই না। তবে ডিফেন্সিভ খেলে ফাইনাল জেতা কঠিন।’
গোলকিপার আমিনুল ইনজুরির কারণে খেলতে পারছেন না। অধিনায়ক মারুফ আহমেদও একই কাতারে। যদিও তা পরিষ্কার নয়। অধিনায়ক নিজেই ম্যাচ নিয়ে বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে ফাইনালে উঠতে পেরেছি। এখন তা জিততে চাই। ধীরে ধীরে আমরা ব্যালান্সড দল হয়ে উঠেছি।’ তারপর এ মিডফিল্ডারের সাহসী উচ্চারণ, ‘ওদের যদি সনি নর্দে থাকে আমাদের আছে কিংসলে-এনকোচা। লড়াইটা সমানে সমান হবে বলে আমার বিশ্বাস। যদি আমাদের গোলমুখ ওরা উন্মুক্ত করতে না পারে তাহলে জিততেও পারি। অসম্ভব কিছু নয়।’
ভাগ্য কার পক্ষে রায় দেয়-সেটাই এখন দেখার!

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ