Home / খেলা / মুশফিকদের একাই হারালেন নাসির

মুশফিকদের একাই হারালেন নাসির

৩১ বলে ৬২ রান ২১ রানে ২ উইকেট
স্পোর্টস রিপোর্টার: ৩০ বলে দরকার ৫১। হাতে ৬ উইকেট। ক্রিজে ‘এ’ দল অধিনায়ক নাসির হোসেন ও অলরাউন্ডার সাব্বির রহমান রুম্মন। ওভারপ্রতি লক্ষ্যমাত্রা দশের ওপর। রানের লাগাম টেনে ধরতে হবে। অনেক ভেবে অফ স্পিনার সোহাগ গাজীর হাতে বল তুলে দিলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। কে জানত বল হাতে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠা সোহাগ গাজীর ওপর দিয়েই বয়ে যাবে টর্নেডো? ১৬ নম্বর ওভারে গড়ে উঠবে ম্যাচ ভাগ্য? সোহাগ গাজীর ওপর দিয়ে সত্যিই ঝড় বয়ে গেল। তার সেই ওভারে উঠল (১+৪+ ১+৬+ওয়াইড ২+২+৬+) = ২২ রান। ‘এ’ দল অধিনায়ক নাসির একটি করে বাউন্ডারি ও ছক্কাসহ তুলে নিলেন ১৩। এক ছক্কায় সাব্বিরের ব্যাট থেকে এলো ৭। আর ওয়াইড ডেলিভারিতে দৌড়ে ডাবল। তাতেই হিসাব সহজ হয়ে গেল।
ওভারপিছু লক্ষ্যমাত্রা চলে এলো হাতের মুঠোয়। পরের ২৪ বলে ২৯ রান আর এমন কী? রানের নেশায় পেয়ে বসা নাসির ছুটে চললেন উল্কার গতিতে। ঠিক ২০০ স্ট্রাইকরেটে হাফসেঞ্চুরি। আর পরের ছয় বলে আরও ১২ রান। অন্য প্রান্তে সাব্বির স্বভাবসুলভ হাত খুলে খেলা বাদ দিয়ে সহায়ক ভূমিকায় (১৪ বলে অপরাজিত ১৫)। ব্যস, তাতেই কাজ হয়ে গেল।
১৬৭ রানের পিছু ধেয়ে নয় বল আগেই ৬ উইকেটের সহজ জয়ে নাচতে নাচতে মাঠ ছাড়লেন নাসির। এরই সঙ্গে তিন ম্যাচের ওয়ার্মআপ সিরিজ ২-০ তে জিতে ‘চ্যালেঞ্জ কাপ’ হয়ে গেল ‘এ’ দলের।
বল হাতে ২১ রানে ২ উইকেটের পর মাত্র ৩১ বলে অপরাজিত ৬২ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস-টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে ম্যাচসেরার জন্য যথেষ্ট। ‘এ’ দল অধিনায়ক কাল শেরেবাংলায় ব্যাট ও বল হাতে জ্বলে সে পুরস্কারই পেলেন। সাব্বির ছাড়া মিঠুন (৩৩ বলে ৩৭), মমিনুল (১৮ বলে ২৪) ও ইমরুলও (১১ বলে ১৬) রেখেছেন কার্যকর অবদান। তাদের দৃঢ়চেতা ব্যাটিংয়ের কাছেই টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হার জাতীয় দলের।
নাসির যেভাবে দল জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন, প্রথম সেশনে জাতীয় দলের সেট ব্যাটসম্যানের কেউ শেষ বল পর্যন্ত ক্রিজে থাকলে হয়তো চিত্র অন্যরকম হতে পারত। কিন্তু কেউ তা পারেননি। শুরু ছিল দারুণ। প্রথম ২৫ বলে ৫০, আর পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ১ উইকেটে ৬৩। কিন্তু এনামুল, সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক মুশফিকের কেউ বড় ইনিংস খেলতে না পারায় ধীরে ধীরে রানগতি কমে যায়। যে কারণে স্কোর আটকে থাকে ১৬৭ তে।
এর মধ্যে ওপেনার এনামুল আর অধিনায়ক মুশফিক সম্ভাবনা জাগিয়েও তিরিশের ঘরে আউট। আর শামসুর রহমান শুভর জায়গায় ওপেন করার সুযোগে চমত্কার শুরু করা সৌম্য সরকার নিজের ভুলেই হয়েছেন রান আউট। আলাউদ্দিন বাবুর পরপর দুই বলে অফ ও অন ড্রাইভে বাউন্ডারির পর এ বাঁহাতি ফিরে গেছেন মাত্র আট বলে ১৩ রান করে। সঙ্গী এনামুল হক বিজয় মিড অনে ঠেললে সৌম্য দৌড়ে কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে আর ফিরতে না পেরে রান আউট। ১৮ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর শুরু হয় এনামুল ও মুশফিক ঝড়। এ জুটি দীর্ঘ হলেই জাতীয় দলের ইনিংসের চেহারা পাল্টে যেত। আলাউদ্দিন বাবুর করা চতুর্থ ওভারে (৪+০+৪+৬+২+৪) ২০ রান নেওয়া এনামুল অবশ্য নিজের ভুলে আউট হননি। তাকে ফেরানোর কৃতিত্বটা ‘এ’ দল বোলার ফরহাদ রেজার। আজকাল বুদ্ধি দিয়ে বিশেষ করে ব্যাটসম্যানের মতিগতি দেখে বল করার চেষ্টা করছেন তিনি। আগেই সামনের পায়ে কমিটেড এনামুলকে এগিয়ে আসতে দেখে লেংথে একটু টেনে স্লোয়ার ডেলিভারি দেন ফরহাদ। এনামুল আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে লং অন বাউন্ডারির ১০ গজ আগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ১৮ বলে ৩৯ করা এনামুল আউট হওয়ার আগে দ্বিতীয় উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে মাত্র ৩.১ ওভারে তুলে দেন ৪৪। অধিনায়ক মুশফিকও নিজের মতোই খেলছিলেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয়বার তার পথে বাধা হন ‘এ’ দলের অধিনায়ক নাসির। আগের দিন ৩৩ রান করে নাসিরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে কিপারের গ্লাভসে ক্যাচ দেওয়া বাংলাদেশ অধিনায়ক কালও ২৪ বলে ৩৬ রান করার পর সেই নাসিরকে কাট করতে গিয়ে কট বিহাইন্ড। শেষদিকে মাহমুদউল্লাহ (৩০ বলে ৩৮) আর জিয়া (১৬ বলে ২১) হাত খুলে খেলায় চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় জাতীয় দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর : জাতীয় দল : ১৬৭/৯, ২০ ওভার (এনামুল ৩৯, মুশফিক ৩৬, মাহমুদউল্লাহ ৩৮*; নাসির ২/২১, আরাফাত সানি ২/৪২, ফরহাদ রেজা ১/১৯, ইলিয়াস সানি ১/২০)। ‘এ’ দল : ১৭১/৪, ১৮.৩ ওভার (ইমরুল ১৬, মিঠুন ৩৭, মমিনুল ২৪, নাসির ৬২*, সাব্বির ১৫*; রুবেল ২/৩০, মাশরাফি ১/২৮, আল-আমিন ১/২৫)। ফল : ‘এ’ দল ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : নাসির হোসেন। –

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ