Home / খেলা / আকরামের চেয়ারে ফারুক, নাখোশ মিনহাজুল

আকরামের চেয়ারে ফারুক, নাখোশ মিনহাজুল

আকরাম খানের চেয়ারে বসবেন কে? কে হবেন নতুন প্রধান নির্বাচক? মিনহাজুল আবেদিন নান্নু নাকি ফারুক আহমেদ? এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গুঞ্জন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এ গুঞ্জন ডালপালা গজিয়েছে আরও। শেষ পর্যন্ত এ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল। মিনহাজুল আবেদিন নান্নু নন, ভায়রা আকরাম খানের চেয়ারে বসছেন ফারুক আহমেদ। জাতীয় দলের এ সাবেক অধিনায়ককেই নতুন প্রধান নির্বাচক হিসেবে বেছে নিয়েছে বিসিবি। গতকাল বিকেলে বিসিবির জরুরি সভা শেষে বোর্ডপ্রধান নাজমুল হাসান পাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান নির্বাচক হিসেবে ফারুক আহমেদের নাম ঘোষণা করেন।
এর আগে সর্বশেষ বোর্ড সভায়ও প্রধান নির্বাচক মনোনয়ন নিয়ে কথা হয়েছিল। সেখানে মিনহাজুল আবেদিনের সঙ্গে ফারুক আহমেদের নামও উঠে আসে। কিন্তু চূড়ান্ত মনোনয়ন হয়নি। বিসিবি বস জানান, পরিচালকরা তার ওপরই প্রধান নির্বাচক মনোনয়নের দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তা না করে সবার মতামতের ওপর ছেড়ে দেন। পরিচালকদের বড় অংশ ফারুকের পক্ষে মত দেন। তাই বোর্ড ফারুককেই প্রধান নির্বাচক হিসেবে বেছে নিয়েছে।
১৯৯৪ সালে কেনিয়ায় আইসিসি ট্রফির ব্যর্থ মিশনে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন ফারুক। জাতীয় দলের নেতৃত্বে সাফল্যের ছোঁয়া না পেলেও প্রধান নির্বাচক হিসেবে ফারুক আহমেদ যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছেন।
এর আগে ২০০৩ থেকে ’০৭-টানা চার বছর প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। তখন তার সঙ্গে জাতীয় দলের দুই সাবেক সদস্য আতহার আলী ও জিএম নওশের প্রিন্সও ছিলেন। এখন যারা জাতীয় দলের তিন স্তম্ভ-মুশফিক, সাকিব ও তামিম তার আমলেই জাতীয় দলে প্রথম সুযোগ পান।
এবার ফারুক সহযোদ্ধা হিসেবে পাচ্ছেন বন্ধুপ্রতিম মিনহাজুল আবেদিন ও ক্লাব ক্রিকেটের সাবেক সহযোগী হাবিবুল বাশার সুমনকে। ফারুক নিজেও জানতেন তাকে প্রধান নির্বাচক করার কথা চলছে। তাই দায়িত্ব প্রাপ্তিতে অবাক হননি। তা ফুটে উঠল কথাবার্তায়। বোর্ড তাকে বিবেচনায় এনেছে, তার প্রতি আস্থা রেখেছে-এজন্য বেশ খুশি ফারুক। বিসিবিপ্রধান ও বোর্ড পরিচালকদের ধন্যবাদ জানাতে ভুল করেননি।
প্রধান নির্বাচকের পদ সবসময়ই কঠিন। ফারুকের ভাষায় চ্যালেঞ্জিং। তাই তো তিনি এ কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। তার ভাষায়-‘১০ বছর আগে আমি যখন প্রথম দল নির্বাচনের দায়িত্ব পাই তখন জাতীয় দল আজকের অবস্থায় ছিল না। দল হিসেবে তখনও বেশ অগোছালো ছিল বাংলাদেশ। কাজেই তখন প্রথম কাজ ছিল দলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। ধীরে ধীরে উন্নতি করা। আর এখন দল একটা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এখন প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করা এবং দল হিসেবে একটা স্থিতিশীল অবস্থায় জায়গা করে নেওয়া। এখন আমরা প্রচুর ম্যাচ জিতছি। এতে করে প্রত্যাশাও বেড়েছে। এখন আমাদের সে প্রত্যাশা মিটিয়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেই সামনে এগোতে হবে।’
আরেক নির্বাচক হাবিবুল বাশার তার অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন অবলীলায়। সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ফারুক ভাই প্রধান নির্বাচক হওয়ায় আমি খুশি। তার নেতৃত্বে আমি ক্লাব ক্রিকেটে বিমানের হয়ে খেলেছি। আকরাম ও নান্নু ভাইয়ের মতো তিনিও আমার খুব কাছের বড় ভাই। আশা করছি আকরাম ভাই যেখানে রেখে গেছেন আমরা তিনজন মিলে আরও সামনে এগিয়ে যাব।’
কিন্তু আরেক নির্বাচক ও প্রধান নির্বাচকের অন্যতম দাবিদার মিনহাজুল আবেদিন সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, মিনহাজুল মনোক্ষুণ্ন। তার বিশ্বাস ছিল, তিনিই হবেন প্রধান নির্বাচক। সেই চেয়ারটা না পাওয়ায় নাখোশ। সকালের খবরের সঙ্গে আলাপে তার একটাই কথা-‘এখনই চরম মন্তব্য করতে চাই না। আগে ক্রিকেট অপারেশন্স ও বোর্ডের অন্যদের সঙ্গে কথা বলে নেই। তারপর আমার সিদ্ধান্ত জানাব।’
সেটা ইতিবাচক না নেতিবাচক, সেটাই দেখার।
কারণ তার ঘনিষ্ঠ মহলে চাপা গুঞ্জন-মিনহাজুল আর নির্বাচক কমিটিতে নাও থাকতে পারেন। পদত্যাগের ঘোষণাও দিয়ে ফেলতে পারেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ