Home / খেলা / টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে এখনই চিন্তিত নন পাপন

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে এখনই চিন্তিত নন পাপন

বিরোধী দলের অবরোধ তো আছেই, সঙ্গে জামায়াতের হরতাল-জানা খবর। গত কয়েক মাস এসবই চলছে। কিন্তু কাল সকালে একটি বিশেষ খবরে গোটা দেশ তোলপাড়। চারদিকে চাঞ্চল্য-সাত ম্যাচের সিরিজের ছয় ম্যাচ না খেলে দেশে ফিরে যাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
এমন নয় বাংলাদেশ থেকে আগে কখনও কোনো দল সফর, সিরিজ বা টুর্নামেন্টের মাঝপথে ফিরে যায়নি। ইতিহাস জানাচ্ছে-এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে তার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশ ত্যাগের ঘটনা এই প্রথম।
তবে দুটি ভিন্ন ইস্যুতে খেলা বন্ধ ও বিদেশি দলের ফিরে যাওয়ার নজির রয়েছে। যার প্রথমটি ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে। যেখানে চট্টগ্রামে স্থানীয় ক্রিকেট অনুরাগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ব্যবহারের মাসুল হিসেবে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। আর ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে উপমহাদেশে সৃষ্ট উগ্র সাম্প্রদায়িকতার দাবানলের কারণে পণ্ড হয়েছিল সার্ক ক্রিকেট। পরিত্যক্ত হয়েছিল ভারতীয় ‘এ’ ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের ম্যাচ।
কিন্তু টিম হোটেলে ককটেল বিস্ফোরণের পরদিন ফিরে যাওয়ার ঘটনা এই প্রথম। সামনে শ্রীলঙ্কা সফর। এরপর এশিয়া কাপ। আর মার্চে ক্রিকেটের অন্যতম জমজমাট ও বড় আমর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুব দল ফিরে যাওয়া মানেই আগামীতে বাংলাদেশে ক্রিকেটের আসর বসা নিয়ে সংশয়। সন্দেহ ও রাজ্যের শঙ্কা। বিশেষ করে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ আসরের ভবিষ্যত্ রীতিমতো হুমকিতে।
আগ্রাবাদ হোটেলে ককটেল চার্জ ও ক্যারিবীয় যুবাদের ফিরে যাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইমেজ ক্ষুণ্ন। সামনের দিনগুলোয় এ দেশে বিদেশি দলের খেলতে আসা নিয়ে নানা প্রশ্ন। এসব নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড? তা নিয়ে কাল বিকেলে কথা বলেছেন বিসিবিপ্রধান নাজমুল হাসান। তার পরিষ্কার উপলব্ধি ও অনুভব-টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বিশ্ব আসর আয়োজনের অন্যতম পূর্বশর্তই হল দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও শৃঙ্খলা। তার আশা, বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট ও অস্থিরতা থাকবে না। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সব ঠিক হয়ে যাবে।
ক্যারিবীয় যুব দলে ফিরে যাওয়া এবং দেশের ক্রিকেটে এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে বিসিবিপ্রধান বললেন, ‘আমরা আশা করছি আমাদের দেশে এখন যে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তপ্ত পরিবেশ বিরাজ করছে তা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই ঠিক হয়ে যাবে। আমার বিশ্বাস, মার্চে এ রকম অবস্থা থাকবে না। ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যেই অবস্থার উন্নতি শুরু হবে। আমি ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাই চিন্তিত নই। তবে যত দ্রুত রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে যাবে ততই মঙ্গল। কারণ শ্রীলঙ্কা সফর ও এশিয়া কাপ সামনেই। তার একটা সমস্যার সমাধান জরুরি। তারপরও এটা সত্যি, এখন যে অবস্থা চলছে তাতে বড় ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন রীতিমতো হুমকি। এ অবস্থা জানুয়ারির মধ্যেই ভালো হওয়া জরুরি।’
উইন্ডিজ যুব দলের দেশে ফেরার ঘটনা সম্পর্কে তার ধারণা সামান্য। কারণ তিনি বিদেশে ছিলেন। ফিরেছেন রোববার রাতে। তাই মুখে এমন সংলাপ, ‘আসলে আমি পুরো বিষয়ে ঠিক অবগত নই। আমি বিদেশে ছিলাম। রোববার ফিরেছি। আমি গতকাল সকালেই বিষয়টা জেনেছি। রোববার এসে জেনেছি ক্যারিবীয় যুবারা খেলতে রাজি হয়নি। পরদিন খেলবে। আর আজ (সোমবার) শুনলাম তারা এদিনও খেলবে না। এবং সম্ভবত সফরই বাতিল। দল ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটা একান্তই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের। সোমবার সকালে জানা গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড আমাদের একটি চিঠি দিয়েছে। যদিও তা আমার হাতে এখনও পৌঁছেনি। আমরাও তাদের জবাব দেব। যেহেতু সময়ের পার্থক্য বিস্তর তাই আমরা সন্ধ্যায় ক্যারিবীয় বোর্ডকে চিঠি দেব। আমরা জানতে চাইব তাদের অসন্তোষের জায়গাটা কোথায়? হ্যাঁ, এটা সত্যি রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। বোমাবাজির ঘটনাও ঘটছে। তবে আমরা এমন কথা জানাইনি যে, দেশে খেলা হওয়ার মতো অবস্থা নেই। আসলে ক্রীড়াঙ্গন সবসময়ই রাজনীতির বাইরে থেকেছে। তবে যা ঘটেছে, তার একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। যদিও এটা আমার অনুমান। আমাদের জানা জরুরি, কেন উইন্ডিজ দল ফিরে যাচ্ছে? তাদের উদ্দেশে করে তো আর ককটেল চার্জ হয়নি। ককটেল বিস্ফোরণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ ভালোই ছিল। যদি ক্যারিবীয় বোর্ড আমাদের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আপত্তি তোলে তাহলে আমরা প্রতিবাদ জানাব। তবে এটা যদি ক্যারিবীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিবেদন ও বাংলাদেশের বিরাজমান রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে হয়ে থাকে তাহলে কোনো কথা নেই। আমাদের দেখতে হবে ক্যারিবীয় যুব দল কোনো গ্রহণযোগ্য কারণে ফিরে যাচ্ছে কি না? দুই বোর্ডের মধ্যে কথাবার্তা চলাচালি হয়েছে কি না বলতে পারছি না। সফর বাতিলে আমরা বিব্রত হব কেন। যা হয়েছে তা আমাদের হাতে নেই। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সাহায্য চাইতে পারি। তাই বলে বিব্রত হতে পারি না।’

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ