Home / খেলা / ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা স্বপ্নের ফাইনাল!

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা স্বপ্নের ফাইনাল!

ফিরে এলো সেই মারাকানা স্টেডিয়াম। ১৯৫০ সালের দুঃসহ যন্ত্রণা। একদম জ্বলজ্যান্ত হেঁটে! অ্যালসিডেস এডগার্ডো ঘিগিয়া। গত ৬৩ বছর ধরে ব্রাজিলিয়ানরা এই নামটিকে স্মরণ করেছে ভয়াবহ ক্ষত হিসেবে। যে ক্ষত শুকোয়নি পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার প্রলেপের পরও। কীভাবে শুকোবে! মারাকানা স্টেডিয়ামে ১৯৫০ সালে উরুগুইয়ানদের আঘাতের গভীরতা যে আটলান্টিকের চেয়েও বেশি ছিল। সেই আঘাতকারী ছিলেন ঘিগিয়া। নতুন সূচনায় ৮৬ বছরের ঘিগিয়াকেই ব্রাজিলিয়ানরা দিল অভূতপূর্ব সম্মান। শুক্রবার বাহিয়া প্রদেশের কস্তা দু সুইপে রিসোর্টে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ছিলেন ১৯৫০ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ম্যাচে উরুগুয়েকে জয়সূচক গোল উপহার দেওয়া ঘিগিয়া। গত শতকের অপয়াকে মঞ্চে হাজির করে ব্রাজিলিয়ানরা কি ভবিষ্যৎটা পয়া করতে চাইল!

গতকাল নতুন ভোরে ফুটবল ভক্তরা অংশ নিল চরম বিতর্কে। মঞ্চটা প্রস্তুত করে দিয়েছে ফিফা। তবে কি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাই ফাইনাল খেলছে! বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্ব ফুটবলের তাবৎ ফুটবল ভক্তরা স্বস্তির সঙ্গে লক্ষ্য করছে ফাইনালের আগে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এ গ্রুপে স্বাগতিক ব্রাজিলের সঙ্গী মেক্সিকো , ক্রোয়েশিয়া ও ক্যামেরুন। এফ গ্রুপে আর্জেন্টাইনরা মুখোমুখি হবে ইরান, নাইজেরিয়া ও বসনিয়ার। বড় ধরনের অঘটন না ঘটলে ফুটবলীয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে বলে দেওয়া যায় দুই ল্যাটিন পরাশক্তিই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে চলেছে। এর অর্থই হচ্ছে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া। শর্ত হলো, দুই দলকেই সব পরীক্ষায় উতরে যেতে হবে। তবে দুই দলের কোনো একটি দল গ্রুপপর্বে যদি রানার্সআপ হয় সেমিফাইনালে দেখা হবে ল্যাটিন দুই চির প্রতিপক্ষের। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল। বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য এর চেয়ে বেশি আর কি চাইবার থাকতে পারে! এই ধ্রুপদী ফাইনাল দেখার জন্য শত বছর ধরে অপেক্ষায় থাকলেও তো ক্লান্তি আসার নয়। ব্রাজিলের সামনে অবশ্য ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে। গ্রুপ পর্ব উতরে গেলেও শেষ ষোলতেই তাদের মুখোমুখি হতে হবে স্পেন অথবা নেদারল্যান্ডের। গত বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট এবার খেলবে বি গ্রুপে। তাদের সঙ্গী অঘটন পটিয়সী ল্যাটিন দল চিলি। আছে অস্ট্রেলিয়াও।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের জন্য গ্রুপ পর্ব পাড়ি দেওয়া সহজ হবে না। জার্মানি ছাড়াও জি গ্রুপে পর্তুগালের সঙ্গে রয়েছে ঘানা এবং যুক্তরাষ্ট্র। বুয়েটাঙ ভাইয়েরা আরও একবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পেলেন। গতবার ডি গ্রুপে জার্মানি ও ঘানা মুখোমুখি হয়েছিল। নতুন করে এবারে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন সাবেক দুই জার্মান সতীর্থ। যুক্তরাষ্ট্রের কোচ জার্গেন ক্লিন্সম্যান ও জার্মানির কোচ জোয়াকিম লো। লিওনেল মেসিদের গ্রুপটা সহজই হয়েছে। বসনিয়া, ইরান ও নাইজেরিয়া। এফ গ্রুপ থেকে আর্জেন্টিনার সঙ্গী অন্য তিনটির যে কোনো একটা হতে পারে। শেষ ষোলতেও আর্জেন্টিনাকে খুব বড় হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে না। ফ্রান্স কিংবা ইকুয়েডর হতে পারে তাদের নকআউট পর্বের প্রথম প্রতিপক্ষ। জি গ্রুপে পর্তুগাল রানার্সআপ হলে কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা হতে পারে মেসি-রোনালদোর! ফেভারিট জার্মানির জন্য সেমিফাইনালের পথ একদম উন্মুক্ত। রাশিয়া কিংবা বেলজিয়াম হতে পারে তাদের শেষ ষোলর প্রতিপক্ষ। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ হতে পারে ফ্রান্স। ভয়ের রাজ্যে বাস করতে গিয়ে ইংলিশরা সত্যিই শিকার হলো দুর্ভাগ্যের। ‘ডি ফর ডেথ’কে সত্যি করে ডি গ্রুপের কুয়াতে নিক্ষিপ্ত হলো সাবেক তিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। ইতালি, উরুগুয়ে ও ইংল্যান্ড। সঙ্গে কোস্টারিকা। ডি গ্রুপ থেকে ইতালি, উরুগুয়ে ও ইংল্যান্ডের যে দুটিই নকআউট পর্বে যাক, তাদের বড় বাধার মুখে পড়তে হবে। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পথটা সহজ হলেও এর পরই তাদের ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার মতো দলের মুখোমুখি হতে হবে।

চূড়ান্ত হয়ে গেছে পক্ষ-প্রতিপক্ষ। এবার কি! প্রস্তুতি তো আছেই। সেই সঙ্গে চলবে কথার লড়াইও। এরই মধ্যে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে বলে দিয়েছেন, ব্রাজিল ফাইনাল খেলবে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং নেদারল্যান্ডের সাবধান হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এ দুটির কোনো একটাকে ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে হবে দ্বিতীয় রাউন্ডেই!

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ