Home / খেলা / মৃত্যু গ্রুপে ৩ চ্যাম্পিয়নের লড়াই

মৃত্যু গ্রুপে ৩ চ্যাম্পিয়নের লড়াই

d+groupএ পর্যন্ত যে আটটি দেশ বিশ্বকাপ জিতেছে তার সবগুলোই আছে ব্রাজিল বিশ্বকাপে- এটা যদি স্বস্তির খবর হয় তো এর উল্টো পিঠও আছে। শুক্রবার বিশ্বকাপের অতি গুরুত্বপূর্ণ ড্রর পর এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে, আট চ্যাম্পিয়নের অন্তত একটির স্বপ্নের মৃত্যু হবে নক-আউট রাউন্ডে উঠতে না পেরে।

আর এখানেই আসে ‘গ্রুপ অব ডেথ’ প্রসঙ্গটি, ‘ডি’ গ্রুপের চার দলের তিনটিই যে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এর মধ্যে ইতালি বিশ্বকাপ জিতেছে চারবার, উরুগুয়ে দুবার আর ইংল্যান্ড একবার। গ্রুপের অন্য দল কোস্টা রিকা।

শক্তির বিচারে এই গ্রুপের চেয়েও কঠিন গ্রুপ আছে কিনা তা নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তোলা যায়, কিন্তু সাবেক চ্যাম্পিয়নদের স্বপ্নের সমাধি রচনার বিবেচনায় গ্রুপের আদ্যক্ষর মিলিয়ে ‘ডি’ গ্রুপকে মৃত্যু গ্রুপের উপাধি দিতেই হয়।

২০১০ সালের বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালিস্ট উরুগুয়ের সঙ্গে প্রথমেই ইউরোপের পুল থেকে লটারির মাধ্যমে দলছূট ইতালি পড়ার পরই বোঝা যাচ্ছিলো এই গ্রুপটা হতে যাচ্ছে কঠিন গ্রুপ। তৃতীয় দল হিসেবে কোস্টারিকা আসার পর লটারিতে শেষ দল হিসেবে ইংল্যান্ডের নাম উঠতেই নিশ্চিত হয়ে যায়, গ্রুপ পর্যায় থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছে অন্তত একটি সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল।
এই তিনটি দেশ বিশ্বকাপ জিতেছে মোট সাতবার। উরুগুয়ে যদি বর্তমান কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হয় তবে ইতালি ইউরো-২০১২ এর রানার্স-আপ, গ্রুপে এই দুই দলকে তো এগিয়ে রাখতেই হয়। বড় আসরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাফল্য না পেলেও ইংল্যান্ড কিন্তু বাছাইপর্বে কোনো ম্যাচ না হেরেই ব্রাজিলের টিকেট পেয়েছে। আর উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের বাছাই পর্ব থেকে সরাসরি আসা কোস্টারিকাকেও হালকাভাবে নেয়ার উপায় নেই।
চার দলের কোচের বক্তব্যেও এসেছে তিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের এক সঙ্গে পড়ার বিষয়টি।

ড্রর পর বাস্তবতা মেনেই নিয়েছেন ইতালির কোচ সেজারে প্রানদেল্লি, “আপনি তিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে এক গ্রুপে সব সময় দেখবেন না, এর জন্যই তো বিশ্বকাপ এত স্পেশাল।”

গ্রুপ পর্যায়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতো তাপমাত্রা আর ভ্রমণক্লান্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে এখন থেকেই ভালোভাবে প্রস্তুতি শুরু করার কথা জানালেন তিনি।
ইংল্যান্ডের গণমাধ্যমগুলোর মতো ‘হায় হায়’ রব নেই কোচ রয় হজসনের কথায়। প্রতিপক্ষের দলগুলোতে বিশ্বমানের ফুটবলাররা আছে দেখে কিঞ্চিত চিন্তিত তিনি। তবে নিজের দলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে লড়াইয়ে আশাবাদী হজসন।

যা হয়েছে তা মেনে নিয়ে উরুগুয়ের সহকারী কোচ সেলসো ওতেরো বললেন টুর্নামেন্টটি উপভোগ করার কথা।

তিন সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে নিজেদের গ্রুপে পেয়ে ভীত নন কোস্টা রিকার কোচ হোর্হে লুইস পিন্তো। এতে নাকি টুর্নামেন্টে ভালো করার স্পৃহা আরো বেড়ে গেছে মধ্য আমেরিকার দলটির।

মুখোমুখি লড়াই

ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের প্রথম চারটি শিরোপা কিন্তু ভাগ করে নিয়েছে উরুগুয়ে আর ইতালি। ১৯৩০ সালের উদ্বোধনী আসর জেতার পর চতুর্থ বিশ্বকাপও জিতে নেয় উরুগুয়ে। মাঝের দুইটি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে ইতালি। তবে বিশ্বকাপে প্রথম এই দুই দেশ মুখোমুখি হয় ১৯৭০ সালে। ম্যাচটি ড্র হলেও নিজেদের মাঠে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল ইতালি।

এই ব্রাজিলেই গত কনফেডারেশন্স কাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ২-২ গোলে সমতার পর টাইব্রেকারে উরুগুয়েকে হারিয়েছিল ইতালি। প্রায় এক বছর পর এই ব্রাজিলেই মুখোমুখি হচ্ছে দল দু’টি তারা। ম্যাচটি গ্রুপের শেষ রাউন্ডের বলে হয়ে উঠতে পারে নক-আউট পর্বে ওঠার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৫৪ সালের সুইজার‌ল্যান্ড বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি লড়াইয়ে উরুগুয়ে ৪-২ গোলে হারিয়েছিলে ইংল্যান্ডকে। এই ম্যাচের ৬০ বছর পুর্তিতে লড়াইটা ফিরে আসছে সাও পাওলোতে।
আর ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাটিতে একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পথে উরুগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল ইংল্যান্ড।

ইউরোপের দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও ইতালি মুখোমুখি হয়েছে ২৪ বার। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায় ইতালির কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল ‘থ্রি লায়ন্স’। আর ইউরো-২০১২ এ শেষ বারের লড়াইয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে ইতালির কাছে পেনাল্টিতে হেরে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ড আগে কখনই কোস্টা রিকার মুখোমুখি হয়নি। ইতালি একটিমাত্র ম্যাচ খেলেছে তাদের সঙ্গে। ১৯৯৪ সালের সেই প্রীতি ম্যাচে জিতেছিল ‘আজ্জুররি’রা।

উরুগুয়ের সঙ্গে আটটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে একবারও জিততে পারেনি কোস্টা রিকা। তাদের প্লে-অফে হারিয়েই গত বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছিল তারা।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ