Home / খেলা / আফগান ‘জুজু’ দেখেন না মুশফিকেরা

আফগান ‘জুজু’ দেখেন না মুশফিকেরা

‘বাংলাদেশের কন্ডিশনে আয়ারল্যান্ডের চেয়ে আফগানিস্তান কি একটু কঠিন হয়ে গেল?’ প্রশ্নটা শুনে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন সাকিব আল হাসান, ‘বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যেন কোন দল?’ পরে মৃদু হাসিতে বললেন, ‘দুবাইয়ের কন্ডিশন কিন্তু আমাদের মতোই। ওখানে আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আয়ারল্যান্ড। আমি ভাবনার কিছু দেখি না।’

অনেকে বলতে পারেন সাকিবের ধরনটাই এমন। ভয়-ডর বলে কিছু তাঁর দর্শনেই নেই। কিন্তু অন্যরা? মাশরাফি বিন মুর্তজা যেমন আফগানিস্তান বলে আলাদা করে ভাবছেনই না। দুই দলের একটিকে গ্রুপসঙ্গী বেছে নিতে বললে আবদুর রাজ্জাক নাকি টস করতেন! আর ভয়-শঙ্কার কথা শুনে তো হো হো করে হেসে উঠলেন নির্বাচক হাবিবুল বাশার। বললেন, ‘আমি তো ভাবছি মূল পর্বের আগে প্রাথমিক পর্বটা ম্যাচ অনুশীলনের ভালো সুযোগ!’মুশফিকুর রহিম

কথায় বলে যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই রাত হয়। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে প্রাথমিক পর্ব খেলতে হবে, এটা জানার পর থেকেই কৌতূহল বাংলাদেশের গ্রুপসঙ্গী হতে যাচ্ছে কোন কোন দল। কৌতূহলের বেশিটাই শঙ্কা, আফগানিস্তান থাকবে না তো বাংলাদেশের গ্রুপে? এই কন্ডিশনে আফগানদের অভ্যস্ততা আর তাঁদের ভয়-ডরহীন ক্রিকেটই শঙ্কাটা জাগায়। সেটি সত্যি হওয়ার পর দেশের ক্রিকেটমহল থেকে শুরু করে আপামর সমর্থকদের মনে জায়গা নিচ্ছে হতাশা, সংশয়। প্রাথমিক পর্বেই বিদায় হলে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যেতে পারে ৫ দিনেই। গ্রুপে আফগানিস্তান থাকায় এখন সেই পাঁচ দিনের শঙ্কা নেমে এসেছে এক দিনে। প্রথম দিনই বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচ। ওই ম্যাচে হারলেই তো বিদায় একরকম নিশ্চিত। হংকং, নেপালদের নিয়ে কে ভাববে! তবে আশার কথা, মাঠের লড়াইয়ে নামবেন যাঁরা, তাঁরা একেবারেই নিঃশঙ্ক। মুশফিকুর রহিম যেমন আস্থা রাখছেন নিজেদের সামর্থ্যে, ‘আফগানিস্তান ভালো খেলেছে। তবে আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে ওদের হারাতে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলায় ওদের সম্পর্কে আমাদের ভালো ধারণাও আছে। আশা করি, প্রাথমিক পর্ব টপকাতে সমস্যা হবে না।’

অধিনায়ক বলেই হয়তো একটু রাখঢাক রেখে বলেছেন মুশফিক। সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের কোনো রাখ-ঢাক নেই, ‘আয়ারল্যান্ড-আফগানিস্তান নিয়ে আমি আসলে ভাবছিই না। আগেরবার আমাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে দুই ম্যাচেই। এবার আসল লড়াইয়ের আগে প্রাথমিক পর্ব খেলে আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারব। আফগানিস্তান হোক বা আয়ারল্যান্ড, প্রতিপক্ষের প্রতি আমাদের প্রাপ্য সম্মান থাকবে। কিন্তু ভয়ের তো প্রশ্নই ওঠে না।’

মাশরাফি বিন মুর্তজাভয়-শঙ্কাজাতীয় কিছু মুখেই আনতে চান না সাকিব, ‘দেখুন যত বেশি ভয়, তত বেশি ক্ষতি হবে আমাদেরই। আফগানিস্তান বলে আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। আমরা যেমন দল, যেভাবে খেলছি তাতে প্রাথমিক পর্বের সব ম্যাচ আমাদের এমনিতেই জেতার কথা।’ আফগানিস্তানের কাছে হারলেই আশা শেষ, এই ভাবনাতেও দ্বিমত আছে সাকিবের, ‘আফগানিস্তান তো পরে হংকং, নেপালের কাছে হারতে পারে, তাই না?’

প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান বলে শঙ্কা যাঁদের বেশি, তাঁদের জন্য আশার বাণী শোনাচ্ছেন আবদুর রাজ্জাক, ‘প্রথম ম্যাচ আফগানিস্তান হওয়াতেই তো ভালো হয়েছে! ওদের কয়েকজন হয়তো আমাদের লিগে খেলেছে, তার পরও নতুন জায়গায় এসে শুরুতেই মানিয়ে নেওয়া সব সময়ই কঠিন। এটা বরং আমাদের পক্ষেই থাকবে।’

প্রতিপক্ষ নিয়ে শঙ্কা নেই মাশরাফির। বরং শঙ্কা জাগছে তাঁর ওই ‘শঙ্কা’ শব্দটি নিয়েই, ‘ক্রিকেট ভীষণ মানসিক একটা খেলা। আমাদের ভেতরে যদি এখন আফগানিস্তানকে নিয়ে শঙ্কার ভূতটা ঢুকে যায়, তাহলে স্বাভাবিক খেলা মুশকিল হবে। আর মনে কোনো ভয় না থাকলে কোনো সমস্যা হবে না।’ একই সতর্কতা নির্বাচক হাবিবুলের কণ্ঠেও, ‘মিডিয়া থেকে শুরু করে সবাইকে অনুরোধ করব যেন আফগানিস্তান রব বেশি তোলা না হয়। বেশি বেশি বলা হলে অযথাই ছেলেরা চাপে পড়ে যাবে।’ হাবিবুলের কথা সত্যি। আবার এটাও সত্যি, ওই ১৬ মার্চের দিকে তাকিয়ে এখন সবাই। উদ্বোধনী দিনেই হয় মিলবে মূলপর্বের টিকিট কিংবা শেষ হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ!

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ