Home / ফিচার / পিলখানা ট্রাজেডির পর এবার টার্গেট সেনাবাহিনী

পিলখানা ট্রাজেডির পর এবার টার্গেট সেনাবাহিনী

অধ্যাপক ওমর ফারুকঃ সিকিমের প্রাক্তন রাজা লেন্দুপ দর্জির কয়েকটি মন্তব্য ছিল সেগুলো এ লেখা লিখতে গিয়ে এখন বেশি করে স্মরণে আসছিল। লেন্দুপ দর্জি জীবনের পড়ন্ত বেলায় অত্যন্ত আক্ষেপ করে কয়েকটি কথা বলেছিলঃ ”সিকিমকে ভারতের হাতে তুলে দিতে হেন চেষ্টা নেই যা আমি করিনি। কিন্তু কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নয়দিল্লি আমাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে”। সাপ্তাহিক জন আস্থা পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়ে লেন্দুপ দর্জি বলেন, “আগে নয়াদিল্লিতে আমাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করা হতো। এখন ভারতের দ্বিতীয় সারির নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করতেও আমাকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়”।

২০০০ সালে অপর এক সাক্ষাৎকারে লেন্দুপ দর্জি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী জওয়াহের লাল নেহরু ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নয়াদিল্লিতে এক সময় আমাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতেন। কিন্তু রাজনৈতিক মঞ্চে কাজ শেষ হলে আমাকে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করা হয়”।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হ্য় বাংলাদেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী (মেয়াদ অলরেডি শেষ হয়ে গেছে, নিজে নিজের স্বার্থে সংশোধিত সংবিধানের আওতায় বর্দ্ধিত সময়ের জন্য অনির্বাচিত ও জনগণের ওপর ছাপিয়ে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনার এখন আর কোন উপায় নেই। নিজের সবকিছুই ভারত মাতার কাছে সঁপে দিয়ে সেরেছেন। অপরাধীদের ক্ষেত্রে নিয়মই হচ্ছে, যারা অপরাধ করে এবং এসব অপরাধ করতে যারা মাস্টার মাইন্ড হিসেবে কাজ করে, সে মাস্টার মাইন্ডরা যাদের দিয়ে অপরাধ সংঘটিত করায়, তাদের এমন অবস্থাতে উপনীত করায় যাতে সে অবস্থা থেকে পেছনে ফিরে আসার পথ না থাকে। দুর্ভাগ্যক্রমে বর্তমানে শেক হসিনার অবস্থাও সে রকম হয়েছে। গুনিজনেরা বলেঃ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হচ্ছে- ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না।

যেখানে সারা দেশ জ্বলছে, একজন ঘৃণিত প্রধানমন্ত্রী ও তার ভাড়াটে দলবল এক পাশে এবং আরেক পাশে সারা বাংলার দেশপ্রেমিক জনগণ। এখন মূলত্ঃ বাংলাদেশ এভাবেই বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

নরপশুদের হামলায় কলংকিত হল বাংলাদেশের উচ্চ আদালত ও জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাংগনও

শেষাবধি জনগণের আন্দোলনকে দাবিয়ে রাখতে এবার নরপশুদের হামলায় কলংকিত হল বাংলাদেশের উচ্চ আদালত ও জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাংগনও।সাংবাদিকতার সুবাদে এ দু‘টি প্রতিষ্ঠানেই আমার বেশি যোগাযোগ ছিল। আমি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়েনের (ডিইউজে) নির্বাহী সদস্য হিসেবে ২০০৪-২০০৬ সেশনে দায়িত্ব পালনকালে ডিইউজে এর ভারতীয় লেজুড়বৃত্তির অংশ এর প্রতিনিধিত্বকারী নেতৃবৃন্দ বারবার আামদের অনুরোধ করেছিল যে, যাতে করে ডিইউজে-এর দু‘অংশ একত্রিত হতে পারে এবং পেশাগত সংগঠনের নিজেদের মধ্যে বিভক্তি থাকতে পারে না। আমি এবং ডিইউজে (বাংলাদেশপন্থী)এর বর্তমান সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম প্রধানসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দও চেষ্টা করেছিলাম। সে চেষ্টার সাথে আলতাফ মাহমুদও খুবই আন্তরিক ছিলেন। ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে এ বিষয়ে তোন কোন আগ্রহী দেখা যায় নি। এবার তো ডিইউজে এর ভারতীয় লেজুড়বৃত্তির অংশ এর প্রতিনিধিত্বকারী নেতৃবৃন্দ এর সরাসরি তত্তাবধানে প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের নিয়মতান্ত্রিক সমাবেশে অস্ত্র ও লাঠিসোটাসহ হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে ১৬ জুনের চেয়েও আরও একটি শুধু কালো দিবস নয়,বরং বর্বরত ও পশুত্বের নতুন আরেকটি ঘৃণ্য দিবসের সূচনা হল। এ হামলায় সরাসরি নেৃতত্ব দিয়েছে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও কথিত সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

আওয়ামি লিগ এখন জনতার ভয়ে দিশেহারা

আওয়ামি লিগ জনতার ভয়ে এখন এত বেশি দিশেহারা যে কি করতে যে কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না। আমি ভাবছি ক্ষমতায় থাকতেই যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হবার পর কোথায় যাবে? সে নিয়ে দেশে বিদেশে সচেতন মহলে জোর আলোচনা চলছে। ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি‘ এর নাম শেোনার পরই শেখ হাসিনা দেমের সবকিছু বন্ধ করে দিলেন। যে অবরোধ করছিল এতদিন বিরোধীদল, বিরোধীদলের কর্মসূচিকে প্রকারান্তরে সমর্থনই দিলেন এবং স্বীকৃতি দিলেন। বিরোধীদলের এ অপ্রতিরোধ্য কর্মসূচি প্রতিরোধ করতে বাছাই করা ৫০হাজার দলবাজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নামে সাবেক দলীয় ক্যাডার ছাড়াও আওয়ামি লিগ, যুবলিগ, ছাত্রলিগসহ সকল লিগের মাস্তানদের মাঠে নামাল অস্ত্রসহ। মার্চ ফর ডেমোক্রেসি তে যাতে যোগ দিতে না পারে সেজন্য বাসার গেটেই খালেদা জিয়াকে ২৯ তারিখে যেমন আটকে দেওয়া হল, ৩০ ডিসেম্বরও তাই করা হল।

খালেদা জিয়াও উদাত্ত কণ্ঠে শেখ হাসিনাকে লেন্দুপ দর্জির ইতিহাস পড়ে বিদায় নিতে পরামর্র্শ দিলেন। ‘বিডিআর ও আলেম হত্যাসহ অসংখ্য মানুষের স্বজনের চোখের পানি বৃথা যেতে পারে না’, বলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

একটি অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদলের আন্দোলনকে সফল করতে মনে হয় তাদের কমর্র্সূচি বাস্তবায়নে আওয়ামি লিগই সারা দেশের সাথে যোগযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলো। কী হবে? এবার আসবে নতুন নামে নতুন আন্দোলন। কত দিন দেশ অচল

রাখবে আওয়ামিলীগ ? আওয়ামি লিগকে এভাবে কতদিন ভারত সাহায্য করবে? কতদিন পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব সাহায্য করবে? এরপর এলাকায় এলাকায় গদা মারা শুরু করবে দেশের মানুষ। কেননা আওয়ামি লিগে এখন একটি দেশবিরোধী ও নাস্তিকদের সংগঠন হিসেবে্ মোটামুটিভাবে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এলাকার পাবলিক এখন তো আর এভাবে আনচ্যালেঞ্জড ছেড়ে দেবে না। পুলিশ ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী হিসেবে দাবীদার সংস্থাগুলো কতদিন গুলি চালোবে নিজেরই আপনজনের ওপর। এখন তো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নেই। এখন আওয়ামি হানাদার বাহিনী।

ইতোমধ্যে এমপি, মন্ত্রীরা তো পাবলিকের জুতা, থুথু ও জাড়ূ পেটা সবই হজম করে বহাল তবিয়তে জিন্দিগি গুজরাণ করে যাচ্ছে। লজ্জা শরম এসব বাংলা কোন ডিকশনারিতে না রাখারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেখ হাসিনার এ সরকার।

টিভি ও খবরের কাগজে সারা বিশ্ব দেখলো সাংবাদিক নামের আরেক কলঙ্ক ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে হামলা পরিচালিত হয়েছে। ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিক হিসেবে তেমন কিছু দেখাতে না পারলেও সরকারের দালালির পরাকাষ্ঠা হতে সমর্থ হলেন। হামিদুল হক চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র অবজার্ভার যে কদিন চালালেন, সে কদিন ভুলে ভরা ইংরেজির কারণে শিক্ষিত মানুষেরা অবজার্ভার পড়া বন্ধ করে দিয়েছিল। ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা জাতীয় প্রেসক্লাবে হামলা চালিয়েছে। জেলখানা থেকে দাগি আসামীদের ছেড়ে দিয়ে তাদেরই নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হামলা হয়েছে ও আগুন দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সকল ক্ষেত্রেই আওয়ামি দুঃশাসনের আমলে হামলাকারীদের নিরাপত্তা বিধান করতেই ততপর দেখা গেছে।

আওয়ামি লিগ সেক্রেটারি আশরাফুল ইসলামকে মাতলামির ন্যায় মিথ্যাচার করতে দেখা গেছে। সে উল্টো আওয়ামি হায়েনাদের হামলাকে বিরোধীদল হামলা করেছে বলে চালিয়ে দিতে চাইল। কাজটি করালো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। এখন জনগণের প্রশ্ন হল –

জাতির এ দুর্যোগপূর্ণ মুহুর্তে সেনাবাহিনীর কি কিছুই করার নেই? তাদেরকে শুধু কী আফ্রিকার জঙ্গলের দেশগুলোতে শান্তি ফিরিয়ে আনার কাজেই আমরা আমাদের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকায় পোষণ করছি? এ প্রশ্ন করছে দেশে বিদেশে অনেকই। কিন্তু একটা কথা অত্যন্ত পরিষ্কার ভাবে সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই। আবারও সেই নির্বাচনের পরপর আসছে সে্ই আরেক ফেব্রুয়ারি মাস। মনে রাখবেন – যেন তেন ভাবে যদি এ নির্বাচনী বৈতরণী আওয়ামি লিগ পার গতে পারে, তাহলে তারা সেনাবহিনীর পুরোটাই এবার নিশ্চিহ্ন করবে। ইতেমধ্যে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র‘ নির্বাচরেন পরপরই বাংলাদেশের সেনাবহিনী পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে ভারতীয় দালাল ও আওয়ামি ক্যাডার দিয়ে সেনাবাহিনী গঠনের পরিকল্পনা সম্পন্ন করেছে। এ বিষয়ে গত নভেম্বরে নয়াদিল্লীতে শেখ হাসিনার বোন রেহানা ও হাসিনার পুত্র জয়নসহ উভয়দেশের কিছু নীতিনির্ধারকদের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ সময় বিরোধীদলের আন্দোলনের মুখে ভারতের সাহায্য কামানায় হাসিনা ছাড়া শেখ পরিবারের অন্য প্রায় সব সদস্য যেমনঃ জয়ের বর্তমান স্ত্রী, পুতুল, পুতুলের স্বামী দিল্লীতে ছিল। তখনকার পরিস্থিতি এমন ছিল যে ভয়ে জড়ষড় শেখ ফেমিলি হাসিনাকে উদ্ধারের জন্য ভারতীয় হেলিকপ্টার অপক্ষোয় রেখেছিল। পরবর্তীতে ভারতীয় টোপে এরশাদকে নির্বাচনে নিয়ে যেতে পেরে মেনে করেছিল যে সে যাত্রায় বেঁচে গিয়েছে।

ক্ষমতা পাবার ৪৫ দিনের মাথায় আর্মির মেধাবী ৫৭ অফিসার সহ। বিডিআরকে শেষ করে দিয়েছিল শেখ হাসিনা। আমাদের ফার্স্ট লাইন অফ ডিফেন্স সেই বিডিআর আজ বিজিবি হয়ে এদেশে র’ এর স্ট্রাইকিং ফোর্সেস হিসেবে কাজ করছে।

৫ জানুয়ারির পর নতুন সরকার গঠন করলে শেখ হাসিনার নতুন টার্গেট কারা হবে, এত লক্ষণ, এত আলামত সত্ত্বেও আর্মি কি তাও বুঝতে পারছে না?? কোন প্রতিষ্ঠানটিকে নিশ্চিহ্ন করলে এ রাষ্ট্রকে পরিপূর্ণ ভাবে ইন্ডিয়ার আজ্ঞাবহ করা যাবে, তা কি বলে বোঝাতে হবে?

খালেদা জিয়ার সম্প্রতি ভাষণকে সচেতন মহল অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে এবং অনেকই বলছে যে, এ ভাষণটি ছিল অত্যন্ত উচুমানের। গত ২৯ ডিসেম্বর হাসিনার লেলিয়ে দেওয়া বাহিনীর বাধার মুখে ফেলে বেগম জিয়াকে আরও হার্ডলাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে আওয়ামি লিগের অনেক নেতৃবৃন্দ মনে করেন। তারমধ্যে ডেপুটি স্পিকারও আছেন। তিনি মনে করেন এভাবে করা কোন রকমেই উচিত হয় নি।
PLACE YOUR AD HERE PLACE YOUR AD HERE

গত ২৯ ডিসেম্বর ও ৩০ ডিসেম্বর (আজ যখন লিখতে বসছি, দুপুর ২টা লন্ডন টাইম)এ দু‘দিনে আমার মত একজন সাধারণ খেটে খাওয়া নাগরিকের কাছে যা মনে হয়েছে, সেগুলো হল নিম্নরুপঃ লক্ষ জনতার সমাবেশের চেয়েও বেগম জিয়াকে দৃঢচেতার সাথে বক্তব্য রাখার কারণে সেটি মুক্তিকামী জনগণের কাছে আরও বেশি উৎসাহজনক হয়েছে। যেমন তিনি বলেছেন, রক্তের সাগর পাড়ি দিয়ে হাসিনার নৌকা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না।

২৯ ডিসেম্বর প্রস্তুতি নিয়ে কয়েক দফা বের হওয়ার চেষ্টার পর পুলিশি বাধার মুখে বিকাল ৪টায় তিনি সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি আরও বলেন, সরকারকে দেশবিরোধী ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, দেশ বিক্রি করে ক্ষমতায় থাকা যাবে না। লেন্দুপ দর্জির ইতিহাস পড়ে শিক্ষা নিন। লেন্দুপ দর্জি ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। আপনাকেও বিদায় নিতে হবে। বেপরোয়া পুলিশের উদ্দেশে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, পুলিশের মধ্যে অনেক অপরিচিত মুখ দেখা যাচ্ছে। এরা বাংলাদেশের নাগরিক কিনা সন্দেহ আছে। অতি উত্সাহী হয়ে দলীয় ক্যাডারের ভূমিকায় না থেকে জনগণের পক্ষে অবস্থান নেয়ার জন্য তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

এবারই সর্বপ্রথম বিরোধীদলীয় প্রধানের মুখ থেকেও পরিষ্কার করে বক্তব্য আসল যে, সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে নিজ দেশের দলীয় বাহিনী দিয়ে বিরোধী দলের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন প্রতিরোধ করতে না পেরে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও সন্ত্রাসী নিয়ে এসেছে।

আজও একটি জিনিষ পরিষ্কার থাকা চাই। শেখ হাসিনা যেন গণতন্ত্রের কাঁচের ঘরে স্বৈরাচারের ক্ষিপ্ত ষাঁড়। ঢাবি শিক্ষকদের ওপর আ.লীগের বর্বরোচিত হামলা এবং আহত ১০, রক্ষা পাননি নারী শিক্ষকরাও, বর্জন করা হতে পারে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, সুপ্রিম কোর্ট ও জাতীয় প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগের দুর্দর্ষ কায়দার হামলা এবং নীরব দর্শকের ভূমিকায় পুলিশ,

বাংলাদেশ এখন কালো অধ্যায় পার করছে। প্রতিদিনই এখন দেশজুড়ে হত্যা, নির্যাতন, গ্রেফতার, গুম, আতঙ্ক। সর্বপরি ২৯ ডিসেম্বর থেকে ঢাকায় দিনভর নারকীয় আওয়ামী সন্ত্রাস, সুপ্রিমকোর্ট, প্রেস ক্লাব ও ঢাবি শিক্ষকদের ওপর বর্বর হামলা, আহত শতধিক, সশস্ত্র আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহযোগী ছিল পুলিশও, ফ্যাসিবাদের হাত থেকে গণতন্ত্র ও দেশ রক্ষায় আন্দোলনরত মুক্তিকামী জনতার ওপর রাজধানী ঢাকার মতো সারাদেশে প্রতিরোধের ডাক দিলেন খালেদা জিযা। মিথ্যাচারে শেখ হাসিনাকে ডিঙ্গিয়ে যাওয়ার সাধ্য কার? নিয়মতান্ত্রিক ভাবে সমাবেশ করতে দিতে পুলিশি বাধা, অথচ ভিডিও এর মাধ্যমে বিবৃতিকে হাসিনা বলছে যে, আল কায়েদা স্টাইলের কর্মসূচি।

এদিকে আগামি ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং অনিয়মতান্ত্রিকভাবে শেখ হাসিনার ক্ষমতায় জোর করে থেকে যাওয়ার ব্যাপারে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সুস্পষ্টতই বিপরীত অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের এই প্রকৃতি নির্ণয় ও সম্ভাব্য সমাধানের ক্ষেত্রে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা পৃথক ও আলাদা। নয়াদিল্লীর মতে, ভারতের জন্য বিপজ্জনক বাংলাদেশের ইসলামী শক্তিগুলির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়ার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগই শেষ ভরসা। গত এক দশক জুড়ে এই শক্তিগুলির আকার-আয়তন ও পেশিশক্তি যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে ভারত চায় না তার পূর্ব সীমান্তে আরেকটি পাকিস্তানের জন্ম হোক। ইসলামী উগ্রবাদের এই জোয়ার ঠেকানো ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ এর বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম ও অন্যান্য উগ্রপন্থী দলগুলির তথাকথিত ইসলামী পরিচিতির বিপক্ষে ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালী পরিচিতিকে বড় করে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লীর সাথে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখছেন। ভারতের জন্য বিপজ্জনক সশস্ত্র জঙ্গিদের শায়েস্তা করছেন ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হস্তান্তর করছেন।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের মনোভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওয়াশিংটন বলছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন জনগণের কাছে বৈধতা পাবে না।

এই পরিস্থিতিতে আরো সংঘাত অনিবার্য।

ওয়াশিংটন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ব্যাপারেও বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই ট্রাইব্যুনাল ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার করছে। ১৭ জন অভিযুক্ত ব্যক্তির মধ্যে ১৩ জনই জামায়াতে ইসলামীর। তারা যুদ্ধে পাকিস্তানকে সুস্পষ্টভাবে সমর্থন করে। তারপরও ওয়াশিংটন বলছে, রাজনৈতিক ও গৃহবিবাদ থেকে এ বিচার করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সমপ্রদায় এই ট্রাইব্যুনালের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও এ সংক্রান্ত আইনের আন্তর্জাতিক মান নিয়ে সমালোচনা করেছেন। এভাবে তারা প্রকারান্তরে বাদীর অধিকারকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। আর আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এ ধরনের আসামীর আপিলের কোন অধিকার নেই। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এই ট্রাইব্যুনালের বিচারকে সমর্থন করে না। তারা মনে করে এ বিচার মূলতঃ বিরোধীদলকে দমনের জন্য একটি হাতিয়ার। উল্লেখ্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ বর্তমানে শাসকদলের একটি অঙ্গ সংস্থায় পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশে এখন যা চলছে তা কারোর জন্যই শুভ নয়। একদলীয় নির্বচানের প্রতি আস্থা না থাকাতে বিরোধীদলীয রাজনীতিকরা নির্বাচন বয়কট করছেন। মূলত বাংলাদেশে বর্তমান সমস্যা সামধানে ভারতের উচিত একটি অভিন্ন ও সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার কৌশলগত অংশীদারের সাথে সর্বউপায়ে বোঝাপড়া করা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লিগের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগণের কাছে ভারতের মত প্রতিবেশি দেশের ভাবমূর্তি পজিটিভ নয়।সুপ্রতিবেশি হিসেবে ভারতের উচিত এ বিষয়ে একদেশদর্শী অবস্থান পরিবর্তন করা।

এখনও দেখি কিছু দলবাজ লোক ক্ষমতাশীনদের এসব হত্যা, নির্যাতন ও গণহত্যাকে সাপোর্ট করে। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের নারকীয় তাণ্ডবের দৃশ্যগুলোকে অতীতের কোন কোন গঠনার সাথে মিলানোর চেস্টা করে। উল্টো তাদের পক্ষে সাফাই গাইতে চেস্টা করছে।

একটা অপরাধের জাস্টিফিকশনের অন্য অপরাধের তুলনা টেনে আনাটা খুবই লজ্জাজনক—সেটাই ঘটছে ইদানিং। আদালতে ঢুকে একজন মহিলা আইনজীবীকে চার বীর পুরুষ মিলে লাঠি পেটার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে বিএনপি আমলে ছাত্রদলের ঢাবি‘র মেয়েদের হলে আক্রমনের কথা, কিংবা মতিয়া চৌধুরীকে মাটিতে ফেলে পেটানোর কথা ঠেনে আনার কোন যৌক্তিকতা দেখি না।

আসুন আমরা সেসব বিরোধী মতাবলম্বী বন্ধুদের জন্যও আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তারা যে দলের সাথেই সম্পৃক্ত থাকুন না কেন, জতির এ সংকট কালে যাতে তারা সত্যিকার ইস্যু ও সমস্যা উপলব্দি করতে পারেন এবং শাসকগোষ্ঠীর এ গণহত্যা ও নির্যাতনকে সমর্থন না করে প্রতিবাদী হন। আল্লাহ আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে ‍দুর্বৃত্তদের আক্রমণ থেকে হেফাজত করুন।

অধ্যাপক ওমর ফারুকঃ ইংরেজি সাপ্তাহিক ঢাকা পোস্ট সম্পাদক

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ