Home / নির্বাচন / কয়েক মাস স্থায়ী হবে শেখ হাসিনার নতুন সরকার!

কয়েক মাস স্থায়ী হবে শেখ হাসিনার নতুন সরকার!

বাংলাদেশের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশে হয়ত আগামী নির্বাচন হবে। কিন্তু তাতে করে শেখ হাসিনা তার নতুন সরকার গঠন করলে তা মাত্র কয়েক মাস স্থায়ী হবে। রোববার অস্ট্রেলিয়ার প্রভাবশালী পত্রিকা সিডনি মর্নিং হেরাল্ড এক প্রতিবেদনে এমনটি মন্তব্য করেছে।

‘বাংলাদেশ’স ফিউচার হ্যাংস ইন দ্য ব্যালেন্স’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, “বাংলাদেশে নির্বাচন হয়তো হবে। কিন্তু এতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকার কয়েক মাস স্থায়ী হবে। বাংলাদেশে এরকমই একটি নির্বাচন ১৯৯৬ সালে হয়েছিল। সে সময় ওই সরকার ১১ দিন পরই পদত্যাগ করেছিলো।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, জানুয়ারিতে নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোন আশাই সম্ভব নয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা মৃত দাবি করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বাংলাদেশে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সম্ভাবনা একেবারেই মৃত।

নির্বাচনের ফল কি হবে তা সবার জানা হয়ে গেছে। এই নির্বাচন নিয়ে এটুকুই বলা যায়, দেশ একটি অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেনদটিতে বলা হয়, দেশে যে নির্বাচন হচ্ছে তাতে করে এর যে মানেই যাচাই করা হোক, বাংলাদেশের এ নির্বাচনকে নির্বাচন বলা যাবে না।

জানুয়ারির নির্বাচনের ফলাফলও বৈধতা পাবেনা বলে মন্তব্য করা হয় প্রতিবেদনটিতে। তাতে বলা হয়, “বিরোধীদলের বয়কট করা এ নির্বাচনে ইতোমধ্যে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে সরকারপক্ষ। এ মুহূর্তে জয়ের পুরো সম্ভাবনা সরকারের পক্ষে।”

কাজেই নির্বাচনের মাধ্যমে অজনপ্রিয় সরকার ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু এ জয় হবে কোন ধরনের বৈধতা ছাড়াই।

দেশের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে পত্রিকাটি মন্তব্য করেছে, রাজনীতিবিদদের অনড় ও নিরাপসকামী অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের গণতন্ত্র থমকে গেছে। কোন সংলাপ ও সমঝোতার উদ্যোগই কাজে আসছে না।

সম্প্রতি জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সংলাপের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে তা নিয়ে মধ্যস্থতার উদ্যেগ নিয়েছিলো জাতিসংঘ।

তাতে আলোচনা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে। দু দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা হয়। কিন্তু তাতেও কোন সমঝোতা হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জয় দিয়ে কোন নির্বাচনের সফলতা বিবেচনা করা য়ায়না। এর জন্য নির্বাচন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণমূলক হওয়া দরকার।

জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির পর পুরো দেশের অবস্থা মারাত্মক সহিংস হয়ে ওঠে উল্লেখ করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এই সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে সাধারণ মানুষ মানসিকভাবে আতঙ্কিত ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেয়া হয়। তবে মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য গঠিত এই ট্রাইব্যুনালকে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে বলে মন্তব্য করে পত্রিকাটি। তাতে বলা হয়, এই বিচারের প্রক্রিয়ায় আসামী পক্ষকে যথাযথাভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের এবং পুনরায় আবেদনের অধিকার দেয়া হয়নি।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ