Home / ফিচার / গীতার পাশে কেউ নেই

গীতার পাশে কেউ নেই

‘আমরা অসুস্থ সরকার চাই না। খালেদারেও চিনি না, হাসিনার কাছেও যাই না।’ গত ১লা ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ক্ষোভ নিয়ে কথাগুলো বলেছিলেন গীতা সেন। এরপর গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন তিনি। গত ২৮শে নভেম্বর ছোট মেয়েকে নিয়ে সদরঘাট থেকে বাসে করে কাওরানবাজার যাচ্ছিলেন গীতা। পথে শাহবাগ শিশু পার্কের সামনে পৌঁছলে বাসে দুর্বৃত্তরা পেট্রল বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। এরপর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন তিনি। পরিবারের বাইরে তার খোঁজ আর কেউ রাখেন না। গতকাল তার স্কিন গ্রাফটিং অপারেশন হয়েছে। বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল জানান, ‘গীতা সেনের ডান হাতের ক্ষতের মধ্যে ইনফেকশন ঘটেছে। তাই পায়ের মাংস কেটে হাতের ক্ষতস্থান পূরণ করা হয়েছে।’ কবে নাগাদ হাসপাতাল ছাড়তে পারবেন সে বিষয়ে ডা. পার্থ বলেন, ঘা পুরোপুরি না শুকানো পর্যন্ত তার হাসপাতাল ছাড়ার সুযোগ নেই।

গতকাল সকালে অপারেশনের পর বার্ন ইউনিটের দোতলায় আইসিইউতে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সেখানে তার বড় মেয়ে কণা সেন তার পরিচর্যায় নিয়োজিত ছিলেন। সন্ধ্যায় তাকে আবার কেবিনে ফিরিয়ে নেয়া হয়। গীতা সেনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক থাকছেন তার বড় বোন। এছাড়াও তার স্বামী গোপাল সেন ও ভাগ্নে প্রশান্ত পর্যায়ক্রমে দেখাশোনা করছেন। চিকিৎসার খরচ সরকারের পক্ষ থেকে বহন করা হচ্ছে। তিনবেলা খাবারও পাচ্ছেন হাসপাতালের পক্ষ থেকে। কিন্তু পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি স্বামী গোপাল সেন তার কাজকর্ম বাদ দিয়ে স্ত্রীর পেছনে ছোটাছুটি করছেন। গোপাল সেনের সঙ্গে ফোনে কথা বললে তিনি জানান, একদিকে স্ত্রীর দেখাশোনা করতে হয়। অন্যদিকে পরিবার সামলাতে হচ্ছে। এ কারণে জীবিকার মাধ্যম বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি মেরামতের দোকানটি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ধারদেনা করে পরিবার চালানো ছাড়া আর উপায় খুঁজে পাচ্ছি না। মেয়েদের পড়াশোনার খরচ দিতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এককালীন যে ১০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন তা-ও ফুরিয়ে গেছে। এরপর সরকারি বা বেসরকারি কোন সাহায্য পাইনি। আত্মসম্মানবোধের কারণে মানুষের কাছে হাত পাততেও পারি না। গীতা সেনের ছোট মেয়ে সুস্মিতা বেসরকারি একটি টেলিভিশনের ক্ষুদে সাংবাদিক। সেই দিনের বাসে অগ্নিকাণ্ডে সে-ও আহত হয়। বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠলেও টেলিভিশনে যোগ দিতে পারছে না। কর্মস্থলে সঙ্গে করে নেয়ার কেউ নেই। তাই তার মাঝেও হতাশা বিরাজ করছে। সুস্মিতার বড় বোন কণা জানান, এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক হতে পারছে না সুস্মিতা। আগুনের আতঙ্ক এখনও তাকে তাড়া করছে। গীতা সেনের ভাগ্নে প্রশান্ত সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন। তিনি বলেন, ‘ইস্যুর নিচে ইস্যু চাপা পড়ে যাচ্ছে। ঘটনার সময় অনেকে এগিয়ে এলেও এখন আর কেউ খোঁজ রাখছেন না।’ সমাজের বিত্তবানদের গীতা সেনের পাশে এসে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ