Home / বিনোদন / বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বলিউডে নির্মিত হয়েছে ‘দ্য বাস্টার্ড চাইল্ড’
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বলিউডে নির্মিত হয়েছে ‘দ্য বাস্টার্ড চাইল্ড’

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বলিউডে নির্মিত হয়েছে ‘দ্য বাস্টার্ড চাইল্ড’

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বলিউডে নির্মিত হয়েছে ‘দ্য বাস্টার্ড চাইল্ড’ নামে একটি ছবি। এ সপ্তাহে ছবিটি মুক্তি পাবার কথা। তাই ছবিটির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলো বাংলানিউজের পাঠকের জন্য…

দ্য বাস্টার্ড চাইল্ড : সামনে পেছনে যারা
সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন মৃত্যুঞ্জয় দেবব্রত। চিত্রনাট্যও লিখেছেন তিনি। আর প্রযোজনা করেছেন সৌম্য জে দেবব্রত। সিনেমার মূল চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন রাইমা সেন, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, ভিক্টর ব্যানার্জি, ফারুক শেখ, পবন মালহোত্রা, ঋদ্ধি সেন, তিলোত্তমা সোম প্রমুখ।

রাইমা অভিনয় করেছেন একজন নির্যাতিত নারীর ভূমিকায়। মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিকের চরিত্রে ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। ঢাকার গেরিলা দলের প্রধানের চরিত্রে ফারুক শেখ আর পাকিস্তানি কমান্ডার চরিত্রে পবন মালহোত্রা।

ফারুক শেখ অভিনয় করেছেন একটি গেরিলা দলের প্রধানের চরিত্রে। এ সম্পর্কে পরিচালক দেবব্রত’র মন্তব্য, `ফারুক শেখ এখানে মজিদ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যিনি বাঘা সিদ্দিকী দ্বারা অনুপ্রাণিত। স্বাধীনতার জন্য নিজেকে পুরোটা বিলিয়ে দেয়া এক বাস্তব জীবনের হিরো তিনি। ফারুক শেখ তার চরিত্রটি দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। চরিত্রের প্রতি পূর্ণ বিচার করতে পেরেছেন।`

১৯৮১ সালে উমরাও জান চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত ফারুক শেখকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ সিনেমায়।

২০১৩ সালে ‘ভাগ মিলকা ভাগ’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন পবন মালহোত্রা। ‘দ্য বাস্টার্ড চাইল্ড’-এ নিজের চরিত্র নিয়ে পবন বলেন “আমার চরিত্রটা বাংলাদেশে নৃশংসতার জন্য দায়ী। যেখানে ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আমার চরিত্রটা ভয় প্রদর্শণকারী।”

এর আগে পবন মালহোত্রা অভিনয় করেছেন ব্ল্যাক ফ্রাই ডে, ‘দিল্লী ৬’, ‘ডন’, ‘যব উই মেট’ সিনেমায়। বাঙালি অভিনেত্রী রাইমা সেনের মন্তব্য, টানা একুশ দিন রাতে শুটিং করেছি। দিনের আলো দেখিনি। আমার চরিত্রটি করতে গিয়ে বুঝেছি কত ভয়াবহ সময় গিয়েছে সে সময়কার বাংলাদেশি নারীদের।

প্রযোজক সৌম্য যোশি দেবব্রত বলেন, আমাদের আর্টিস্টদের অনেকের বাংলাদেশের সাথে সংযোগ আছে। আমাদের একজন প্লেব্যাক সিঙ্গার সেই সময়কার নৃশংসতার কথা শুনেছেন তার দাদীর কাছ থেকে। আরেকজন অভিনেতার পরিবার এসেছে বাংলাদেশ থেকে।

গল্পে কী দেখানো হয়েছে
মূলত তিনটি গল্প দেখানো হয়েছে এই সিনেমায়। শেষ দিকে সবগুলো গল্প এক বিন্দুতে এসে মিলিত হয়। প্রথম গল্পে দেখানো হয় শহর থেকে পুরো পরিবার নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন এক পিতা। দ্বিতীয় গল্পে একজন সাংবাদিক-মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যাওয়া ও নির্যাতনের গল্প। আর তৃতীয় গল্পে আছে একটি শিশু। যার মা কোনোদিন দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করেননি। সামাজিকতার বেড়াজালে ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে পিতৃহীন সেই শিশুটি। সাধারণ মানুষের কাছে সে পরিচিতি লাভ করে ‘জারজ সন্তান’ হিসেবে। এভাবে পার হয়ে যায় তার শৈশব-কৈশোর।

নির্মাতা মৃত্যুঞ্জয়
মৃত্যুঞ্জয় দেবব্রত’র বয়স ২৯ বছর। এটিই তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র। এর আগে বেশ কয়েকটি ডকুমেন্টারি বানিয়েছেন। মৃত্যুঞ্জয়ের শৈশবের একটা অংশ কেটেছে বাংলাদেশে । তবে ‘দ্য বাস্টার্ড চাইল্ড’ চলচ্চিত্র নির্মাণ দূরের কথা, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেই আসার কথা না পরিচালক মৃত্যুঞ্জয়ের। একদিন সিনেমা দেখার সময় তার মনে হলো চলচ্চিত্র নির্মাণের আলাদা একটা মাহাত্ম আছে। সিদ্ধান্ত নিলেন ফিল্ম স্কুলে যাবেন। “আমার বাবা মা এনআইডি থেকে ডিজাইনার আমি ও ধীরে ধীরে সেদিকেই যাচ্ছিলাম। কিন্তু একটু এক্সাইটিং কিছুই চাচ্ছিলাম আমি। ”
এ পর্যন্ত ১৩টি ডকুমেন্টারি বানিয়েছেন মৃত্যুঞ্জয়। কাজ করেছেন প্রোডাক্ট ডিজাইনিং, বিজ্ঞাপন এবং এনজিও তে।

বিহাইন্ড দ্য সিন
মৃত্যুঞ্জয়ের ভাষ্যে- সিনেমাটি একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যা নিয়ে। এখানে নারীদের ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যাওয়া তারপর কীভাবে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হতো এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। একটা যুদ্ধ হলে সেখানে যুদ্ধ শিশুও থাকে। যাদেরকে সমাজ গ্রহণ করে না। আমি মনে করি বিষয়টি সঠিক স্বীকৃতি পায়নি। ওই সব যুদ্ধ আক্রান্তদের প্রতি ছোট্ট উৎসর্গ এই সিনেমাটি। আমি আমার শৈশবের একটা অংশ কাটিয়েছি বাংলাদেশে। আমার প্রথম পা ফেলাও সেখানে। এ কারণে এটা আমার কাছে বিশাল ব্যাপার। আমি এবং আমার স্ত্রী ছবিটি নিয়ে প্রথম গবেষণা শুরু করি। আমরা প্রচুর রিফিউজিদের সাথে কথা বলেছি। ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং যাদের পরিবারের সদস্যরা ওই যুদ্ধের মধ্যে জড়িত ছিল তাদের সাথে কথা বলেছি। তারপর প্রকাশিত অপ্রকাশিত অনেকগুলো লেখা জোগাড় করেও পড়লাম।

আমরা চাই না ‘বাস্টার্ড’ শব্দটা কোন গালি হোক। আমরা বাস্টার্ড শব্দটাকে ব্যবহার করেছি। এটা কোন আক্রমণাত্মক শব্দ না। যদি তিনজন লোক এই সিনেমাটি দেখে সিদ্ধান্ত নেয় যে খারাপ অর্থে ‘বাস্টার্ড’ শব্দকে দেখব না, তখন ভাবব আমি সফল। আমি নির্দিষ্ট কোন বিষয় চাইনি। কিন্তু সবসময় একটা শক্তিশালী বিষয়ই চেয়েছি। ছবি হতে পারে কমেডি অ্যাকশন অথবা অন্য কোন রকমের। আমি একটা থ্রিলারও তৈরি করতে পারি তবে সেই ছবিতে শক্তিশালী একটি বার্তা থাকতে হবে যেটা সমাজের উন্নতিতে অবদান রাখবে। বাস্টার্ড চাইল্ড ছবির জন্য আমি কোন আর্টিস্টকে কনভিন্স করিনি। তারাই তাৎক্ষণিক রাজি হয়েছে।

নাম নিয়ে আপত্তি
মুক্তির দিনক্ষণ ঠিক করার পরপরই বাধাপ্রাপ্ত হয় ‘দ্য বাস্টার্ড চাইল্ড’। ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রযোজকদের সংস্থা ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (আইএমপিপিএ) আটকে দেয় সিনেমাটি। তারা আপত্তি জানিয়ে বলে- নামের মধ্যে থাকা ‘বাস্টার্ড’ শব্দটি সম্মান হানিকর। জবাবে ‘বাস্টার্ড’ শব্দের ব্যাখ্যায় পরিচালক মৃত্যুঞ্জয় আইএমপিপিএ কে বলেন, বাস্টার্ড শব্দটি মূলত নারী-পুরুষের মধ্যে বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক ছাড়া যে সন্তানের জন্ম হয় তাকে বলে। এতে অবমাননাকর কিছু নেই।’ পাশাপাশি মৃত্যুঞ্জয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, “বর্তমান নামে না ডাকা হলেও ছবিটি আমার কাছে অনেক কিছু।” তবে পরবর্তীতে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘দ্য বাস্টার্ড চাইল্ড’ নাম বহাল রেখেই ছাড়পত্র দেয় আইএমপিপিএ।

বলিউডে বাংলা’র ইতিহাস
২০০৭ সালে “১৯৭১” নামে একটি ছবি মুক্তি পায় ভারতে। তবে বাংলাদেশ প্রসঙ্গের চেয়ে সেখানে পাক-ভারত দ্বন্দ-ই প্রাধান্য পেয়েছে। অখন্ড ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে বাংলাদেশের পটভূমিতে নির্মিত হয়েছে ‘চিটাগং’ সিনেমাটি। কিন্তু শুধুমাত্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এটিই বলিউডে প্রথম চলচ্চিত্র। নির্মাণশৈলীতে যেখানে ফুটে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের অনেক নির্মম রূপ।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ