Home / বিনোদন / সিনেমার ফেরিওয়ালার জন্মদিন

সিনেমার ফেরিওয়ালার জন্মদিন

‘মুক্তির গান’, ‘মাটির ময়না’, ‘মুক্তির কথা’, ‘অন্তর যাত্রা’সহ দর্শক নন্দিত বহু চলচ্চিত্রের সফল নির্মাতা তিনি। চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্যে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। এক কথায় তিনি সিনেমার ফেরিওয়ালা। তার হৃদয়ে ছিল শুদ্ধ-সুন্দর-শান্তিপ্রিয় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ; চেতনায় মুক্তির গান। আর এভাবে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের অনন্য এক রূপকার। হ্যা পাঠক, আন্তর্জাতিক ক্ষ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের কথাই বলছি।

১৯৫৮ সালের এই দিনে তারেক মাসুদ ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নূরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার মায়ের নাম নুরুন নাহার মাসুদ ও বাবার নাম মশিউর রহমান মাসুদ। ভাঙ্গা ঈদগা মাদ্রাসায় প্রথম পড়াশোনা শুরু করেন তারেক মাসুদ। পরবর্তীতে ঢাকার লালবাগের একটি মাদ্রাসা থেকে মৌলানা পাস করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার মাদ্রাসা শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে। যুদ্ধের পর তিনি সাধারণ শিক্ষার জগতে প্রবেশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং দেশে-বিদেশে চলচ্চিত্র বিষয়ক অসংখ্য কর্মশালা এবং কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৮২ সালের শেষ দিকে তিনি প্রথম ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ডকুমেন্টারিটি ছিল প্রখ্যাত বাংলাদেশী শিল্পী এস এম সুলতানের জীবনের উপর। এরপর থেকে তিনি বেশ কিছু ডকুমেন্টারি, এনিমেশন এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ২০০২ সালে তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’ মুক্তি পায়। এই চলচ্চিত্রটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং দেশে-বিদেশে সমাদৃত হয়। বাংলাদেশে ভিন্ন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সংগঠন শর্ট ফিল্ম ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। ১৯৮৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেছেন তারেক মাসুদ। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দেয়ার পাশাপাশি কয়েকটি সাময়িকী ও পত্রিকায় চলচ্চিত্র বিষয়ে লেখালেখি করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণ ছাড়াও তারেক মাসুদের আগ্রহের বিষয় ছিল লোকসঙ্গীত এবং লোকজ ধারা।উল্লেখ্য তারেক মাসুদ ২০১১ সনের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জে এক আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনায় বন্ধু ও সহকর্মী মিশুক মনিরসহ নিহত হন।

তারেক মাসুদের জন্মদিন উপলক্ষে ৬ ও ৭ ডিসেম্বর ‘তারেক মাসুদ উৎসব’ যৌথভাবে আয়োজন করেছে তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী। উৎসব হবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে। তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের চেয়ারপারসন ক্যাথরিন মাসুদ জানান, দুই দিনের এই আয়োজনে বৈচিত্র্যময় নানা বিষয়ের সন্নিবেশ রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে তারেক মাসুদের সৃজনশীল কর্মজীবন ও তাঁর সৃষ্টিকে উদ্যাপন করা হবে।

চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ওপর তারেক মাসুদ তৈরি করেন তথ্যচিত্র আদম সুরত। ছবিটির ডিজিটাল রূপান্তরের বিশেষ প্রদর্শনী হবে উৎসবের প্রথম দিন। এবার থেকে প্রবর্তন করা হচ্ছে ‘তারেক মাসুদ স্মারক বক্তৃতা’। এবারের বক্তৃতার বিষয় ‘সিনেমার জাতীয় পরিভাষা নির্ণয়ের আকাঙ্ক্ষা ও তারেক মাসুদের আদম সুরত। হবে তারেক মাসুদের লেখা চিত্রনাট্য ও গানের সংকলিত গ্রন্থ চলচ্চিত্র লেখা: চিত্রনাট্য ও গান বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান।তারেক মাসুদের ওপর প্রসূন রহমান তৈরি করেছেন তথ্যচিত্র ফেরা। এই তথ্যচিত্রের ডিভিডির প্রকাশনা অনুষ্ঠান হবে উৎসবের দ্বিতীয় দিন। একই অনুষ্ঠানে হবে ছবিটির প্রদর্শনীও। সম্প্রতি আয়োজন করা হয় ‘তারেক মাসুদ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা’। উৎসবে এই প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া এবং নির্বাচিত ১০টি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী হবে। সেরা নির্মাতাকে দেওয়া হবে ‘তারেক মাসুদ ইয়ং ফিল্ম মেকার অ্যাওয়ার্ড’।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ