Home / নির্বাচন / ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে তামাশার নির্বাচন আখ্যায়িত করেছে ‘সুজন’

৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে তামাশার নির্বাচন আখ্যায়িত করেছে ‘সুজন’

৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য ও তামাশার নির্বাচন আখ্যায়িত করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। তবে অসাংবিধানিকভাবে যাতে কেউ ক্ষমতা দখল করতে না পারে সেজন্য নির্বাচন জরুরি বলে মনে করছে সংগঠনটি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস কাবের ভিআইপ লাউঞ্জে সুজন আয়োজিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি, সম্পাদক ও নির্বাহী সদস্যরা। তারা অভিযোগ করেন, সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের বেতনভাতা ছাড়া ভিন্ন কোনো আয়ের উৎস থাকার কথা নয়। সরকারের সাথে কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকলেও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী কেউ নির্বাচনে অংশ নেয়ার অযোগ্য বিবেচিত হবেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে দেয়া হিসাবে অনেক সংসদ সদস্যই ব্যক্তিগত ব্যবসা কিম্বা সরকারি কাজের মাধ্যমে আয়বৃদ্ধির হিসাব দেখিয়েছেন। এমন হিসাব দেয়া প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সুজন সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, এই নির্বাচনে ৫৪০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১২ জন হত্যা মামলার আসামি রয়েছেন। এ ছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে অতীতে ৪৭ জন ৩০২ ধারায় হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের মধ্যে এর সংখ্যা তিনজন। প্রার্থীদের বর্তমান মামলার চেয়ে অতীত মামলা বেশি। বেশিরভাগ প্রার্থীই ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত থাকায় পরিসংখ্যানটি এমন হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৫৪৩ জন। এর মধ্যে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে দেয়া অনেকের হলফনামায় অনেক তথ্য গোপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রার্থীদের তথ্যসমূহ ভোটারদের জ্ঞাতার্থে নির্বাচন কমিশনের প্রচার করার কথা। আমরা আশা করছি, কমিশন তা করবে। আমাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে প্রার্থীদের তথ্যসমূহ প্রচারের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে প্রার্থীদের পোস্টার ছাপানো ও প্রজেকশন মিটিংয়ের আয়োজনের বিধান করা এবং ব্যানার ছাপানো ও মিছিল-মিটিং থেকে প্রার্থীদের বিরত রাখার বিধান করা। এতে নির্বাচনী ব্যয় অনেক কমে যাবে এবং সৎ ও ভালো মানুষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
সুজনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থীদের বেশিরভাগ উচ্চ শিক্ষিত হলেও এসএসসির চেয়ে কম যোগ্যতা সম্পন্ন ৫০ জন (৯.২৫%) প্রার্থী রয়েছেন। প্রার্থীদের মধ্যে ২৮২ জনের (৫২.২২%) পেশা ব্যবসা। কিন্তু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী সরকারের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কে লিপ্ত ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হলেও এ ধরনের অনেক প্রার্থীই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
মোট প্রার্থীর মধ্যে ৬০ জন কোটি টাকার বেশি উপার্জনক্ষম হলেও ১৭১ জন (৩১.৬৭%) প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ৫-২৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া বেশিরভাগই সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট। প্রার্থীদের মধ্যে ২৭৭ জনের (৫১.২৯%) সম্পদের পরিমাণ কোটি টাকার উপরে, যার মধ্যে ১০৩ জনের ৫ কোটি টাকার উপরে। অনেক প্রার্থীই তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেননি এবং তারা সবাই সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট। প্রার্থীদের মধ্যে ২২৬ জন (৪১.৮৫%) ঋণগ্রহিতা এবং আয়কর প্রদানকারী আছেন ২৭১ জন (৫০.১৮)।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, নির্বাহী সদস্য বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, ডা. জাফুরুল্লাহ, আলী ইমাম প্রমুখ।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ