Home / নির্বাচন / ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হতে পারে’

‘সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হতে পারে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটি রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নেই। দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্থ হবে- এমন কথা যারা বলছেন তাদের বক্তব্য অগণতান্ত্রিক বলে তিনি উল্লেখ করেন। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় আইন ও বিচার বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের দায় দায়িত্ব এড়ানোর জন্য এ ধরণের কথা বাজারে ছাড়া হয়েছে। সরকারের সুবিধাভোগী ও দলবাজ লোকেরাই এসব কথা বলছেন। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বরং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বাকী কাজ শেষ করতে পারে আওয়ামী লীগ। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাবস্থা করে ভোটারদেরকে আওয়ামী লীগ বলুক, বিএনপি এই বিচার করবে না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বিচার শেষ করা হবে। এই কথা শোনার পর ভোটাররা যদি আওয়ামী লীগকে ভোট না দেয় এটা ভোটারদের ব্যাপার। আর বিএনপি যদি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসে বিচার না করে তাহলে আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করতে পারবে। কিন্তু নির্বাচনের জন্য বিচার বাধাগ্রস্থতার কথা যারা বলছেন, তারা জনগণের সম্মতি ছাড়া ক্ষমতায় থাকার কৌশল আটছেন। এমনটাই যদি তাদের মতলব হয়, তাহলে এটা গণতন্ত্র হল না। তাহলে তারা সংবিধানে বা কোন আইনে এটা লিখে দিক যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই সরকার ক্ষমতায় থাকবে। অধ্যাপক নজরুল আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির দোহাই দিয়ে অনেক অগণতান্ত্রিক কাজ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট ও প্রেসক্লাবে হামলা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করা যায় না। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বিরোধী দলের উপর সরকারি কর্মীদের হামলায় পুলিশ নিরব থাকতে পারে না। জণগণ মানে শুধু সরকারি দলের সমর্থক নয়।
কিন্তু বর্তমানে সরকারের অন্যায় মেনে নিলেই তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি বলে বিবেচিত হচ্ছে। আর এর সমালোচনা করলেই তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষশক্তি বলা হচ্ছে। আর এই বিপক্ষ শক্তিকে সর্বতভাবে দমন করাই রাষ্ট্রে ও সরকারের কাজ বলে প্রচার করছে কিছু লোক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার এমন অপব্যাখ্যা করে একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র গঠনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।
মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার চেতনার বিষয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকার, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, ভিন্নমত পোষণের অধিকার, সভা-সমাবেশ আর কথা বলার স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু সবার স্বার্থরক্ষা করা। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা আর ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো ভাল কাজ করছে বলে এই সরকারের হাজারো অন্যায় কাজকে যদি আমরা মেনে নেই, তাহলে এদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বলে আর কিছুই থাকবে না।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ