Home / অর্থনীতি ও বানিজ্য / বিরোধী দলের কর্মসূচির প্রতিবাদ করে প্রতিদান পেলেন ব্যবসায়ীরা : নতুন করে কাউকে ঋণখেলাপি না করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের

বিরোধী দলের কর্মসূচির প্রতিবাদ করে প্রতিদান পেলেন ব্যবসায়ীরা : নতুন করে কাউকে ঋণখেলাপি না করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের

সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে চলমান বিরোধী দলীয় জোটের আন্দোলনের প্রতিবাদ করে তার প্রতিদান পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো থেকে গৃহীত ঋণ পরিশোধের সময়সীমা পার হলেও আপাতত কাউকে ঋণখেলাপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ‘কেস টু কেস’ ভিত্তিতে ব্যবসায়ীদের ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ ও শ্রেণীকরণের সময়সীমা বৃদ্ধি, সুদহার কমানোসহ বেশকিছু সুবিধা পাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। এসব সুবিধা ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত পেতে পারে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল ব্যাংক নির্বাহীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারেন্স হলে এসকে সুর চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষায়িত ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, দেশি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসকে সুর চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় যেসব ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, শুধু তারাই এ সুবিধা পাবে। ব্যবসায়ীরা ঢালাওভাবে কোনো সুবিধা পাবেন না। ঋণ পুনঃতফসিলিকরণসহ শ্রেণীকরণের বর্তমান কাঠামো ও নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন না এনেই ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। এসব সুবিধা আগামী জুন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি। তিনি জানান, যেসব ব্যবসায়ীদের নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা ছিল, কিন্তু চলমান অস্থিরতার কারণে করতে পারেননি তাদের ঋণ শ্রেণীকরণ অর্থাত্ খেলাপি হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষেত্রে আরও ৩ থেকে ৬ মাস সময় দেয়া হতে পারে। এছাড়া পুনতফসিলের মেয়াদ ১৮ মাস থেকে বাড়িয়ে ২৪ মাস করা হতে পারে। তবে এজন্য কোনো সার্কুলার জারি করা হবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের পর এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিলেই চলবে।
এসকে সুর চৌধুরী আরও জানান, ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খেলাপি ঘোষণা করার আগে অতিরিক্ত সময় চাইলে ব্যাংকগুলোকে তা অনুমোদন দিতে হবে। পুনঃতফসিলিকরণের আবেদনও গ্রাহক-ব্যাংক সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের জন্য এলে ইতিবাচকভাবে দেখা হবে। তবে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
তবে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের শর্ত শিথিল, আগামী দুই বছর খেলাপি ঘোষণা না করা এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ বন্ধ রাখাসহ ৮ দফা দাবির সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংক একমত নয়। তাই এ দাবি পূরণ হবে না। প্রসঙ্গত, গত ১৪ ডিসেম্বর ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে আট দফা দাবি করেন।
সভা শেষে ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন এবিবি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, বৈঠকে চলমান অস্থিরতায় পরিবহন, আবাসন ও পোশাক শিল্পসহ সব ক্ষেত্রেই যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের সমস্যাও তুলে ধরেছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুয়েকদিনের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবে। তিনি আরও বলেন, ঋণ পুনঃশ্রেণীকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত শিথিল করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সামগ্রিক অর্থনীতি অংশ হিসেবে ব্যাংকিং খাতও সমস্যার সম্মুখীন। তবে চলমান সঙ্কট উত্তোরণে মুনাফা কিছুটা কমিয়ে হলেও ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে ব্যাংকগুলো রাজি আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৈঠক শেষে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এএমডি এএসএম বুলবুল জানান, কয়েকদিন আগে রফতানিকারকদের সুবিধা দিতে ইডিএফ ঋণের সুদের হার কমানো হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) ব্যবসায়ীদেরকে সংকট কাটিয়ে উঠতে ঋণ শ্রেণীকরণ ও পুনতফসিলের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এসব সুযোগ সুবিধা সকল ব্যবসায়ীদের দেয়া যায় কিনা এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আইনের মধ্যে থেকে সাধ্যানুযায়ী ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ ডিসেম্বর এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীরা সারাদেশে সাদা পতাকা হাতে নিয়ে চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতিবাদ জানিয়েছিল। আন্দোলন কর্মসূচির তীব্র প্রতিবাদ করে ব্যবসায়ীরা তা বন্ধের আহ্বান জানান। এর পরপরই সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা নিতে ওঠে পড়ে লাগে ব্যবসায়ীরা। সকল ক্ষেত্রে সুবিধা চেয়ে ব্যবসায়ীরা ক্রমাগতভাবে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করে আসছিল।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ