Home / অর্থনীতি ও বানিজ্য / আরও ৬ নতুন বীমা আসছে

আরও ৬ নতুন বীমা আসছে

আরেক দফায় ছয়টি নতুন বীমা কোম্পানির লাইসেন্স দিতে যাচ্ছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এসব বীমা কোম্পানিকে অনুমোদন দেওয়ার জন্য আইডিআরএ’র কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আইডিআরএ’র সমন্বয় কমিটির সভায় নতুন বীমা কোম্পানির অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ বলেন, আগামীকাল (আজ) সমন্বয় কমিটির সভায় নতুন বীমা কোম্পানির অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি আলোচনা হবে। তবে কতটি বীমা কোম্পানির অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে এবং কারা পাচ্ছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দফায় নতুন বীমা কোম্পানির অনুমোদন পাওয়ার তালিকায় সম্ভাব্য যে কয়েকটি বীমা কোম্পানি আলোচনার শীর্ষে রয়েছে সেগুলো হল-ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর একতা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার এনআরবি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরীর স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফের আত্মীয়ের ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
এছাড়াও আলোচনায় রয়েছে প্রাইম গ্রুপের এমএ খালেকের ফারইস্ট জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সাধারণ বীমার চেয়ারম্যান শামসুল আলমের বাংলাদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ লাইফ, প্রভিডেন্ট লাইফ, বেঙ্গল লাইফ, প্রাইম এশিয়া ও প্যান এশিয়া লাইফ কোম্পানি। এসব কোম্পানি থেকে দুয়েকটির অনুমোদন হতে পারে। এদিকে নতুন বীমা কোম্পানির অনুমোদন দেওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন বীমা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নতুন বীমার নিবন্ধন সংক্রান্ত প্রবিধানে বলা হয়েছে, নতুন বীমার আবেদনপ্রাপ্তির ৪০ দিনের মধ্যে আবেদন নামঞ্জুর করতে পারবে এবং নামঞ্জুর করার অনধিক পাঁচ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে জানাতে হবে। আবেদনকারী পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবে। কিন্তু ইতোমধ্যে সাত মাস অতিবাহিত হলেও প্রথম দফায় যারা বীমা অনুমোদন পাননি তাদের জানানো হয়নি। ওই আবেদনকারীদের মধ্য থেকেই আরেক দফা লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এতে করে আইনি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে নির্বাচনকালীন সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন করে বীমা কোম্পানির অনুমোদন দিতে পারে কি না, তা নিয়েও আইডিআরএ’র মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে আইডিআরএ’র সদস্যরা বলেন, নতুন বীমার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে আমাদেরকে জানানো হয়নি। চেয়ারম্যানের দফতর থেকে বুধবারের সমন্বয় কমিটির সভার নোটিস দেওয়া হলেও সভার আলোচ্যসূচির বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। অন্যদিকে বীমা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে ৬২টি বীমা কোম্পানি রয়েছে। এটি প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি। বিদ্যমান কোম্পানিগুলোই ঠিকমতো চলতে পারছে না। এই অবস্থায় শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় ইতোমধ্যে ১১টি বীমা কোম্পানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়লে বীমা খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে এবং বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বীমাকারীর নিবন্ধন প্রবিধানমালা-২০১৩ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। গেজেট প্রকাশের পর ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন দফা বাড়িয়ে ১৫ মে পর্যন্ত নতুন বীমার নিবন্ধনের আবেদন জমা নেওয়া হয়। পরে ৭৭টি আবেদন জমা পড়ে এবং সেগুলো যাচাই-বাছাই করে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে গত ৪ জুলাই ১১টি নতুন বীমা কোম্পানির অনুমোদন দেওয়া হয়।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ