Home / অর্থনীতি ও বানিজ্য / ব্যবসায়ীদের সমঝোতা প্রস্তাব পাত্তা পাচ্ছে না

ব্যবসায়ীদের সমঝোতা প্রস্তাব পাত্তা পাচ্ছে না

এসএম আলমগীর: সরকার ও বিরোধী দলের সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের দাবিতে ব্যবসায়ী সমাজ গত রোববার সারাদেশে সাদা পতাকা মিছিল ও মানববন্ধন করেও দু’পক্ষের কাছে পাত্তা পাচ্ছে না। বিজয় দিবস পার হতেই ১৮ দল আবার ৭২ ঘণ্টা অবরোধ ডাকায় ব্যবসায়ীদের হতাশা বেড়ে গেছে। আবার রোববারের সাদা পতাকা মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে ব্যবসায়ীদের ওপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে জানান এক শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, সেদিন অনেক বক্তা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানানোয় এবং সরকারের সমালোচনা করায় প্রধানমন্ত্রী নাখোশ হয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের আহ্বানে সাড়া না দেওয়া প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ সকালের খবরকে বলেন, আমাদের আহ্বানে এখনও কোনো পক্ষই সাড়া দেয়নি। তবে আমরা চাপ অব্যাহত রেখেছি। নিজেদের মধ্যে একের পর আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি শান্তিপূর্ণ উপায়ে আমরা কীভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে পারি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনিচ্ছুক অপর নেতা জানান, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি একে আজাদ তার দায়িত্বকালে বেশ কয়েকবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ব্যবসায়ীরা জানেন যে, সেই সময় সরকারই তার মুখ দিয়ে এ কথা বলিয়েছিল। এখন ব্যবসায়ী সমাজের মঞ্চ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে বলায় প্রধানমন্ত্রী চটেছেন।
সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষের উপেক্ষায় হতাশ ব্যবসায়ীরা আরও কঠোর কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামার চিন্তা করছেন।
গত অক্টোবর থেকে একের পর এক হরতাল অবরোধে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। কারখানায় উত্পাদন বন্ধের পথে। আমদানি-রফতানি খাতে নেমেছে ধস। অনেক উদ্যোক্তা কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। রফতানি বাণিজ্যের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের করুণ দশা। বিদেশি ক্রেতারা রফতানি আদেশ বাতিল করছেন দেদার। এভাবে ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে। সবার আগে রাজপথে নামেন গার্মেন্টস মালিকরা। বিজিএমইএর নেতৃত্বে পোশাক শিল্প মালিকরা ২ ডিসেম্বর মিছিল সহকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মারকলিপি দিতে যান। রাজধানীর ফার্মগেটে পুলিশের হাতে লাঞ্ছিতও হন কয়েক গার্মেন্টস মালিক। পরে ২৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেন। ওই দিনই বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন ব্যবসায়ীরা। সর্বশেষ গত রোববার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশ অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) সারাদেশে সাদা পাতাকা মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
এফবিসিসিআই সূত্রে জানা গেছে, শান্তি মিছিলের পর গতকাল ফেডারেশন ভবনে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসহ সব ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন এফবিসিসিআই নেতারা। পরবর্তীতে কী কর্মসূচি দেওয়া যায় সে বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলন-কর্মসূচির আহ্বান করা হলেও তাতে সরকারবিরোধী কোনো মনোভাব পোষণ করতে চান না ব্যবসায়ীরা।
এফবিসিসিআইর সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে অশান্ত হওয়ার জন্য উত্সাহিত করছে। আমরা আগামী সপ্তাহে বোর্ড মিটিংয়ে মিলিত হব। ওই বৈঠকেই পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামীন বলেন, আমাদের আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় আমরা হতাশ। আমরা বুঝি না দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেলে রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করবেন কী নিয়ে, তারা দেশ চালাবেন কী করে। তবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আমরা আমাদের প্রতিবাদ জানিয়ে যাব। এ বিষয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমাদের সমঝোতার আহ্বান তারা আমলে তো নিচ্ছেই না, উল্টো সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিরোধী দল যেমন কঠোর থেকে কঠোর আন্দোলন ও সহিংসতা বাড়াচ্ছে, তেমনি বিরোধী মত দমনে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরা সমঝোতার কোনো লক্ষণ দেখছি না। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে দেশের অর্থনীতি যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা আমার বোধগম্য নয়।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ