Home / অর্থনীতি ও বানিজ্য / হারিয়ে যাচ্ছে ফসলী জমি

হারিয়ে যাচ্ছে ফসলী জমি

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, নগর সম্প্রসারণ শিল্প উন্নয়নের কারণে চট্টগ্রামের শহরতলী এবং পটিয়া, আনোয়ারা, হাটহাজারী, চান্দগাঁও, সীতাকুন্ড এলাকার ফসলী জমি ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। আগে যেখানে ফসলী জমিতে বছরে দুই থেকে তিনবার ধান উত্পন্ন হত এখন সেখানে বড় বড় অট্টালিকা, মার্কেট, শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। ফসলী জমি হারিয়ে যাওয়ায় ধান উত্পাদন অনেক কমে গেছে। বাস্তব পরিস্থিতির নিরিখে চট্টগ্রাম শহর ক্রমেই সমপ্রসারিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরে খালি জায়গা না থাকায় লোকজন শহরের বাইরে বাড়ি-ঘর নির্মাণের ব্যাপারে আগ্রহী হচ্ছেন। চট্টগ্রাম শহর থেকে শহরের বাইরে জমির মূল্য তুলনামূলক কম হওয়ায় সবাই শহরের বাইরে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করছেন। তাছাড়া চট্টগ্রাম শহরের সাথে শহরতলীতে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় শহরের বাইরে থেকে চট্টগ্রাম শহরের কর্মস্থলে যাতায়াতে কোন অসুবিধা হচ্ছে না। চট্টগ্রাম শহরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে নতুন শিল্প কারখানা গড়ে তোলার জন্য জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই চট্টগ্রামের শিল্পপতিরা চট্টগ্রাম শহরের বাইরে শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা করার জন্য ছুটছেন। এভাবে ফসলী জমিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিম পটিয়ার বাসিন্দা মহিউদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম শহর সমপ্রসারিত হওয়ায় আমাদের এলাকার জমির দাম আগের তুলনায় অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ধানী জমিতে ধান চাষ করে চাষির ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা ধান চাষ ছেড়ে দিচ্ছে। ধান চাষ করে লোকসান দেয়ার চেয়ে ধানী জমি ভরাট করে বাড়ি-ঘর তৈরি করে ভাড়া দিলে ধান চাষের আয় থেকে অনেক বেশি আয় হয়। এ কারণে অনেকেই ধানী জমিতে বাড়ি-ঘর, দোকানঘর নির্মাণ করছেন। হাটহাজারী এলাকার আবদুল হাই বলেন, আমাদের এলাকায় আগে যেখানে ধান চাষ হত এখন সেখানে ছোট-বড় শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। যেভাবে ফসলী জমি হারিয়ে যাচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে ধান চাষ বন্ধ হয়ে যাবে। ধান উত্পাদন একেবারে কমে যাবে। আনোয়ারা এলাকার ইলিয়াছ তালুকদার বলেন, নগর সম্প্রসারণের কারণে আমাদের গ্রামীণ এলাকাগুলো উন্নত হয়ে উঠছে। চট্টগ্রাম শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় বিভিন্ন ডেভেলপার এলাকা প্রতিষ্ঠানগুলো ধানী জমি ক্রয় করে প্লট হিসেবে তৈরি করে বিক্রি করছে। অনেকেই এসব প্লট কিনে বাড়ি-ঘর তৈরি করছে। ধান চাষে কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় বেশি টাকার লোভে তারা ধানী জমি বিক্রি করে ফেলেছে। চান্দগাঁও এলাকার জসীম বলেন, আমাদের হাদি চর এলাকায় আগে প্রচুর ধান উত্পন্ন হত। এখন এসব ধানী জমিতে শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। আবাসিক এলাকা গড়ে উঠছে। এভাবে আমাদের এলাকা থেকে ফসলী জমি হারিয়ে গেছে বহু আগে। ফসলী জমি রক্ষার্থে সুষ্ঠু পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। ফসলী জমি হারিয়ে গেলে ধান অথবা অন্যান্য ফসল উত্পাদন কমে যাবে। ধান উত্পাদন কমে গেলে দেশে খাদ্য অভাব দেখা দিবে। এভাবে ধান উত্পাদন কমতে থাকলে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা ছাড়া উপায় থাকবে না। তাই এখন থেকেই এ ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। ফসলী জমিতে বাড়ি-ঘর, শিল্পকারখানা, আবাসিক এলাকা, মার্কেট, নির্মাণ বন্ধ করার ব্যাপারে সরকারকে কঠোরভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরিত্যক্ত অনাবাদী এলাকায় আবাসিক এলাকা, শিল্প এলাকা প্রতিষ্ঠা করতে উত্সাহিত করতে হবে। তবেই এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ