Home / অর্থনীতি ও বানিজ্য / রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনুকূলে অর্থ ছাড়

রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনুকূলে অর্থ ছাড়

শর্তসাপেক্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ করল সরকার। তবে এ টাকা খরচের জন্য পাঁচটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। শর্তগুলো হলো, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো এ টাকা পুনঃতহবিলীকরণ ছাড়া অন্য কোন খাতে ব্যয় করতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যাংকের অটোমেশন খাতে এ টাকা ব্যয় করা যাবে। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে প্রচলিত সকল আর্থিক বিধি-বিধান এবং অনুশাসন মেনে চলতে হবে। কোন অবস্থাতেই এ টাকা রাজস্ব ব্যয় হিসেবে খরচ করতে পারবে না এবং আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অটোমেশনের অ্যাকশন প্ল্যান বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। উল্লেখ্য, পাঁচটি শর্তের অধিকাংশই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেয়া। গত মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের অনুকূলে ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। রোববার এ অর্থ পায় চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংককে ১ হাজার ৯৯৫ টাকা, জনতা ব্যাংককে ৮১৪ টাকা, অগ্রণী ব্যাংককে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা এবং রূপালী ব্যাংককে ২১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এই চার ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি রয়েছে ৪ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা। একই রকমভাবে জনতা ব্যাংকের ঘাটতি ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা এবং রূপালী ব্যাংকে ১৭০ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি রয়েছে। ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পুনর্মূলধনীকরণের পর চার ব্যাংকের ঘাটতি নেমে আসবে ৪ হাজার ৭৬০ কোটি টাকায়। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের ২ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা, অগ্রণী ১ হাজার ৩৯৯ ও জনতা ব্যাংকের ৭৫৯ কোটি টাকা ঘাটতি থাকবে। রূপালী ব্যাংকের কোন ঘাটতি থাকবে না। জানা যায়, মহাজোট সরকারের শেষ সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূলধন বাড়াতে (পুনর্মূলধনীকরণ করতে) সরকারকে নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছিল আইএমএফ। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যাংকগুলোকে তহবিল যোগান দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে পরামর্শও দেয় সংস্থাটি। সূত্র মতে, হলমার্ক ও বিসমিল্লাহ গ্রুপের কেলেঙ্কারির মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ বেরিয়ে গেছে গত কয়েক বছরে। ফলে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি বেড়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত দুর্বল ও মুনাফা কমেছে। আইএমএফ ও বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংককে পুনর্মূলধনীকরণ করতে নানাভাবে পরামর্শ দিয়ে আসছিল।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ