Home / জেলার খবর / হেলিকপ্টারে উড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট চাইলেন আ’লীগ নেতা
হেলিকপ্টারে উড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট চাইলেন আ’লীগ নেতা

হেলিকপ্টারে উড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট চাইলেন আ’লীগ নেতা

লিকপ্টারে উড়ে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইলেন আওয়ামী লীগ নেতা। গোপন বৈঠক করলেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু নেতাদের সঙ্গে। অবশেষে ফিরে গেলেন ঢাকায়।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় হেলিকপ্টারে এলাকা সফরে ভোটাররা বলছেন, ‘দল বিহীন’ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিজেদের মধ্যেই কাড়াকাড়ি শুরু করেছে। এদিকে হেলিকপ্টার নিয়ে এলাকায় এসে এক প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ায় ভয়-ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আয়েশা আলী।

এ চিত্র হাতিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৬ আসনের। আগামী ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে এখানে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আমীরুল ইসলাম আমীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হরিণ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এই প্রচারণায় সহায়তা করতে মঙ্গলবার দুপুরে হেলিকপ্টারে হাতিয়া সফর করেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী। তিনি এবার ওই আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
সফর সম্পর্কে কথা বলতে চাইলে একরামুল করিম চৌধুরীকে পাওয়া যায়নি। তবে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. মইনুদ্দিন স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, এটা নির্বাচনী প্রচারণা নয়, ব্যক্তিগত সফর।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আয়েশা আলী। হাতিয়ার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভায় রাতদিন প্রচারণা চলছে তার। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত মোহাম্মদ আলী বাংলানিউজকে বলেন, প্রচারণা চালাতে কোনোন সমস্যা নেই। তবে বাইরে থেকে সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। সে চেষ্টা ব্যর্থ হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একরামুল করিম চৌধুরী মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে সরাসরি হেলিকপ্টারে হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় মানুষ জড়ো হলে তাদের সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে কথা বলেন। সেখান থেকে হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে পৌঁছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ঢাকায় ফেরেন তিনি। তার স্ত্রী ছাড়াও সফর সঙ্গী হিসেবে আরও ছিলেন সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে আওয়ামী লীগের এই নেতা হাতিয়ায় ঝটিকা সফর করেছেন। তিনি নিঝুম দ্বীপে রাস্তাঘাট ও ভবন নির্মাণের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান। এলাকাবাসী তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন আপনি তো আওয়ামী লীগের নেতা, দলের প্রার্থী বাদ রেখে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন কেন? জবাবে এলাকাবাসীকে তিনি ‘বিভ্রান্ত না হওয়ার’ আহ্বান জানান।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিঝুম দ্বীপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, একরামুল করিম চৌধুরী নিঝুম দ্বীপের নামার বাজার নামক স্থানে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। এসময় স্থানীয় জনসাধারণ ভিড় করলে আওয়ামী লীগের এই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আমীরুল ইসলাম আমীরের হরিণ প্রতীকের পক্ষে ভোট চান। ভোটারদের প্রতি ‘হরিণকে’ বাঁচানোর আহ্বান জানান তিনি।

নিঝুম দ্বীপ থেকে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি সরাসরি এসে হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে ফজলুল আজিম আদর্শ মহিলা কলেজ মাঠে নামে। হেলিকপ্টার থেকে নেমে একরামুল করিম চৌধুরী স্থানীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। নির্বাচন সামনে রেখেই তার এ সফর বলে জানা গেছে।

সূত্র বলছে, গণমাধ্যমসহ বাইরের লোকজনের আড়ালে ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে তৎপরতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। নির্দেশনা দিতে গিয়ে একরামুল করিম চৌধুরী বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আমার দিকে তাকিয়ে হরিণ প্রতীকে ভোট দিন। হরিণ এক ভোট পেলেও এমপি হবে। প্রশাসনিক দায়িত্ব আমার, আপনারা মাঠে কাজ করুন।

বৈঠকে হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক ওয়ালিউল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বাবুসহ উভয় দলের বেশকিছু নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্র দাবি করেছে।

হাতিয়া সদরে প্রায় আধাঘণ্টা অবস্থানের পর হেলিকপ্টারে ঢাকায় ফেরেন একরামুল করিম চৌধুরী।

বৈঠকের কথা অস্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমদ বাংলানিউজকে বলেন, এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা দলের নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের মূলধারা দলের মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে নেই। আমরা নিষ্ক্রিয় আছি।

এদিকে মঙ্গলবার রাতেই নির্বাচনী প্রচরণায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে অভিযোগ করে হাতিয়া থানায় জিডি করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আয়েশা আলী। এতে বলা হয়, নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে হেলিকপ্টার নিয়ে এলাকায় এসে এক প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ায় এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাতিয়ায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যুদ্ধ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সব সময়ই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলের একটি অংশ তৎপর থাকছে। আওয়ামী লীগের এই দলাদলির ফায়দা নিচ্ছে অন্যরা। নানাভাবে আওয়ামী লীগের বিভক্তি জিইয়ে রেখে সুবিধা নিচ্ছেন এখান থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল আজিম।

২০০৮ সালে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সভাপতি ও স্থানীয় নেতা মোহাম্মদ আলী। কিন্তু ঋণ খেলাপির কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল হলে মহাজোট থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আয়শা আলীকে সমর্থন দেয়। কলস প্রতীক নিয়ে ভোট করেন তিনি। ওই সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ আরও অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল আজিমের হরিণ প্রতীক নিয়ে মাঠে নামেন।

এবারের নির্বাচনে আয়শা আলী মনোনয়ন পেলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ দলের একাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী আমীরুল ইসলাম আমীরকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

এদিকে হাতিয়ার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ঘুরে দুই প্রার্থীর প্রচারণা লক্ষ্য করা গেছে। গ্রামের মেঠোপথে চোখে পড়েছে ভোট প্রার্থনায় মাইকের প্রচারণা। হাটবাজার ও বাড়িঘরে লাগানো হচ্ছে পোস্টার। প্রত্যন্ত এলাকার ছোট বাজারের প্রার্থীদের ক্যাম্প অফিস খোলা হয়েছে। দুই প্রার্থী ভোটারদের বাড়ি গিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে গণসংযোগ ও হাটবাজারে পথসভা করছেন।

প্রচরণা চলছে। ঘনিয়ে আসছে নির্বাচন। কিন্তু চারদিকে জলরাশি বেষ্টিত উপকূলের এই প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফেরেনি নির্বাচনের সেই পুরানো আমেজ। তবে প্রার্থীদের সমর্থকরা দাবি করছেন, নির্বাচনের দিন লাইন ধরে ভোট দেবেন ভোটাররা।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ