Home / জেলার খবর / খুলনার ধনী-গরীব এমপি প্রার্থীদের হলফনামা

খুলনার ধনী-গরীব এমপি প্রার্থীদের হলফনামা

আগামী দশম জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী হয়েছেন ১১জন। এদের মধ্যে যেমন রয়েছেন সম্পদশালী ধনী প্রার্থী, তেমন রয়েছেন গরীব প্রার্থীও। যাদের পেশা কৃষি, ব্যবসা, ঠিকাদারী ও সাংবাদিকতা। আর এসব প্রার্থীরা কেউ কেউ মাস্টার্স ডিগ্রিধারী, কেউ আবার স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন।

সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হলফনামা সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাট) আসনে তিন জন প্রার্থী হয়েছেন।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পঞ্চানন বিশ্বাসের প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে। রাজউকে একটি প্লট রয়েছে তার। কৃষি ও ব্যবসা থেকে পঞ্চানন বিশ্বাসের বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে তিনি হলফনামায় লিখেছেন বিএ পাশ।

স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ননী গোপাল মন্ডলের বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তার ৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৩৭ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ টাকা নগদ এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ২৯১ টাকা। রয়েছে ৯ একর কৃষি এবং ১০ কাঠা অকৃষি জমি। নিজের কাছে ৩২ হাজার মার্কিন ডলার আছে বলেও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি। পেশা হিসেবে ননী গোপাল হলফনামায় লিখেছেন কৃষি ও ব্যবসা। আর শিক্ষাগত যোগ্যতায় নিজেকে বিএ পাশ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

অপর প্রার্থী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দলের চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সুনীল শুভ রায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৬০ হাজার টাকা, অর্থ্যাৎ প্রতি মাসে তার আয় মাত্র ৫ হাজার টাকা। অথচ সম্পদের ঘরে ব্যাংকে জমা দেখিয়েছেন ১২ লাখ টাকা। ৫ লাখ টাকা সমমূল্যের স্বর্ণের মালিক সুনীল শুভর অন্যান্য সম্পদের মূল্য এক কোটি টাকা।

জাপার এ প্রেসিডিয়াম সদস্য নিজের পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন সাংবাদিকতা (যদিও সংবাদ পত্রের নাম উল্লেখ নেই)। আর শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন এম এ পাশ।

খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে প্রার্থী হয়েছেন ২ জন ।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজানের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। নগদ ২২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মালিক তিনি। ব্যাংকে জমা থাকা ৯ লাখ টাকাসহ তার মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৮ লাখ টাকা। এছাড়া, যৌথ মালিকানায় ১৫ বিঘা কৃষি জমি, ১৬ কাঠা অকৃষি জমি ও একটি ভবন রয়েছে মিজানুরের। পেশায় নিজেকে ঠিকাদারী উল্লেখ করা মিজানুর তার শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন বিএ পাশ।

অপর প্রার্থী জাতীয় পার্টির (জেপি-মঞ্জু) রাশিদা করিম শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন বিএ বিএড। নিজের পেশা হিসেবে বাগেরহাটের হাকিমপুর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উল্লেখ করা রাশিদা করিম তার হলফনামায় ৫ লাখ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন।

আসন্ন নির্বাচনে খুলনা-৩ (খালিশপুর- দৌলতপুর- খানজাহান আলী) আসনে প্রার্থী হয়েছেন তিন জন।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের বার্ষিক আয় ১৮ লাখ টাকা। তিনি সম্মানি ভাতা থেকে ৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে দেড় লাখ টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে ৫৪ হাজার টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ১০ লাখ ১৩ হাজার টাকা আয় করেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। এছাড়া, প্রতিমন্ত্রীর কাছে নগদ রয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৫০ টাকা। ব্যাংকে থাকা ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকাসহ তার সম্পদের পরিমাণ ৬৩ লাখ টাকা। তিনি পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন কৃষি ও নিজস্ব মুগরীর খামার। শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন বিএ অনার্স (বাংলা)।

এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র মনিরুজ্জামান খান খোকন। খোকনের শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়েছে বিএ অনার্স। এছাড়া হলফনামায় আর কোনো তথ্য দেননি তিনি।

অপর প্রার্থী স্বতন্ত্র সাহিদা বেগমের কোনো সম্পদ নেই। তিনি পেশার ঘরে লিখেছেন সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে লিখেছেন স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন।

খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) আসনে প্রার্থী হয়েছেন কেবল একজন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত এ প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক হুইপ এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা। তার স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। তিনি পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন কৃষি ও ব্যবসা। শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন বিএ পাশ। জেলার ৬টি আসনের ১১জন সংসদ সদস্য প্রার্থীর মধ্যে মোস্তফা রশিদী সুজাই সবচেয়ে বেশি অর্থ ও সম্পদের মালিক।

খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনেও প্রার্থী হয়েছেন একজন।

আওয়ামী লীগের মনোনীত এ প্রার্থী হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তার বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কৃষি ও ব্যবসা থেকে তিনি এ টাকা আয় করেন। তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৬ টাকা, ২টি জিপ গাড়ি, ৪ দশমিক ১৭ একর কৃষি ও দশমিক ৬৫ একর অকৃষি জমি। তিনি পেশার ঘরে লিখেছেন কৃষি ও ব্যবসা। শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন এম এ পাশ।

খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনেও একক প্রার্থী।

আওয়ামী লীগ মনোনীত এ প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মো. নুরুল হক। তার বার্ষিক আয় ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তার সম্পদের মধ্যে নগদ, ব্যাংক ও অন্যান্য মিলিয়ে ২৮ লাখ টাকা, ৩টি গাড়ি, ৩৫ লাখ টাকার জমি ও দুটি দালান রয়েছে। পেশা হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন ব্যবসা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন বিএ, এলএলবি।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ