Home / জেলার খবর / নীলফামারীতে চারটি আসনে দুটিতে নির্বাচন, দুটিতে আ.লীগ-জাপা

নীলফামারীতে চারটি আসনে দুটিতে নির্বাচন, দুটিতে আ.লীগ-জাপা

নীলফামারীর চারটি আসনের মধ্যে দুটিতে নির্বাচন হবে। অপর দুটিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় একটিতে আওয়ামী লীগ ও অন্যটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন।

নীলফামারী-২ (সদর) আসনের পরপর দুবার নির্বাচিত বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতি সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূর। নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে চলেছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ শওকত চৌধুরী। এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) ইবনে আইন মারুফ সাকলান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শওকত সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন।

নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) ও নীলফামারী-৩ (জলঢাকা-কিশোরগঞ্জ আংশিক) আসনে প্রার্থী রয়েছেন দুজন করে। এ আসন দুটির মধ্যে নীলফামারী-১ আসনে আওয়ামী লীগ ও নীলফামারী-৩ আসনে জাতীয় পার্টি জয়ী হবে খুব সহজেই।

নীলফামারী

ডোমারের ১০টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা এবং ডিমলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নীলফামারী-১ আসন। ২০০৮ সালে এ আসনে মোট ভোটার ছিল ২ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭৪। এবার ৪৪ হাজার ৩৯৫ ভোট বেড়েছে। এই আসনে প্রার্থী ছিলেন চারজন। কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলেও ঋণখেলাপির দায়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য জফর ইকবাল সিদ্দিকী এবং টেলিফোন বিল বকেয়া থাকায় জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এনকে আলম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এখন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও ডিমলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন সরকার (নৌকা প্রতীক) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) প্রার্থী খায়রুল আলম আনাম (মশাল প্রতীক)। এখানে যদিও দুজন প্রার্থী হিসেবে নতুন তারপরেও এ আসনটিতে আফতাব উদ্দিন সরকারকে তেমন প্রচারে নামতে হবে না। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাসদের খায়রুল আলম আনাম এখানে ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন না বলে অভিমত সকলের।

কারণ আওয়ামী লীগের আফতাব উদ্দিন সরকার বর্তমানে ডিমলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকায় তার বেশ পরিচিতি রয়েছে এলাকায়। অপরদিকে খায়রুল আলম আনামের তেমন পরিচিত নেই এখানে। নিয়ম রক্ষার্থে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

নীলফামারী

নীলফামারী সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-২ (সদর) আসন। ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৯। ২০০৮ সালে এ আসনে মোট ভোটার ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ২৭৭। এবার ৩১ হাজার ৩২ জন ভোটার বেড়েছে। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন তিনজন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির এ প্রার্থী ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আগেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। অপর দুই প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী আনারুল ইসলাম রব্বু প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান নূর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আসাদুজ্জামান নূর ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফকে ৪১ হাজার ১২৫ ভোটে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে আসাদুজ্জামান নূর পুনরায় চারদলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী বর্তমান জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মনিরুজ্জামান মন্টুকে ৫৩ হাজার ৩০২ ভোটে পরাজিত করেন।

নীলফামারী

জেলার জলঢাকা উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৩ আসন। এবার মোট ভোটার ২ লাখ ৬১ হাজার ৪৪৬। ২০০৮ সালে এ আসনে ভোটার ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৫২। এবার ২৬ হাজার ৬৯৪ জন ভোটার বেড়েছে। দশম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট তিনজন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী অধ্যাপক আজিজুল ইসলাম প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় এখন এখানে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা (নৌকা) ও জাতীয় পার্টির এ বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী ফারুক কাদের (লাঙল)। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন না জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী ফরুক কাদেরের সঙ্গে। কারণ হিসেবে কাজী ফারুক কাদের দীর্ঘ পাঁচ বছর সংসদ সদস্য ছিলেন, বর্তমানেও আছেন।

নীলফামারী

সৈয়দপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা এবং কিশোরঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৪ আসন। এবার মোট ভোটার ২ লাখ ৭৯ হাজার ১০২। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোটার ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২। এবার ৩৩ হাজার ১০ জন ভোটার বেড়েছে। এবারের নির্বাচনে এ আসনে মোট দুজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলহাজ শওকত চৌধুরীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কথা থাকলেও তিনি তা করেননি। অপরদিকে হঠাত্ করে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) ইবনে আইন মারুফ সাকলান। যার ফলে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ফাঁকা মাঠে গোল দিলেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব শওকত চৌধুরী।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ