Home / জেলার খবর / প্রেমিককে কারাগারে রেখে মায়ের জিম্মায় প্রেমিকা ইমা
প্রেমিককে কারাগারে রেখে মায়ের জিম্মায় প্রেমিকা ইমা

প্রেমিককে কারাগারে রেখে মায়ের জিম্মায় প্রেমিকা ইমা

মায়ের জিম্মায় চলে গেছেন প্রেমিকা ইমা। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে আদালতে আবেদন করে বৃহস্পতিবার মায়ের কাছে চলে গেছেন তিনি। আর প্রেমিক অসীম এখনও কারাগারে। গ্রেপ্তারের পর আদালতে ইমা প্রথমে ২২ ধারায় যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন তাতে জানিয়েছিলেন, অসীমকে তিনি ভালবেসে বিয়ে করেছেন। দীর্ঘ ৮ বছরের প্রেমের ইতি তিনি বিয়ের মাধ্যমে ঘটিয়েছেন। কিন্তু টানা ১১ দিন হাজতবাসের পর অবশেষে মায়ের জিম্মায় চলে গেছেন ইমা।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, সিলেটের নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা ইমা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের কর্মকর্তার মাধ্যমে আদালতে মায়ের জিম্মায় চলে যাওয়ার আবেদন জানান। সে প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেটে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ইমা জানান, তিনি মায়ের জিম্মায় যেতে রাজি। আর মা খায়রুন্নাহার চৌধুরীও ইমাকে নিজের জিম্মায় নিতে রাজি। এ কারণে আদালত ইমাকে মায়ের জিম্মায় মুক্তি দিয়েছে।
অসীম সিলেটের নাট্যাঙ্গনে তরুণ কর্মী। সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে রয়েছে তার পরিচিতি। আর নাজনিন চৌধুরী ইমা একজন ব্যাংকার। প্রায় ৮ বছরের প্রেম দুজনের। এই প্রেমের টানে সুদূর প্রবাস থেকে ছুটে এসেছেন অসীম। ইমার ভালবাসা ভুলতে না পেরে পরিবারের কাউকে কিছুই না বলে তিনি সুইডেন থেকে দেশে চলে আসেন। আর দেশে আসার পর সবার অলক্ষে দুজন বিয়ের বাঁধনে আবদ্ধ হন। এরপর ইমা অসীমের হাত ধরে ঘর ছাড়েন। ৮ ডিসেম্বর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ১৫ দিন আগে অসীমের হাত ধরে ইমা ঘর ছেড়েছিলেন। এরপর অসীম দাস হন অপহরণ মামলার আসামি।
তবে, গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিতে ইমা জানিয়েছেন, ‘অসীমকে তিনি ভালবেসে বিয়ে করেছেন। ৮ বছরের প্রেমের পরিণতি হিসেবে তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন।’ চলতি মাসের ৮ই ডিসেম্বর নগরীর ধোপাদীঘির পাড় থেকে অসীম দাস (৩০) ও আফরোজা নাজনীন চৌধুরী ইমা (২৫) নামের এ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছিল সিলেটের পুলিশ।ইমার মা নগরীর হাতিমবাগ, শিবগঞ্জের বাসিন্দা খায়রুন্নাহার চৌধুরীর করা মামলার ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর অসীম ও ইমা পুলিশকে জানান, স্পেশাল ম্যারেজ এক্টে বিয়ে করেন। বাড়ি থেকে পালানোর পরই গত ২৩শে নভেম্বর ইমার মা খায়রুন্নাহার চৌধুরী কোতোয়ালি থানায় অসীমের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলায় অসীম ছাড়াও অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়। ৮ই ডিসেম্বর বিয়ের বিষয়টি আপসে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ইমাকে নিয়ে অসীম ইমার বড়বোনের সঙ্গে ধোপাদীঘির পাড়ে দেখা করতে যান। এ সময় ইমার বড়বোন হাফিজা নাজনীন চৌধুরী পুলিশকে খবর দিয়ে অসীম ও ইমাকে ধরিয়ে দেন। পুলিশ নবদম্পতিকে আটকের পর অসীমকে আদালতের মাধ্যমে ও ইমাকে সিলেটের নিরাপত্তা হেফাজতে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্র জানায়, ইমা প্রথমে মায়ের জিম্মায় যেতে রাজি ছিলেন না। নিজের জিম্মায় মুক্তি চেয়েছিলেন ইমা। এ কারণে তিনি আদালতে নিজের জিম্মায় মুক্তির আবেদন করেন। আর মা খায়রুন্নাহার চৌধুরীর আবেদন প্রথমে গ্রহণ না হলেও পরে তিনি ফের মেয়েকে নিজের জিম্মায় নিতে আবেদন জানিয়েছেন। এ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়ায় ১৫ই ডিসেম্বর আদালতে শুনানিতে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। এ কারণে আগামীকাল রোববার সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু তার আগেই ইমা তার মায়ের জিম্মায় চলে যাওয়ার আবেদন করলেও বৃহস্পতিবার তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে মায়ের কাছে চলে গেছেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ