Home / জেলার খবর / ঝিনাইদহে পানির দামে বিক্রি হচ্ছে পান

ঝিনাইদহে পানির দামে বিক্রি হচ্ছে পান

হরতাল অবরোধে দক্ষিণ পশ্চিমের জেলাগুলোতে পানের ব্যাপক দরপতনে পান চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অঞ্চলে অন্যতম অর্থকরি ফসল পান । পান বরজ করে অনেকের অভাব ঘুচেছে।

কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলায় ১১শ’ ৫৩ হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায় ১৯শ’ ২৫ হেক্টরে, মাগুরা জেলায় ১১৬ হেক্টরে, নড়াইল জেলায় ৪২৬ হেক্টরে, খুলনা জেলায় ৬৩০ হেক্টরে, বাগেরহাট জেলায় এক হাজার ৬৫ হেক্টরে, সতক্ষীরা জেলায় ৪৮০ হেক্টরে, কুষ্টিয়া জেলায় ২২শ’ ৯৫ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১৮শ’ ৩০ হেক্টরে ও মেহেরপুর জেলায় ৪২৪ হেক্টর জমিতে পান বরজ রয়েছে। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আসমানখালী, সদর, আলমডাঙ্গা, মুন্সিগঞ্জ, জামজামি, ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু, জোড়াদহ, ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জ, কুষ্টিয়া জেলার লক্ষ্মীপুর, বিত্তিপাড়া, ভেড়ামারা, দৌলতপুর, পোড়াদহ, ঝাউদিয়া, তারাগুনিয়া ও কুচিয়ামোড়া, যশোরের ঝিকরগাছা, নাভারন, বাঘারপাড়া ও নওয়াপাড়া, মাগুরার শ্রীপুর, সদর, শত্রুজিত্পুর ও সীমাখালীসহ বিভিন্ন স্থানে পানের হাট বসে। এসব হাটে পান চাষিরা পান নিয়ে আসেন। ব্যাপারীরা পান কিনে বড় বড় ডোল করে। এক ডোলে এক হাজার পণ বা বিড়া পান থাকে। তারপর ট্রাকযোগে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান পাঠানো হয়। ব্যাপারীরা বলেন, অবরোধ হরতালে পানের চালান নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রাক মিলছে না। কেউ রাতে ঝুঁকি নিয়ে যেতে রাজি হলেও তিন গুণ ভাড়া নিচ্ছে। অন্যদিকে পানের দামও কমে গেছে। ছোট পান প্রতি পণ ( ৮০টি ) বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২-৩ টাকায়, বলি পান ( বড় ) প্রতি পণের দাম ২০ – ২৫ টাকা কমেছে। এসব পানের দাম ছিল ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা পণ। এক ডোল পানের দাম ২০ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা কমেছে। পান বরজে রাখা যায় না। পরিপক্ব হলে হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে। লোকসান হলেও বরজ থেকে পান ভাংচ্ছে চাষি।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গোলকনগর গ্রামের পান চাষি তবিবর মোল্লা জানান, তার ২৪ শতক জমির উপর একটি পান বরজ আছে। হরতাল অবরোধের আগে প্রতিপণ পান ৭০ টাকা করে বিক্রি করতেন। সে পান এখন ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

কালীগঞ্জের পান চাষি সমিতির সভাপতি সরোজ বিশ্বাস জানান, ডোল প্রতি পানের দাম ২৫ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা কমেছে। গত বছর এসময়ে প্রতি ডোল পানের দাম ছিল ৬০/৬৫ হাজার টাকা। এবার সে পান বিক্রি হচ্ছে ৩০/৩৫ হাজার টাকা। এ টাকায় পান বিক্রি করে চাষি ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারবে না। সুযোগ বুঝে ব্যাপারীরা পানির দামে পান কিনছে বলে তিনি জানান।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ