Home / জেলার খবর / সাতক্ষীরায় জামায়াত-শিবিরের তান্ডব: ২ আওয়ামীলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

সাতক্ষীরায় জামায়াত-শিবিরের তান্ডব: ২ আওয়ামীলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

মানবতা বিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় রাত ১০ টা ১ মিনিটে কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে সাতক্ষীরায় জামায়াত-শিবির ব্যাপক সহিংসতা তান্ডব, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালিয়ে ২ আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। রাত সাড়ে ১১ টার সাতড়্গীরার কলারোয়া উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান আজু (৫৩) কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সে কলারোয়া পেৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। নিহত পরিবারের দাবী বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ২০/২৫ জনের জামামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা তার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে। প্রথমে তারা বাড়ীতে ব্যাপক ভাংচুর করে। পরে আওয়ামী লীগ আজিজুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়। একই সময়ে পাশের বাড়ীর আওয়ামী লীগ নেতা রোসত্মম আলীর বাড়ীতে ভাংচুর লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দিয় চলে যায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এ ঘটনার ২ ঘন্টা পর রাত দেড়টার দিকে ২৫/৩০ জনের এক দল সন্ত্রাসী একই উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান জজ মিয়া (৩৫) বাড়ীতে হামলা চালায়। তারা তাদের বসতবাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে যুবলীগ নেতাকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে ওই রাতেই বাড়ীর পাশ্ববর্তী ড়্গেত্রপাড়া এলাকার রাসত্মার উপর থেকে নিহতের স্বজনরা তার লাশ উদ্ধার করে। নিহত মেহেদি হাসান গাজনা সরসকাটি গ্রামের নিজাম উদ্দীন মোড়লের ছেলে। নিহতের ভাই আব্দুর রহমান জানিয়েছে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা এ হত্যা কান্ড চালিয়েছে। তারা কুপিয়ে ও শ্বাস নালি কেটে দিয়ে তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শাহ দারাখান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ওই রাতে সাতড়্গীরার বুধহাটা, আগরদঁাড়ী, ঝাউডাঙ্গা ও দেবহাটার পারম্নলিয়া বাজারে আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী ও সংখ্যালঘুদের দোকান পাট লুট করে পেট্রল দিয়ে অগ্নিসংযোগ করে জালিয়ে দেওয়া হয়। আশাশুনির বুধহাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আক্তারম্নজ্জামানের বুধহাটা বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ওই বাজারের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চন্দন দেবনাথ,তরম্নন কুমার ও সোনা মন্ডলসহ ৭ টি সংখ্যালঘু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কাপড়ের দোকান ও কম্পিউটার এবং মুদিদোকানে হামালা চালিয়ে ভাংচুর,লুটপাট করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। একই সময়ে আওয়ামী লীগ অফিসসে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। একই সাথে কুলস্না ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসসহ কুলস্না এলাকার আও ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করে। ঝাউডাঙ্গা বাজারে আওয়ামীলীগ নেতা সাজ্জাতের সাথী ক্লথ ষ্টোর সহ বেশ কিছু সংখ্যালঘুদের দোকানপাট লুট করে আগুনদিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সাতড়্গীরা -যশোর সড়কের ছয়ঘোরিয়া এলাকায় রাসত্মায় বিপুল পরিমান গাছ কেটে সড়কে ফেলে রেখে ব্যারিকেট তৈরী করে রাখে জামায়াত-শিবিরে কর্মীরা। সেকারনে রাতে ঘটনাস্থলে পেৌছাতে পারেনি পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেট এর গাড়ী। এদিকে রাত-১১টার সময় দেবহাটার পারম্নলিয়া বাজারের আওয়ামীলীগ নেতার কাপড়ের দোকানে আগুন দিয়ে জালিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিজিবি ঘটনা স্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। অপরদিকে ওই রাতে কালিগঞ্জের বষ্ঞিপুর চেৌমুহুনী বাজারে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বাপ্পী,আনারম্নল ইসলাম,নিমাই মন্ডল,হারম্ন মন্ডল ও এরশাদ সানার মার্কেট সহ হিন্দুদের ১০ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর লুটপাট ও আগুন জ্বালিয়ে তান্ডপ চালায় জামায়াত-শিবির। সাতড়্গীরা সদর উপজেলার আঁগরদাড়ী গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা বাহাউদ্দিন ও আবাদেহাট এলাকায় আওয়মীলীগ নেতা তাপস আচায্য,শ্যামল ঘোষাল,গোপাল ঘোষালসহ আরও সংখ্যালঘুদের ১০ টি বাড়ীতে ভাংচুর করে পেট্রল দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে তান্ডব চালায় জামায়াত-শিবির।

সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জানান সহিংসতার খবর পেয়ে ওই রাতেই পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন স্থানে চালানো তান্ডব নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ