Home / জেলার খবর / শারীরিক অমতাও রুখতে পারেনি রুমকিকে

শারীরিক অমতাও রুখতে পারেনি রুমকিকে

পা সরু, শক্তি নেই,মায়ের কোলে করে পরীা দিতে এসেছে রুমকি। তার স্বপ্ন-বড় হয়ে ভবিষ্যতে শিক হয়ে জাতি গঠনে ভুমিকা রাখবে। কিন্তু তার স্বপ্ন পূরণে বড় বাঁধা তার শরীর। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারনে স্বাভাবিক শিশুদের মতো চলাফেরা করতে পারেনা রুমকি। উপজেলার কাশিপুর ইউপির ঈশানগাতী গ্রামের আব্দুর রউফ ও আবেদা সুলতানা দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে ২০০৩ সালে জন্ম মেঝ মেয়ে রুমকির। জন্মলগ্ন থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী রুমকি। ২০০৯ সালে মা আবেদা সুলতানা শিশু রুমকিকে ঈশানগাতী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করে দেয়। ভর্তির পর তার ভাই রেজওয়ান বর্ণ লেখা শেখায়। মাত্র দু’মাসে স্বরবর্ণ ও ব্যাঞ্জনবর্ণ রপ্ত করে ফেলে রুমকি। শুরু থেকে শিশুদের চক-শেট দিয়ে বর্ণ লেখা শেখালেও রুমকি প্রথম থেকেই খাতা-কলমে লেখা শেখে। প্রতি কাশে প্রথম হয় রুমকি। ২০১২ সালে চতুর্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীায় প্রথম স্থান অধিকার করে পঞ্চম শ্রেণিতে ওঠে শারীরিক প্রতিবন্ধী রুমকি। এবার চলতি প্রাথমিক শিা সমাপনী পরীায় কাশিপুর অম্বিকাচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১০৩ নম্বর কে পরীা দিচ্ছে রুমকি। দেখা যায়,দু’টি বেঞ্চের ওপর বসে পরীা দিচ্ছে সে। হাঁটু গেড়ে বসে বাম পা’র ওপর বাম হাত রেখে কলম দিয়ে লিখছে। হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলো খুব সরু। পায়ের ওপর হাত রেখে পা ঘুরিয়ে বা’হাতে সুন্দর করে লিখছে। পরিস্কার লাইনগুলো খুব সুন্দর এবং সোজা। তুমি ভবিষ্যতে কি হতে চাও-জিজ্ঞাসা করলে মুখে হাসির ঝিলিক ছড়িয়ে সে জানায়, শিক হবো। রুমকি নিজে হাটতে না পারলেও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে এই সমাজের মানুষকে পথ চলতে সাহায্য করবে নি:সন্দেহে। রুমকির মা আবেদা সুলতানা জানান,ওকে কেউ ব্যঙ্গ করলে আমার খুব কষ্ট হয়। বিদ্যালয়ের খেলাধুলায় ওর অংশ নেওয়ার খুব ইচ্ছা। কিন্তু বিধাতা মেয়েটাকে শক্তি দেয়নি। ফলাফলের পর ওকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেবো। আমার তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে রুমকি মেঝ। বাবা আব্দুর রউফ কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন,নিজে নিজে একটা বই ও তুলতে পারে না। নড়াইলের গোবরায় লাইফবয় ভাসমান হাসপাতাল ও যশোর ফাতেমা হাসপাতালে একাধিকবার চিকিৎসা করালেও শারীরিক উন্নতি হয়নি রুমকির । হালকা কিছু হলে সারা শরীর নুইয়ে পায়ের সাহায্যে বাম হাত দিয়ে তোলে। একটা হুইল চেয়ার হলে চলাচল করতে ওর সুবিধা হতো। তাছাড়া,মাধ্যমিক রুমকিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করলে হুইল চেয়ার প্রয়োজন। ঈশানগাতী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক রমজান আলী জানান,মেয়েটা অত্যন্ত মেধাবী। আলাহ ওকে শারীরিক প্রতিবন্ধী করলেও প্রত্যেক পরীায় প্রথম হয়। কাশিপুর অম্বিকাচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কমলেশ সরকার বেনু জানান,মেয়েটাকে দেখলে কষ্ট লাগে। আলাহর কাছে প্রার্থনা,তিনি যেন কাউকে এরকম না করেন।রুমকির স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ