Home / রাজধানী / “মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়নি, সাফল্যের সঙ্গে শেষ করতে হবে” আলোচনায় সভায় বক্তাগণ

“মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়নি, সাফল্যের সঙ্গে শেষ করতে হবে” আলোচনায় সভায় বক্তাগণ

জাতীয় প্রেসকাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বিকাল ৪টায় ‘বিজয়ের মাসে বন্দী গণতন্ত্র ও বিপন্ন মানবতা’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক সংকটের বিষয়ে আলোকপাত করেন। অনেক বক্তাই বলেন যে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা ছিল গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র মানে, ন্যূনতম প,ে মানুষের ভোটের অধিকার ও মানুষের পছন্দকে সম্মান করা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ। অথচ সেই আওয়ামী লীগের বর্তমান আমলেই গণতন্ত্র খাঁচায় বন্দী হয়ে গিয়েছে। গণতন্ত্রের এমন বিপন্ন বিকাশ হয়েছে যে, পার্লামেন্টের ৩০০ সদস্যের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অর্থাৎ আগামী দিনের তথাকথিত আওয়ামী লীগের স্বপ্নের পার্লামেন্টের অর্ধেকের বেশিই অনির্বাচিত সদস্য থাকবেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চতর শিায় ব্যস্ত ডাক্তার জাফরুল্লাহ, শিা পরিক্রমের মাঝপথে ইতি টেনে দেশে ফিরে এসেছিলেন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য, এবং করেছিলেনও। ডাক্তার জাফরুল্লাহ বলেন যে, আমাদের রাজনীতির, বিশেষত আওয়ামী লীগের নেতৃত্ত্বাধীন রাজনীতির বেশিরভাগ অংশই ভারতীয় পরিকল্পনায় চলে। তাই আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে।
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ইবরাহিম বলেন যে, মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়নি, আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে এই কথাটি অনেক বিপরীতমুখী মহল থেকেই উচ্চারিত হয়। তবে আমরা মনে করি যে, পাকিস্তানী চিন্তা-চেতনার অবশিষ্ট অংশও কোথাও যদি থাকে তার বিরুদ্ধে যেমন মুক্তিযুদ্ধ চলবে তেমনি ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করার উসিলায় যারা বাংলাদেশের উপর কর্তৃত্ব স্থাপন করতে চায় এবং ভারতের এই কাজে যারা সাহায্য করতে চায় তাদের বিরুদ্ধেও মুক্তিযুদ্ধ চলবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম বলেন, আমি পানি সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দিল্লীতে যখন প্রথমবার পানি সম্পদ বিষয়ক সংলাপে গিয়েছিলাম তখন, আবিষ্কার করি যে, বিগত পাঁচ বছর (১৯৯৬-২০০১) আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রী কোনোদিন টিপাইমুখ বিষয়ে কোনো কথা তুলেননি। আমি প্রসঙ্গে এজেন্ডাভুক্ত করতে সফল হয়েছিলাম। তিনি আরও বলেন যে, আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স হয়েছে, স্বাভাবিক শারীরিক কারণেই আমরা সব কাজে অংশগ্রহণ করতে পারবো না কিন্তু দেশের স্বাধীনতা রা করার জন্য যদি প্রয়োজন হয় সকল মুক্তিযোদ্ধা অবশ্যই প্রাণ দিতে প্রস্তুত। সকল বক্তাই পাকিস্তান পার্লামেন্টে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রস্তাব পাশ করার প্রসঙ্গে কঠোর প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেন। তবে একইসঙ্গে, ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভারত নামক রাষ্ট্রটি যে দৈনন্দিন ভিত্তিতে আমাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে, তারও প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেন।
অধ্যাপক পিয়াস করিম, মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান, মুক্তিযোদ্ধা হান্নান মোল্লা পলাশ, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদের সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব ইশতিয়াক আজিয উলফাত।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ