Home / রাজধানী / রাজধানীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঠিকাদারসহ নিহত ২

রাজধানীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঠিকাদারসহ নিহত ২

রাজধানীতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাজ চলাকালে দিবালোকে ঠিকাদারসহ দুই যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহতরা two photoহলেন ঠিকাদার মো. ফারুক হাওলাদার (২৮) ও মো. মিলন (২২)। এ ঘটনায় অপর এক শ্রমিক মাহমুদকে (২৭) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকালে বাড্ডার ময়নারবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদাবাজি ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অস্ত্রধারী ৪-৫ সন্ত্রাসী ওই বাড়িতে প্রবেশ করে মালিককে খুঁজতে থাকে। এরপরই তারা কর্মরত শ্রমিকদের লক্ষ করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং একই সঙ্গে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। সন্ত্রাসীদের ছোড়া একটি ককটেল পাশের বাড়ির জানালার গ্লাস ভেঙে রুমের ভিতর গিয়ে পড়ে। ওই রুমে বেসরকারি টিভি চ্যানেল ৭১-এর গাড়িচালক মজনুর দুই বছরের ছেলে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। ককটেলটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় তার বুকের ওপর পড়ে। তার ঘুম ভেঙে গেলে ককটেল দেখে সে আঁেক ওঠে। পরে সেটি পানিতে রাখা হলে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে। অলৌকিকভাবে রেহাই পায় শিশুটি।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাড়ির মালিক ফারুক মিয়া গ্রিল ব্যবসায়ী। এক সময় তার টিনশেড ঘর ছিল। তিনি সেখানে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন। বাড়ির কাজ নিয়ে এলাকার কিছু লোকের সঙ্গে তার শত্রুতাও শুরু হয়। এছাড়া ফারুকের সঙ্গে অনেকের ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল।
আহত শ্রমিক মাহমুদ জানান, উত্তর ময়নারবাগের হোসেন মার্কেটে বাড়ির মালিক ফারুকের নির্মাণাধীন ভবনের কাজ শুরুর পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অজ্ঞাতনামা ৪-৫ যুবক এসে কাজ বন্ধ করতে বলে। হঠাত্ ওই যুবকরা তাদের লক্ষ করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিত্সক ফারুক ও মিলনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মিলন বরগুনার সদর থানার গাবতলী চৌদ্দগর গ্রামের মো. হানিফের ছেলে। তিনি বাড্ডার বড়টেকের হাবিব মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া। তিনি ওই ভবনের মাটি কাটার কাজ করতেন। নিহত ঠিকাদার মো. ফারুক হাওলাদার পটুয়াখালী জেলার মির্জাপুর থানার রানীপুর গ্রামের সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। তার স্ত্রী সাথী আক্তার। সিয়াম নামে তার পাঁচ বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
বাড়ির মালিক ফারুক জানান, কয়েক দিন আগে এক যুবক নীরব নামে পরিচয় দিয়ে ফোনে চাঁদা দাবি করে। জবাবে ফারুক বলেন, ভাই আমি একজন খুব সাধারণ ব্যবসায়ী। কোনো রকমে অল্প একটু জায়গায় বাড়িটি নির্মাণ করছি। আপনারা আমার এখানে আসেন। আমার অবস্থা দেখে যান। যদি আমি টাকা দেওয়ার মতো হই, তাহলে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে যান। এরপর থেকে ওই সন্ত্রাসীরা আমাকে আর ফোন করেনি। চাঁদা দাবির পর থানায় অভিযোগ বা জিডি করার বিষয়ে ফারুকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমে বুঝতে পারিনি যে তারা এমন ঘটনা ঘটাবে। কত টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে এ বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
বাড্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন জানান, নীরব নামে কোনো সন্ত্রাসী বাড্ডা এলাকায় রয়েছে বলে তার জানা নেই। হয়তো ছদ্মনাম ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবি করেছে। পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার নুরুল আমিন বলেন, হত্যার নেপথ্যে চাঁদাবাজি নাকি অন্য ঘটনা রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি মহানগর ডিবি ও র্যাবের পক্ষ থেকে তদন্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। এসব তথ্যের মধ্যে নিহত ফারুকের সঙ্গে কয়েকজনের ব্যক্তিগত শত্রুতার কথা আমরা জানতে পেরেছি। শত্রুতার কারণে নাকি চাঁদার জন্য হত্যাকাণ্ড—তা তদন্তের পর জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা ওই এলাকার হবে। তারা মুখোশ পরে এসেছে এবং হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে হেঁটে চলে গেছে।
এ বিষয়ে র্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কিসমত হায়াত্ জানান, নির্মাণাধীন বাড়ির বালু ভরাটের জন্য তিন পক্ষ কাজ চায়। এরই মধ্যে বালু ভরাটের কাজ পায় মিলন। অপর দুই পক্ষ কাজ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল সকালে শ্রমিকদের লক্ষ করে প্রথমে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে গুলি চালায় বলে জানা গেছে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ