Home / রাজধানী / ৫৯ জেলায় রেড অ্যালার্ট

৫৯ জেলায় রেড অ্যালার্ট

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের আগের দিন ৪ জানুয়ারি থেকে ৫৯ জেলায় রেড এলার্ট থাকবে। ভোটকেন্দ্রে গড়ে তোলা হবে নিরাপত্তাবলয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায়। ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে যে কোনো মূল্যে নির্বিঘ্ন রাখতে এমন নিরাপত্তার ছক নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে সহিংসতার আশঙ্কা থাকলেও এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। অর্ধেকের কম ১৪৭ আসনে ভোটগ্রহণ হলেও তা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল। ভোটকেন্দ্র ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত ১৭ জেলাসহ ১০ সহস্রাধিক কেন্দ্র রয়েছে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব জেলার সন্ত্রাসকবলিত এলাকা ইতোমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির আওতায় রয়েছে। চলছে জেলায় জেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযান। বিশেষ এই নিরাপত্তার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-সচিব মিহির সারওয়ার মোর্শেদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গতকাল সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। কাল সকাল ৮টা থেকেই সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হচ্ছে। সূত্র জানায়, গত ২০ ডিসেম্বর ইসি কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেওয়া আশঙ্কাজনক প্রতিবেদন এবং তাদের পরামর্শে নিরাপত্তার নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা নির্বাচন নিয়ে সহিংসতার আশঙ্কা করেন। তাদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, প্রার্থীদের ওপর হামলা, ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে হামলা, ব্যালট পেপার ও বাক্স ছিনতাইসহ বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হতে পারে। তারা এসব নাশকতা রোধে পরামর্শও দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় প্রয়োজনে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহারের কথাও বলা হয়।

এদিকে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা যে কোনো ধরনের নাশকতার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতও রাখা হচ্ছে। ইসি সূত্র জানায়, ৫ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন থাকবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এতে সহিংসতাকারীদের ঘাড় ঘুরানোর সুযোগ থাকবে না। ভোটে কেউ বাধা দিলে বা ভয়ভীতি, অস্ত্র, শক্তি প্রদর্শন করলে তাৎক্ষণিক দুই থেকে সাত বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হতে পারে। সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এমন নিরাপত্তার কথাও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ২৬ ডিসেম্বর থেকে টহল শুরু করেছে সেনাবাহিনী। থাকবে ৯ জানুযারি পর্যন্ত। এ ছাড়া র‌্যাব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন গতকাল ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এবং বিজিবি ও কোস্টগার্ড কাল ৩ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত থাকবে।

ইসি জানায়, গতকাল ১৪৭ আসনের রিটার্নিং অফিসার, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার/পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে এক চিঠিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সশস্ত্রবাহিনী বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদেরও বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, দেশের ৫৯ জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী মালামাল প্রস্তুত রয়েছে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ