Home / রাজনীতি / অভিযাত্রা আজও অবরোধ শুরু

অভিযাত্রা আজও অবরোধ শুরু

বাধায় প্রথম দিনে ব্যর্থ ১৮ দল : রাজধানী ছিল আওয়ামী লীগের দখলে
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের প্রবল বাধার মুখে গতকাল ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করতে পারেনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতার পাশাপাশি আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর দখলেই ছিল রাজধানী ঢাকা। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া কয়েক দফা চেষ্টা করে বাসা থেকেই বের হতে পারেননি। এ পরিস্থিতিতে ১৮ দল আজও তাদের ঢাকামুখী কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনে সড়ক, রেল ও নৌপথে নতুন করে অবস্থানের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এই ঘোষণা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাকে আটক করে।
এর ফলে জনমনে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা আরও বাড়ল। গতকাল ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের কোথাও দেখা যায়নি। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রাজধানী জুড়ে লাঠিসোটা হাতে সরব উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। দেশের কোথাও ভয়াবহ তেমন নাশকতার ঘটনা না ঘটলেও রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে গুলিতে মারা যান শিবির নেতা মানসুর আহমেদ প্রধানিয়া। আর কমলাপুরে তল্লাশি চালাতে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণে মারা যান রেলকর্মী আবুল কাশেম।
ঢাকা মহানগরীর মোড়ে মোড়ে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন আগন্তুকের দেহ তল্লাশি করে। ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা বের হওয়ার চেষ্টা করলেই তাদের ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে সুপ্রিমকোর্টের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ১৮ দলের সমর্থক আইনজীবীদের ওপর হামলা চালায় সরকার সমর্থকরা। এর আগে তারা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
এদিকে রাজধানীতে লোকচলাচল ছিল কম। নগর পরিবহন ছিল না। ব্যক্তিগত কিছু গাড়ি চলেছে। রাজধানী যথারীতি সারাদেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অনেককেই বলতে শোনা গেছে যে, ১৮ দলীয় জোটের আন্দোলন কিন্তু কর্মসূচি পালন করছে আওয়ামী লীগ। আবার কেউ বিষয়টিকে ‘সরকারি অবরোধ’ বলেও অভিহিত করেন। রাজনৈতিক এই দুরবস্থার শিকার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে।
মাঠের দখল আওয়ামী লীগের : কর্মসূচি বিএনপির কিন্তু মাঠে ছিল আওয়ামী লীগ। বিএনপির কর্মসূচিতে গতকাল সরব হয়েছিলেন কেবল তাদের সমর্থক আইনজীবী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এবং সাংবাদিক। ২৯ ডিসেম্বর দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে পতাকা-লাঠি নিয়ে ঢাকায় আসার আহ্বান জানিয়ে ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু গতকাল দেখা গেছে সকাল থেকে পুরো দিন পতাকা-লাঠি নিয়ে ঢাকার রাজপথ দখলে রেখেছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঠাসা ছিল দলীয় নেতাকর্মীতে। এছাড়াও ঢাকার প্রবেশপথসহ রাজধানীর বিভিন্ন মহল্লার মোড়ে মোড়ে লাঠি হাতে পাহারা বসিয়েছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। মোড়ে মোড়ে মাইক লাগিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচারের সঙ্গে বাজানো হয়েছে দেশাত্মবোধক গান।
সকাল ৯টা থেকে নেতাকর্মীরা আসতে থাকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে।
সকালে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের একটি মিছিল সুপ্রিমকোর্ট থেকে প্রেসক্লাবের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে জলকামান ব্যবহার করে তাদের আদালত চত্বরেই আটকে দেয় পুলিশ। প্রেসক্লাবে বিএনপি-জামায়াত সমর্থক সাংবাদিকদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাংবাদিকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পুরো শহরেই বিরোধী দলের কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ছিল তত্পর। গাবতলী, আমিনবাজার ও কেরানীগঞ্জসহ নগরীর প্রবেশপথগুলোতে ঢাকামুখী যানবাহনে তাদেরও তল্লাশি চালাতে দেখা যায়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মতিঝিলে নটর ডেম কলেজের সামনে লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নেয় ১৫ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনের কয়েকশ’ নেতাকর্মী। বিভিন্ন স্লোগান লেখা ব্যানারও দেখা গেছে অনেকের হাতে। পৌনে ১১টার দিকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যায়। সেখানে সকাল থেকেই অবস্থান নিয়ে মাইকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজানো হচ্ছিল।
যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, সাইনবোর্ড, সাদ্দাম মার্কেট, কাঁচপুর, দোলাইর পাড়, জুরাইন, শনির আখড়া এলাকায় বিএনপিসহ ১৮ দলীয় নেতাকর্মীদের সহিংসতা প্রতিহত করতেই লাঠি হাতে পাহারা বসায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পাহারার নামে অনেককে হয়রানিরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের সামনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হয়রানি করলেও পুলিশ ছিল নিশ্চুপ। এদিকে কোনো গাড়িকেই ঢাকার মুখে আসতে দেওয়া হয়নি। এমনকি খাবার, ওষুধ ও সংবাদপত্রবাহী গাড়িও আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সন্দেহ হলেই মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়। সকাল পৌনে ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে জামায়াত কর্মী সন্দেহে আলী আজম (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ।
বিএনপি অফিসের ভেতরে তালা : গণতন্ত্র উদ্ধারের কর্মসূচি দিলেও গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কোনো নেতাকর্মীর দেখা মেলেনি। এমনকি সন্ধ্যা পর্যন্ত কার্যালয়ের ভেতরেও কেউ ঢোকেনি। কার্যালয়ের ভেতরে ঝুলতে দেখা গেছে তালা। সকালে কিছু নেতাকর্মী জড়ো হলেও ১১টার দিকে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের তিন নেতাকর্মী আটক হওয়ার পর সারাদিনে আর কেউ বিএনপি কার্যালয়মুখী হয়নি।
নয়াপল্টনে ঢোকার সব পথে অবস্থান নেয় পুলিশ। কার্যালয় ও আশপাশের এলাকা ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কার্যালয়ের দিকে যেতে সড়কের দুই প্রান্তে ব্যারিকেডও দেওয়া হয়। বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসেন সাবেক সংসদ সদস্য রওশন আরা ফরিদ, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাদিয়া হক ও জান্নাতুল ফেরদৌস। এ সময় পুলিশ তাদের আটক করে। এ ছাড়া সকাল ১০টার দিকে নাইটিঙ্গেল মোড়ে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করার অভিযোগে আবু তাহের ও ইসমাইল নামে দু’জনকে আটক করে পুলিশ।
মালিবাগে পুলিশের গুলিতে শিবির কর্মী নিহত : জামায়াত-ছাত্রশিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে রাজধানীর মালিবাগে গতকাল মানসুর আহমেদ প্রধানিয়া (২৪) নামে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন। নিহত মানসুর মহানগর উত্তরের শিবির কর্মী বলে দাবি করেছে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আবু সালেহ মো. ইয়াহিয়া।
মানসুরের বন্ধু মনোয়ার হোসেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, মানসুর আশকোনা ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ও বনানীর সিটি ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের একটি মিছিল রামপুরার দিকে যায়। এর ঠিক ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই ককটেল ও হাতবোমার বিস্ফোরণে পুরো মালিবাগ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। মালিবাগ পদ্মা সিনেমা হল সংলগ্ন সোনালী ব্যাংকের গলি থেকে জামায়াত-শিবিরের একটি মিছিল প্রধান সড়কে উঠে আসে। এ সময় তারা টায়ারে আগুন দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে ও বেশ কিছু ককটেল এবং হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশও ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। প্রায় আধ ঘণ্টা সংঘর্ষের পর প্রধান সড়ক থেকে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা সরে যায় এবং বিভিন্ন গলিতে অবস্থান নেয়। এ ঘটনার পরে রামপুরা থানা পুলিশের একটি দল মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার বাজার গলিতে তল্লাশি করতে যায়। এ সময় সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া শিবির কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, সংঘর্ষ থেমে গেলে বাজার গলির একটু ভেতরে শাহী টিএন্ড কোম্পানি দোকানের সামনে মানসুর নামে ওই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্বপন নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। মানসুরের বুকে গভীর ক্ষত ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিত্সকরা জানিয়েছেন।
রামপুরার ওসি কৃপা সিন্ধুবালা বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিন শতাধিক জামায়াত-শিবিরের কর্মী মিছিল করে নয়াপল্টনের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় মিছিল থেকে একের পর এক হাতবোমা ছোড়া হয়। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় মালিবাগ রেলগেট ও আবুল হোটেলের মাঝামাঝি এলাকা থেকে এক যুবককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মানসুরের বড় ভাই মানজুর আশিক হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদরের মুন্সীরহাটে। ঢাকায় মানসুর বিমানবন্দর রোডে থাকতেন। বাবার নাম আবদুর রাজ্জাক।
কমলাপুরে বোমায় নিরাপত্তা কর্মী নিহত : কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে তল্লাশি চালানোর সময় দুই যুবকের ব্যাগে থাকা বোমা বিস্ফোরণে এক নিরাপত্তা কর্মী মারা গেছেন। নিহত নিরাপত্তা কর্মীর নাম আবুল কাশেম (৩০)। তিনি স্টেশন ইয়ার্ডের ১৭ নম্বর বিটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গতকাল বেলা সোয়া ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বোমা বহনকারী দুই যুবক আলম ও আল-আমিনকে আহত অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি আবদুল মজিদ জানান, রোববার বেলা সোয়া ৩টার দিকে আল-আমিন ও আলম একটি ব্যাগে বোমাগুলো বহন করছিল। তারা কমলাপুর রেল স্টেশনের ৩ নম্বর গেট দিয়ে স্টেশনের ভেতরে ঢুকতে চাইলে দায়িত্বরত রেলওয়ের নিরাপত্তা কর্মী আবুল কাশেম ব্যাগটিতে তল্লাশি চালান। এ সময় ব্যাগে থাকা হাতবোমা দুটি বিস্ফোরণ ঘটলে ঘটনাস্থলেই কাশেমের মৃত্যু হয়। কাশেমের পৌরী নম্বর : ৮২২। নিহত আবুল কাশেমের পিতার নাম মৃত আফতাব হোসেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর। তিনি গোপীবাগে স্টাফ ব্যারাকে থাকতেন। স্ত্রী বুলবুলি দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি থাকেন।
ফার্মগেট-কারওয়ান বাজার : বিরোধী দলের ঢাকা অভিযাত্রা কর্মসূচি প্রতিহত করতে গতকাল সকাল ৭টা থেকে রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা ফার্মগেট এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সরকারদলীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেই সঙ্গে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয় র্যাব-পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
এছাড়া কারওয়ান বাজারের ওয়াসা ভবনের সামনে, তিতাস গ্যাস ভবনের সামনে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা।
আবদুল্লাহপুরে ককটেল নিক্ষেপ : গতকাল বিকেল ৩টার দিকে আবদুল্লাহপুর মোড়ে সেনা, র্যাব ও পুলিশ সদস্যদের সামনেই ১৮ দলীয় কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ করে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করেছে। র্যাব-১ এর লে. কমান্ডার সোয়াইব জানান, বিকেল ৩টার দিকে দুটি ছোট ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
উত্তরায় আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল : উত্তরা আজমপুর থেকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণখান ইউপি চেয়ারম্যান ও উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে একটি লাঠি মিছিল বের হয়। এ সময় মিছিলটি হাউস বিল্ডিংয়ের মাস্কট প্লাজার সামনে গেলে মিছিলের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আরও কয়েক কর্মী। সেখান থেকে মিছিলটি আবদুল্লাহপুর এলাকায় সেনা, র্যাব ও পুলিশ সদস্যদের সামনেই রাজপথে বিক্ষোভ করে।
মত্স্য ভবন-কাকরাইল : মত্স্য ভবন-কাকরাইল এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। তারা সন্দেহভাজনদের দেহ তল্লাশি করে ওই এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়। এ সময় অন্তত পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ।
যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ : রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদের প্রবেশপথে সকাল থেকেই পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের কড়াকড়িতে যান চলাচল কার্যত বন্ধই ছিল। গণপরিবহন রাস্তায় চলতেই দেখা যায়নি। ফলে রাস্তায় বের হয়ে সাধারণ মানুষকে পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। আর যারা কাজের প্রয়োজনে রাস্তায় বের হয়েছিলেন, তাদের অনেককেই পুলিশের তল্লাশিতে পড়তে হয়েছে। তবে ওইসব এলাকায় গণতন্ত্রের অভিযাত্রার পক্ষের নেতাকর্মীদের কোনো তত্পরতা লক্ষ্য করা যায়নি। এছাড়া গতকাল সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এ সময় অধিকাংশ বাসের কাউন্টারই বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। এদিকে সকাল থেকেই যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার মোড়ে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা দুটি ট্রাকের ওপর একটি মঞ্চ তৈরি করে রাজপথ দখলে রাখে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ সহযোগী অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের লাঠিসোটা হাতে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
বুড়িগঙ্গার চারটি সেতু বন্ধ : কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, শনিবার রাত থেকেই কেরানীগঞ্জে চারটি সেতু বন্ধ করে দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে বুড়িগঙ্গা পারাপারের সব খেয়াঘাট বন্ধ করে দেওয়ায় রাজধানীতে প্রবেশে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে জনসাধারণকে। রাজধানীগামী হাজার হাজার মানুষ গতকাল ভোর থেকে নিজ নিজ কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হন। রাস্তায় বের হয়ে যানবাহন না পেয়ে তারা হেঁটে রাজধানীতে প্রবেশ করতে চাইলেও পুলিশি বাধার কারণে নিজ গন্তব্যে পৌঁছতে পারেননি কেউই। অনেকে নৌকায় পারাপার হতে চাইলেও পারেননি। বুড়িগঙ্গা নদীতে ট্রলারযোগে টহলরত পুলিশের ভয়ে খেয়াঘাটের কোনো মাঝিই নৌকা নিয়ে বের হতে পারেননি। ফলে কার্যত সবদিক দিয়ে কেরানীগঞ্জের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু, দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু, বছিলা শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু ও হযরতপুর ইটাভাড়া সেতু অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি সেতু এলাকায় কয়েক স্তরে পুলিশ বাহিনী ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা ঘিরে রেখেছে।
এছাড়া সাভার, আশুলিয়া, রূপগঞ্জ ও রাজধানীর সব প্রবেশপথ একই কায়দায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দখলে নিয়ে নেন।
ফের সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা : এদিকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে উপজেলা, জেলা ও মহানগরে ১৮ দলীয় জোটসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ। মেজর হাফিজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার মদদে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা ন্যক্কারজনকভাবে প্রেসক্লাবে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া সরকারের সন্ত্রাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও হাইকোর্টের আইনজীবীদের ওপর হামলা চালায় এবং ভাঙচুর চালানো হয়। এর তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
হাফিজ বলেন, এ সরকারের হাত রক্তে রঞ্জিত। পুলিশের গুলিতে চাঁদপুরের মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক প্রধানিয়ার ছেলে মানসুর প্রধানিয়া গতকাল মালিবাগে নিহত হয়েছেন।
জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে বের হওয়ার পথে তাকে সাদা পোশাকের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ